Amar Praner Bangladesh

রাজনীতি এখন মানব সেবা নয় বিশাল এক ব্যবসার বিচরণক্ষেত্র

 

 

(রাজনৈতিক নেতাদেরকে জেলের মধ্যেও রাজবন্দী হিসেবে বিবেচনা করে সম্মান দেখানো হতো। রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সেই সোনালী সময় পেরিয়ে এখন আমরা এক আজব সময় পার করছি। যেহেতু মানুষ মাপার যন্ত্র নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত তার অপরাধ কিংবা তার মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা গোপন কথাটি উন্মোচিত না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা বুঝতে পারিনা লোকটি কত বড় মীরজাফর। রাজনীতি এখন মানবসেবা নয় বিশাল এক ব্যবসার বিচরণক্ষেত্র। জ্ঞানীরা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় মূর্খদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে রাজনীতিতে।)

 

 

শের ই গুল :

 

রাজনীতি বা রাষ্ট্রনীতি বা রাজগতি বা রাজবুদ্ধি হলো হল দলীয় বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ক্ষমতা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিষয়ক কর্মকাণ্ডের সমষ্টি, উদাহরণস্বরুপ সম্পদের বণ্টন হল এমন একটি কর্মকাণ্ড।

রাজনীতি এ্যাকাডেমিক অধ্যয়নকে রাজনীতিবিজ্ঞান বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কাজ হলো রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করা। একটি সময় শিক্ষিত এবং জ্ঞানীরা রাজনীতি করতেন, দেশের সেবা করতেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনীতির মধ্যে স্বার্থ হাসিলকারী ব্যবসায়ী এবং অরাজনৈতিক অনুপ্রবেশকারীদের আগমনে রাজনীতির মধ্যে এখন অনেক অংশেই মূর্খরা রাজত্ব করছে। দিনকে দিন শিক্ষিত জ্ঞানী লোকেরা রাজনীতি থেকে ফিরিয়ে নিচ্ছে তাদের মুখ।

কি হবে রাজনীতি করে! রাজনীতি করে আর লাভটাই কি! কোন লাভ তো নেই! এক সময় মানুষ নিজের আভিজাত্য আর যোগ্যতা দিয়ে রাজনীতি করতো। মানবতাবাদী বিবেকবান যোগ্য মানুষেরা দেশ ও দশের সেবা করতো রাজনৈতিক পদ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে। এটাকেই তারা নিজের বড় লাভ ভাবতো! কিন্তু রাজনীতি তো এখন আর মানব সেবার মাধ্যম নয়! রাজনীতি এখন অনেকেরই ব্যবসা মানে জীবন নির্বাহ করার বা বেঁচে থাকার একটি সহজ পেশায় পরিনত হয়েছে। তাইতো রাস্তার বখাটে বা পাড়ার চাঁদাবাজ মাস্তান অথবা চৌকিদারের আইএ পাশ পোলা কিংবা ঘুষখোর চাকুরীজীবি নতুবা অবৈধ চোরাকারবারি ব্যবসায়ীরাই এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাজনীতির ময়দানে। তাই তো রাজনৈতিক নেতৃত্ব আর আজকের দিনে রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করে না! রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রন করছে একদল উজবুক! একটি দেশে একজন মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা একাইবা আর কতটুকু করতে পারেন! উনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন। উনি তো আর রোবট নন; একজন রক্ত মাংসের মানুষ। এছাড়াও উনার উপর ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টের ভয়াবহ নির্মম গ্রেনেড হামলা সহ ১৯টি বার আক্রমণ করা হয়েছে তাকে নিশ্চিহ্ন করতে। পরম করুনাময় স্রষ্টার আনুকুল্যে এখনো তিনি আমাদের মাঝে জীবন্ত আছেন কিংবদন্তি হয়ে।

অন্যদিকে বরিশালের সাম্প্রতিক কালের ঘটনা থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কি কোন শিক্ষা হয়েছে! মনে হয় না! রাষ্ট্রিয় প্রটোকলে একজন নগন্য ওসি এবং সামান্য একজন টিএনও বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগ পরিবারের মত বৃহৎ সংগঠন এবং এর নেতৃত্বকে এতটা সহজে নাস্তানাবুদ করলো কিভাবে! হতাশা আর কাকে বলে! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোদ্ধা এবং উঁনার পরম নিকটাত্মীয় শহীদ (প্রয়াত) সেরনিয়াবাত সাহেবের নাতি এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও বরিশাল সিটির সফল মেয়রকে একটি মামুলি মামলার আসামী করা হলো। তাও আবার দেশে যখন আওয়ামী লীগের সরকার বিদ্যমান।

