‘রাজার হালে’ আছেন খালেদা জিয়া: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পৃথিবীর কোনো কারাগারে কেউ কাজের বুয়া পায় না। খালেদা জিয়ার সুবিধার কথা ভেবে আমরা তা করেছি। কারাগারে রাজার হালে আছেন তিনি। নিয়মিত সুবিধার বাইরেও সুবিধা ভোগ করছেন।’

৪ ডিসেম্বর, বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে জাতীয় কমিটির সভায় দলের নেতাদের বক্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার শরীরে ব্যথা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ব্যথার সমস্যা পুরনো। আগেও তাকে মাঝে মধ্যে হুইল চেয়ারে বসতে হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও শুনিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামির জন্য কাজের বুয়া থাকে। মানুষ এমনি কাজের বুয়া পায় না, আর খালেদা জিয়ার জন্য জেলে স্বেচ্ছায় একজন কারাবরণ করছেন, তার সেবা করার জন্য। এই বাড়তি সুবিধা পর্যন্ত তাকে দেয়া হচ্ছে। সরকারের মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা থাকলে তিনি এই সুবিধা পেতেন না।

জিয়া পরিবারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান খুনি, তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও খুনি। আর তার ছেলে আরেকটা খুনি। এরা খুনির পরিবার। সন্ত্রাস-দুর্নীতি আর মানুষ খুন করা ছাড়া এরা আর কিছুই বোঝে না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি অনেক কথাই বলে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ২০০৮ এর নির্বাচনে তারা মাত্র ২৯টি সিট পেয়েছিল। আর এবারের নির্বাচনে তারা জিততে পারবে না জেনেই মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে।

তিনি বলেন, একটি আসনের জন্য তিনজন করে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আর এই মনোনয়নের জন্য প্রার্থীদের তিন জায়গায় টাকার ভাগ দিতে হয়েছে। এক ভাগ দিতে হয়েছে লন্ডনে আর দুই ভাগ দিতে হয়েছে বাংলাদেশে। একজনকে লন্ডন ছাড়াও গুলশান আর নয়াপল্টন অফিসে ভাগ দিতে হয়েছে। যিনি দিতে পারেননি- তিনি মনোনয়ন পাননি। এমনও হয়েছে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, পরে আরেকজন বেশি টাকা দেওয়ায় তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি ও আন্তর্জাতিকভাবে করা জরিপগুলোতে বিএনপি দেখেছে, তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই তারা নির্বাচনকে বাণিজ্য হিসেবে নেয়। তারপরও তাদের যে সাতজন নির্বাচিত হয়েছেন, তারা সংসদেও গেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং পরবর্তী সামরিক স্বৈরশাসকদের দুঃশাসন ও অত্যাচার-নির্যাতনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি শক্তি এদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়নি। তাই স্বাধীনতার পর দেশটা যখন এগিয়ে যাচ্ছিল- তখনই ১৫ আগষ্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানো হলো। ১৫ আগষ্টের হত্যাকাণ্ডে যে জিয়াউর রহমান একেবারেই জড়িত- সেটা তো খুনি ফারুক-রশিদের স্বীকারোক্তিতেই স্পষ্ট।

খালেদা জিয়া আগেও নিয়মিত হুইল চেয়ার ব্যবহার করতেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ব্যথার সমস্যা পুরনো। আগেও তাকে মাঝে-মধ্যে হুইল চেয়ারে বসতে হয়েছে। বরং খালেদা জিয়া কারাগারে রাজার হালে আছেন।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, “এ দেশে ‘সন্ত্রাসের গডমাদার’ হচ্ছেন খালেদা জিয়া। বাংলাভাই সৃষ্টি থেকে শুরু করে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা, হরতাল-অবরোধ ডেকে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, এতিমের টাকা চুরি করা— হেন কোনো অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৩ বছর পর দলের এই ফোরামটির সভা অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে, ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।