শওকত আলী মন্ডল, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :

 

ম্যাজিষ্ট্রেট ও ইউএনও সেজে দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ে প্রতারণার অভিযোগে একজনকে হাতে নাতে আটক করেছে জনতা। আটককৃত ব্যক্তি রৌমারী উপজেলার অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল হাই। গত বুধবার রৌমারী উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে তাকে আটক করে জনতা।

জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলা ম্যাজিষ্ট্রেড ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেজে রৌমারী থানা মোড় বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার ও উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডারে বছরের শুরুর দিকে দুই দোকানে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এমন ভাবে মাঝে মধ্যে দোকানে গিয়ে টাকা আদায় করার চেষ্টাও চালিয়ে যেতো। গত বুধবার রাত আনুমানিক ৮ টার সময় থানা মোড় ও উপজেলা পরিষদের সামনে মিষ্টান্ন ভান্ডারে মালিক পক্ষের কাছে আগের ন্যায় টাকা নিতে যায় দোকানে। দোকানদার আদর যত্নে মিষ্টি খেতে দিয়ে মিন্টু মিয়া লোকজন ডেকে নিয়ে আসে দোকানে।

সবার সামনে প্রতারক আব্দুল হাইকে এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিসের টাকা নেয়া হয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, অবৈধ ভাবে দোকানে ব্যবসা করছেন। বৈধ কাগজ পাতি করার লক্ষে জেলা মেজিষ্ট্রেট আমাকে চাপ দিয়েছে। কাগজ পাতি করার জন্য এ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। উপস্থিত লোকজন কোন ম্যাজিষ্ট্রেট এ অর্থ নেয় তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে পাশ কাটিয়ে যান। পরে তাকে অর্থ আদায়ে প্রতারণার দায়ে আটক রাখে উপস্থিত জনতা। অন্যদিকে অভিযোগে আরোও জানা যায়, এ প্রতারক অন্যান্য হোটেল মালিকদের কাছেও এ ভাবে অর্থ আদায় করেছেন।

জনতার হাত থেকে রক্ষা করার লক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান রবিন প্রতারনায় দোকানদারের অর্থ ফিরিয়ে দিতে জিম্মায় নিয়ে ছেড়ে দেন প্রতারককে।

আটককৃত প্রতারক আব্দুল হাই রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসাবে পদায়নরত রয়েছেন।

থানা মোড় বিক্রমপুর মিষ্টি ব্যবসায়ী মিন্টু ও উপজেলা পরিষদের সামনে ভাগ্যকুল মিষ্টি ব্যবসায়ী সুজন মিয়া বলেন, চলতি বছরের প্রথম দিকে আব্দুল হাই কখনো উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবার কখনো জেলা ম্যাজিষ্ট্রেড সেজে দোকান অবৈধ ভাবে ব্যবসা করা হচ্ছে ভ্রাম্যমান আদালত দেয়া হবে। আমাকে যদি ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়, তবে তোমাদের দোকানে ভ্রাম্যমান দেয়া হবে না। অন্যান্য দোকানে ভ্রাম্যমান দেয়া হবে। এমন বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। পরে উপায়ন্তর না পেয়ে টাকা নিতে আসতে বললে, তিনি বলেন, ঘুষের টাকা সরাসরি নেয়া হয় না। বিকাশের মাধ্যমে টাকা চাইলে তৎক্ষনাত ৩৫ হাজার করে দুই দোকানে ৭০ হাজার টাকা ০১৯৩৩২১২১২০ নগদ ক্যাশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। গত বুধবার রাতে আবারো এমন ঘটনা ঘটানোর সময় টের পেয়ে তাকে জনতার হাতে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় মেম্বার রবিউল ইসলাম ও নেতা রবিন ভাই তাকে টাকা পরিশোধ করে দেয়ার কথা বলে জিম্মায় নিয়ে ছেড়ে দেন।

মেম্বার রবিউল ইসলাম বলেন, সবকিছু জানাজানির পর ভূল শিকার করে মাফসাফ চেয়ে ২ দিনের মধ্যে তাদের দেয়া টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল হাইকে এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোনটি ঘটনার পর থেকেই বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার কর্মস্থলেও দেখা যায় না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুবণ আখতারকে এ বিষয়ে বারবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করলে পাওয়া যায়নি।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here