বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

রাজধানীর খিলক্ষেত বাজারে টাঙ্গাইলের প্রসিদ্ধ মিষ্টির নামে প্রতারনা, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
  • ৪ Time View

রবিউল আলম রাজু ঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ বিশেষ মিষ্টির ক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছেন সেখানকার ময়রারা। তাদের নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতায় ঐতিহ্যবাহী হয়ে ওঠেছে সেসব মিষ্টি। এর মধ্যে আছে টাঙ্গাইলের চমচম, নাটোরের কাচাগোল্লা, কুমিল্লার রসমালাই, বরিশাল, বিক্রমপুর ও কলাপাড়ার রসোগোল্লা, বগুড়া (মূলত শেরপুর) গৌরনদীর দই সহ আছে সারাদেশের বিখ্যাত সব মিষ্টির ইতিহাস, পৃথিবীজুড়ে যা সমাদৃত। অনেক দেশের রাজা বাদশাহরা খেয়ে এখনও মনে করে বাংলাদেশের মিষ্টির স্বাদের কথা, কিন্তু প্রত্যেকটি ভালো কাজের পেছনে লেগে থাকে শয়তানী ছায়া, আর এই শয়তানী চিন্তা মাথায় নিয়েই এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে ধ্বংশ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। শুধুমাত্র নাম ব্যবহার করে টাঙ্গাইল মিষ্টিঘর, গৌরনদী ভান্ডার, পোড়াবাড়ীর চমচম, কুমিল্লার মিষ্টি ঘর, বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ইত্যাদি। উপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট, তেমনি একজন টাঙ্গাইল মিষ্টিঘর নাম দিয়ে ব্যবসা করছে রাজধানী খিলক্ষেত বাজার আলী মেম্বার মার্কেট এর দোকানদার রঞ্জিত ঘোষ ওরফে টাঙ্গাইলের বাবু। অনিয়ম আর দূর্নিতির মিষ্টিঘর নাম হলেই তার তৈরী মিষ্টির যথার্ত নাম হত বলে মনে হয়। তার মিষ্টি তৈরীর কারখানা দেখলে মনে হয় সে রিতিমত এই সনামধন্য শিল্পের সাথে নির্মম ভাবে ধর্ষণ করছে। রাতের অন্ধকারে তৈরী হয় মিষ্টি, কেউ জানেনা কি দিয়ে তৈরী হচ্ছে এই চোখ ধাধানো মিষ্টি? আদৌ বি এস টি আই এর অনুমোদন আছে কিনা? সরকারী টিন সার্টিফিকেট আছে কিনা? সরকার ভ্যাট পাচ্ছে কিনা? ব্যবসায়ী গ্যাসের মিটার আছে কিনা? বানিজ্যিক বিদ্যুৎ লাইন আছে কিনা? দুধ আসে কোথা থেকে? পরিবেশ অধিদপ্তর এর ছাড়পত্র আছে কিনা? এমন সব প্রশ্নের জবাবে মিষ্টির দোকানদার রঞ্জিত ঘোষ ওরফে টাঙ্গাইলের বাবু জানায়, “এসব আমার লাগে না, আওয়ামী লীগ এর নেতা আছে, যুবরাজ আমার ভাই, তার নাম্বার নেন ০১৮৪১৭১০০১৭, তাকে ফোন দেন” পরে তাকে ফোন দিলে যুবরাজ মুঠোফোনে বলেন “আপনারা তো সাংবাদিক না, আমি একাত্তর টিভি’র সাংবাদিক” পরবর্তীতে একাত্তর টিভিতে ফোন দিলে তারা জানায় খিলক্ষেতে এই নামে আমাদের কোন প্রতিনিধি নেই। অথচ সরেজমিনে গিয়ে সাংবাদিকরা দেখতে পেল, কারখানার পরিবেশ নোংরা, মাছি ভন ভন করছে, বিএসটিআই থেকে বলা হয়েছে যে প্রতিটি বেকারী ও মিষ্টির কারখানা অবশ্যই পরিষ্কার এবং টাইলস্ করা থাকতে হবে এবং তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে টাইলস্ তো দূরের কথা যে কোন ভাল মানুষ ভেতরে প্রবেশ করলে পরিবেশ দেখেই তার বমি হওয়ার উপক্রম ঘটবে। সব কিছু দেখেই বোঝা যায় কেমন মানের মিষ্টি এখানে তৈরী হয়। আর এসব মিষ্টি পাঠানো হচ্ছে বড় বড় মিষ্টির দোকানে। আর ক্রেতারা প্রতিনিয়তই প্রতারনার শিকার হচ্ছে। ভারতের আনন্দ বাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয় “বাংলাদেশের মিষ্টিতে ক্যান্সার হওয়ার মত সংমিশ্রনের দ্রব্য পাওয়ার কথা” বাংলাদেশের মিষ্টি তৈরীতে বিষাক্ত ঘন চিনি, হুবহু চিনির মত দেখতে ঘন চিনি বা সোডিয়াম সাইক্লামেট। নামকরা দোকানের মিষ্টি, সন্দেশ, রসোগোল্লা, দই, আইসক্রীম, কেকসহ রসনাতৃপ্তির নানা উপকরনে সহজে ও কম খরচে মিষ্টির স্বাদ আনতে এখন বাংলাদেশে বিষাক্ত যৌগ সোডিয়াম সাইক্লামেট মেসানো হচ্ছে। আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে যখন এত মেশানো হয় ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার। এই ভেজাল দিয়ে তৈরী হচ্ছে সুস্বাদু ফুড কেক, কনডেন্সড মিল্ক, আইসক্রিম, মিষ্টি, সন্দেশ, রসোগোল্লা, মিষ্টি, দই ইত্যাদি খেয়ে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারন ক্রেতারা। এই প্রবনতা ভয়াবহ হয়ে উঠছে দিন দিন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এই সাইটের কোন লেখা কপি পেস্ট করা আইনত দন্ডনীয়

Headlines