যত সব তাজ্জব ব্যাপার মনে হচ্ছে। আসলে আওয়ামীলীগ নামের রাজনৈতিক সংগঠনটি আর আগের মতো সংগঠিত, মজবুত ও শক্তিশালী অবস্থানে নেই। তাহলে দেশের অন্য কোন রাজনৈতিক দল তো আর ধাঁচেই আসে না। সরকার এবং প্রশাসনে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের চেয়েও বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দাপট ও প্রভাব অনেক বেশী বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এর জন্যও দায়ী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এখন আর আগের মত পোড়-খাওয়া বিস্বস্থ ত্যাগী বা নিবেদিত রাজনৈতিক কর্মিদেরকে নেতৃত্বে বা নির্বাহী পদ-পদবীতে আসীন করা হয় না। বরং তোষামুদকারী চামচা-চামুন্ডা, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী অবসর প্রাপ্ত সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং অবৈধ অর্থশালী ক্লাববাজ চোরাকারবারি ব্যবসায়ী নপুংসক শ্রেনীর লোকদের নেতৃত্বে আসীন করা হয় বিভিন্ন রকমের সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে। সেটি হোক না মন্ত্রীত্বে বা সংসদে বা সংগঠনে, এমন কি যে কোন রকম চুক্তিমুলক নিয়োগের বেলায়ও। তাই এখন রাজনৈতিক নেতৃত্বে কোন মুল্যায়ন নেই।

কেননা তারা নিজের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মেরেছে। তাইতো উপরোল্লিখিত শ্রেনীর লোকেরা যে কেউ এখন ইচ্ছা করলে যে কোন পর্যায়ে পদ – পদবীতে আসীন হয়ে যেতে পারে। যার প্রমান বিগত বছরগুলোতে ভুঁড়ি ভুঁড়ি দেখা গেছে শাহেদ পাপিয়া গংদের কল্যানে। অথচ আমাদের দেশেই এমন একদিন ছিল, যখন রাজনৈতিক নেতাদেরকে জেলের মধ্যেও রাজবন্দী হিসেবে বিবেচনা করে সম্মান দেখানো হতো। তখন সকল শ্রেনী পেশার মানুষ একজন রাজনৈতিক নেতাকে হ্নদয় দিয়ে ভালোবাসত এবং সম্মান করতো। রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সেই সোনালী সময় পেরিয়ে এখন আমরা এক আজব সময় পার করছি।

কেননা এখন যারা নেতা বানায় বা যারা নেতা হয়; তাদের সবাই প্রায় নৈতিকতার দিক থেকে নিচুস্তরের আদমি। যাদের কারো কাছেই দেশ, সমাজ বা মানুষ; কারো কোন মুল্য নেই, শুধু তাদের নিজেদের স্বার্থচিন্তা ছাড়া। তাই তাদের কাছে কিছু আশা করাটাও নেহাৎ এক রকমের বোকামি বৈ কিছুই নয়। সুতরাং মানুষিক ভাবে সুস্থতা এবং যোগ্যতা সম্পন্ন ও বিবেকবান মানুষেরা আগামী দিনে আর রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়াবেন বলে মনে হয় না। তাই সময় হয়েছে আমূল পরিবর্তনের, নতুবা ধ্বংস অনিবার্য। বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বাংলা ও বাঙ্গালির স্বপ্ন-পুরুষ, হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শকে সত্যিকার অর্থেই বুকে ধারণ করে, এর সঠিক চর্চা ও লালন পূর্বক চলমান ধ্বংসের অনিবার্য প্রক্রিয়াটিকে অবশ্যই আটকাতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভালবাসি, এই কথাটিকে পুঁজি করে প্রতিনিয়ত সুন্দর অভিনয় করে যাচ্ছে অনেক নেতারা।

সম্প্রতি মেয়রের বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কঠাক্ষপূর্ণ কথা এরকম রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় প্রমাণ বহন করে। বিগত দিনে তার মতো অনেকেই মনের অন্তরালে রাখা অভিনয়ের ফুলঝুড়ি প্রকাশ করেছে অজান্তে। যেহেতু মানুষ মাপার যন্ত্র নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত তার অপরাধ কিংবা তার মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা গোপন কথাটি উন্মোচিত না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা বুঝতে পারিনা লোকটি কত বড় মীরজাফর। এ বিষয় নিয়ে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশের সাথে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনীতি করার জন্য একটি নির্দিষ্ট যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া না হবে, সর্বক্ষেত্রে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হতে হবে প্রথম শ্রেণির আদর্শের অধিকারী, সকল গুণাবলিতে যিনি হবেন সমৃদ্ধ। তিনি পাবেন রাজনীতি করার অর্থাৎ জনগণের প্রতিনিধি হওয়ার এবং দেশ গড়ার অতন্ত্র প্রহরী। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুস্থ সবল থাকাবস্থায় তার রাজনৈতিক মেয়াদ থাকতে হবে।

তিনি থাকবেন সকল প্রকার জবাব দিহিতার মধ্যে। তার সকল কাজ থাকবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। জনগণ জানবে তার প্রতিটি পদক্ষেপের কথা। কোন দূর্নীতি কিংবা মিথ্যা যেকোন কিছু তাকে স্পর্শ করবেনা। সর্বপরি একটি কঠিন আইন প্রয়োগের মধ্য দিয়ে রাজনীতি করার অনুমতি প্রয়োজন। তবেই প্রকৃত রাজনীতিবিদরা হয়ে উঠবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উজ্জ্বল আদর্শ।