রাণীশংকৈলে দীর্ঘ ৭০ বছরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ- ১৫০ টি পরিবার পুনর্বাসিত

হুমায়ুন-কবির,রাণীশংকৈল,(ঠাকুরগাঁও)  প্রতিনিধিঃ 
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ঐতিহাসিক নেকমরদ বাজারের দীর্ঘ প্রায় ৭০ বছরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমের নেতৃত্বে আছেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সোহাগ চন্দ্র সাহা। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনার আলোকে গত ৪ এপ্রিল ও ৯ মে ৪ দফায় সংশ্লিষ্ট অবৈধ বসবাসকারি ব্যক্তিদের কাছে নোটিশ পাঠানো এবং মাইকিং করা হলেও কিন্তু তাতে কোন কাজ না হওয়ায়, গত ১০ জুন থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয় যা এখনও চলমান আছে।
এ্যাসিল্যান্ড থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত তোহা বাজারের ২.২০ একর, চান্দিনাভিটের ৪০ শতাংশ, বাগানবাড়ির ১.৯৩ শতাংশ মোট ৪ একর ৫৩ শতাংশ সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত : এ উচ্ছেদ অভিযানে নেকমরদ বাজারে ও বাগান বাড়িতে নোটিশ বিলি করতে গিয়ে অবৈধ দখলদারদের হাতে ভূমি অফিসের লোকজনকে লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে পরে তা নিরসন করা হয়।
ইতোমধ্যে বাগানবাড়ি ও বাজারে উচ্ছেদকৃত ১৫০টি পরিবারকে বালিয়াপুকুর ও মহিষডুবা পুকুরপাড়ে পূণর্বাসিত করা হয়, যাদের প্রত্যেককে ২বান্ডিল করে ঢেউটিন ও ৬ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয়। সেই সাথে সেখানে মুসল্লিদের নামাজের জন্য একটি বায়তুল মামুর নামে মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে এবং বেশ কয়েকটি টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে।
এ উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সাবেক সংসদ সদস্য সেলিনা জাহান লিটা ও নেকমরদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, সরকারি স্বার্থে এ উচ্ছেদ অভিযান প্রশংসনীয় তবে উচ্ছেদকৃতদের পূণর্বাসন পরবর্তী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম ও ইউএনও মৌসুমি আফরিদা বলেন, সরকারের অবৈধ অভিযানের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম চলছে এবং উচ্ছেদকৃতদের পূণর্বাসনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তোহাবাজার ও চান্দিনা ভিটের উচ্ছেদকৃত জায়গায় প্রকৃত দোকানদারদের একটি করে দোকান ঘর বরাদ্দের  কাজ চলছে। এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এ উচ্ছেদ অভিযানে এলাকার সাধারন মানুষ, প্রশাসন ও সরকারের প্রতি অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।