জাহাঙ্গীর আলম :

প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ও পুলিশের সহযোগিতায় বৃহত্তর উত্তরা জুড়ে চলছে রমরমা জুয়া বাণিজ্য। আবাসিক হোটেল, বিভিন্ন মেস, ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠান ও বহুসংখ্যক আবাসিক বাড়ির ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বসারো হচ্ছে জুয়ার বোর্ড। উত্তরা পশ্চিমথানা, উত্তরা পুর্ব থানা, উত্তরখান, দক্ষিণখান এবং তুরাগ থানা এলাকায় মাসের পর মাস প্রকাশ্যেই জুয়ার রমরমা আসর চললেও পুলিশ থাকছে নিরব দর্শকের ভূমিকায়। জুয়ারিরা খেলতে আসা লোকেদের কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। জুয়া খেলতে গিয়ে অনেক সম্ভাব্য পরিবারের সন্তানেরাও জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার সহ এলাকার মানুষজন। তাদের অভিযোগ পুলিশ জুয়া খেলে, অসামাজিক কর্মকান্ড ও মাদক ব্যবসা বন্ধের পরিবর্তে এসব অপরাধের মদতদাতা হিসেবে কাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উত্তরা ৭ নং, ১১ নং সেক্টরের কল্যাণ সমিতির একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন- ” পুলিশ জঙ্গি দমনের নামে কারণ অকারণে বাসায় বাসায় রাতদিন হানা দিচ্ছে। অথচ এলাকার চিহ্নিত আবাসিক হোটেল ও ফ্ল্যাটে যেসব অসামাজিক কর্মকান্ড হচ্ছে তা দেখেও না দেখার ভান করে পুলিশ। জুয়ার টাকা ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে জুয়াড়ীদের মধ্যে সংঘাত সংঘর্ষ এখন নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। কেউ জুয়া খেলার প্রতিবাদ করলে তাকেই উল্টো নাজেহাল ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এলাকাবাসি অবিলম্বে জুয়া খেলা বন্ধ সহ জুয়ারীদের গ্রেপতারের উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তোক্ষেপ কামনা করছেন।
রাজধানীর উত্তরা অভিজাত এলাকায় ক্যাসিনো নামে বাকার জুয়ার বোর্ড বসিয়ে নেপালী প্রতারক চক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুন্দরী তরুনীদের সহযোগীতায় জুয়ার নামে নানা কায়দায় লুটে নেয়া অর্থ হুন্ডিতে পাচার হচ্ছে নেপালে। অভিযোগে জানা গেছে ঢাকা উত্তর রিক্রিয়েশন ক্লাব লিঃ নামক প্রতিষ্ঠানের (রেজিষ্ট্রেশন নং- সি- ১১২৬৪/১৩) সভাপতি মোঃশহিদুল ইসলাম গত এক বছরের বেশি সময় ধরে নেপালী সহ কয়েকজন বিদেশী নারী পুরুষের সহযোগীতায় এই অবৈধ ক্যাসিনো বানিজ্য চালিয়ে আসছেন।সুত্র জানায় শহিদুল ইসলামের এই অবৈধ বানিজ্যের অন্যতম সহযোগী হিসেবে রয়েছেন অনিম শর্মা (পাসপোর্ট নং-০৮৭০৩৪৬৩), লার্মি চাইন (সিটিজেন নং- নেপাল-৮৬৯০৯-৩৪৬২) এবং জনৈক দিনেশ বল্লাই। এদের আরো কয়েকজন সহযোগী রয়েছে। শহিদের তত্বাবধায়ক দেশি-বিদেশী জুয়ারীদের ভয়ংকর এ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারাই দিন রাত জুয়ার আসর চালাচ্ছে। দক্ষিণখান গাওয়ারাই এর আলম ওরফে ট্যারা আলম ওরফে ব্ল্যাক ডায়মন্ড, আশকোনার সুমন, গাওয়াইরের রকি ও তাদের সহযোগিদের দ্বারা এই ক্যাসিনো জুয়ার বোর্ড, মাদক বানিজ্য, ও দেহ ব্যবসা পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। কামাল নামে একজন তাদের নিয়ন্ত্রন করে থাকে। ক্যাসিনোর এজেন্ট বলে কথিত জনৈক আলমের হাত ধরে বহু বিদেশী নাগরিক প্রতিনিয়ত ঐ ক্যাসিনো বোর্ডে হাজির হচ্ছেন। দেশি- বিদেশী সুন্দরী নারীরাও ঐ জুয়ার আসরের আড়ারে অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে, তারাই নানা কৌশলে ধর্নাঢ্য ব্যাক্তিবর্গের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here