স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজধানীর মিরপুরের ১০নং আইডিয়াল স্কুলের পার্শ্ববর্তী জিমের গলি এলাকায় বাশার তালুকদার রনি (২১) নামে এক ফুটপাতে কাপড়ের ব্যাবসায়ীকে ফিল্মি স্টাইলে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায় গত ২৯ আগস্ট সোমবার রাত আনুমানিক ১০-৩০ থেকে ১১টার সময় বাসার তালুকদার রনি (২১) সাহাদাত ও দুলাল তিনজন জিমের গলিতে জালালের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলো, এমন সময় ১০/১২ টি হোন্ডা ও একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেট কার করে ফিল্মি স্টাইলে সাদ্দাম বাহিনীর প্রধান সাদ্দাম, শহিদ,মোক্তার, জাপান, বাপ্পি সহ ১৫-২০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী এসে প্রথমে দুলাল কে চড় থাপ্পড় মারা শুরু করলে দুলাল দৌড়ে পালিয়ে যায়।

পরে বাসার তালুকদার রনি কে এলো পাতাড়ি মারধর শুরু করে এবং বলে তুই বড় ভাই (টিংকু ভাই) এর নামে কোথায় অভিযোগ করেছিস এই বলে সকলে মিলে চড় থাপ্পড় লাথি কিল ঘুষি মারতে থাকে এক পর্যায়ে সাদ্দাম তার কমরে থাকা পিস্তল বের করে পিস্তলের বাট দিয়ে রনির বুকে আঘাত করলে রনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ওখান থেকে রনিকে ১৩ নং সেকশনের ১নং বিল্ডিং এলাকায় একটি রিকশার গ্যারেজে নিয়ে যায়, সেখানে রনির জ্ঞান ফিরলে চোখ বেধে আবার মারধোর করে সেখান থেকে রনিকে আবার আইডিয়ালের চটপটি গলিতে নিয়ে যায় সেখানেও মারধর করে, পুনরায় রনিকে ১নং বিল্ডিং এলাকায় নিয়ে যায় সেখানে নিয়ে আবার মারধোর করে। ওখান থেকে বাপ্পি ও মুক্তার হোন্ডা দিয়ে রনি এদিক ওদিক ঘুরিয়ে ফকির বাড়ির বাজারের গলিতে নিয়ে আবার মারধোর করে সেখানে চায়ের দোকানদার মাসুম ও মাসুমের পিতা রনিকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করতে এসে ব্যার্থ হয়।

সেখান থেকে রনিকে নিয়ে ১০ নং গোলচক্করের পাশে ভাঙা মার্কেটের ২য় তলায় নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখে এবং কিছুক্ষণ পর পর মারধর করতে থাকে রনির অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে, সন্ত্রাসীরা রনিকে পার্শ্ববর্তী আজমল হাসপাতালে নিয়ে যায় সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আবার তাকে ভাঙা মার্কেটের ওই কক্ষে আটকে রাখে। দু’দিন আটকে রাখে এবং রনির পকেটে থাকা বিশ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়।

৩১ আগস্ট রনি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যেয়ে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় পরবর্তীতে সেলিনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। সামান্য সুস্থ হলে রনি পুলিশ সহায়তার জন্য মিরপুর মডেল থানার সামনে গেলে সাদ্দাম বাহিনীর সন্ত্রাসীদের কয়েক জনকে থানার সামনে দেখতে পেয়ে রনি ওখান থেকে ফিরে আসে।

পরবর্তীতে সাংবাদিকের সহায়তায় থানায় গেলে মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের সহায়তায় গত ৮- সেপ্টেম্বর সাদ্দাম সহ ১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা আমলে নেয় মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। যাহার ( নং২৫ ৮/৯/২০২২)‌। মামলার খবর জানতে পেরে সাদ্দাম কোট থেকে আগাম জামিন নিয়ে এসে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাদ্দামকে ধরার জন্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করছে । রনির দাবি সাদ্দাম ও তার সন্ত্রাসীদের সাথে তার কোন বিরোধ বা শত্রুতা নাই, তারপরও তারা রনিকে মেরে ফেলতে চায়। আমার জীবন হুমকির মুখে, যেকোন সময় সাদ্দাম বাহিনীর সন্ত্রাসীরা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার জীবনে নিরাপত্তা চাই।

কে এই সাদ্দাম বাহিনীর প্রধান সাদ্দাম?
নাম মোঃ সাদ্দাম হোসেন পিতা আমির আলি ঠিকানা বাসা ১৭-১৮, রোড ৩, ব্লক- বি, মিরপুর ১০ ঢাকা ১২১৬। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান সাদ্দামের বড় বোন জামাই মোহাম্মদ আলী ১০ নম্বরের আইডিয়াল এর গলি জিমের গলি সহ ভাঙ্গা মার্কেটের সামনে মেইন রোডের ফুটপাতের চাঁদাবাজি সহ সমস্ত সন্ত্রাসী কার্যকলাপের রাজত্ব কায়েম করে । এক সময় মোহাম্মদ আলী র‍্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হলে উত্তরাধিকার সূত্রে তার শ্যালক সাদ্দাম মোহাম্মদ আলী বাহিনীর প্রধান বনে যায় এবং ওই সমস্ত এলাকার চাঁদাবাজি তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় ।

দিনে দিনে সে আরো শক্তিশালী একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে বর্তমানে সেই বাহিনী এতই শক্তিশালী যে সাদ্দামের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাকে তুলে নিয়ে মারধর এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। বর্তমানে গোলচক্কর এলাকায় ফুটপাতে ব্যবসা করে সাদ্দামকে চাঁদা না দিয়ে কাহারো বাঁচার উপায় নাই।

ফুটপাত ছাড়াও সাদ্দাম দশ নম্বর এলাকার আবাসিক হোটেল সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করে থাকে। সাদ্দামের চাঁদাবাজিতে এলাকার ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। জানিনা কার ইশারায় কোন শক্তি বলে সাদ্দাম প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এসব চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি এখনই সাদ্দামের মতো সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তীতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা সহ প্রাণ নাশের আশঙ্কা রয়েছে।

মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন ঘটনার সত্যতা মিললে এ ব্যাপারে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here