শওকত আলী মন্ডল, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও ইউএনও সেজে দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জনতার হাতে আটক একজন। অভিযুক্ত আটককৃত ব্যক্তি রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের অফিস সহকারি কাম-কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে।

গত ৫ অক্টোবর বুধবার উপজেলা সংলগ্ন ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডার নামের এক দোকানে তাকে আটকের ঘটনা ঘটে। পরে দোকানের মালিকের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে অর্থ হাতিয়ে নেয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য জিম্মায় ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার ৮দিন পার হলেও অভিযুক্ত অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় উপজেলা সচেতন মহলের মাঝে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও ইউএনও সেজে দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনার শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে পরে। পরে জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসন রৌমারীকে বিষয়টি দেখার জন্য নির্দেশনা দেয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১২ অক্টোবর বুধবার রৌমারী থানা পুলিশ সহকারি পরিদর্শক (এসআই) আনছার আলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডার ও বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারের দোকানের মালিকের সাথেও কথা বলে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।

এ বিষয়ে ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডার দোকানের মালিক সুজনকে থানা পক্ষ থেকে তদন্তের বিষয়ে অভিযোগ দেয়ার কথা বললে তিনি বলেন, আমরা বিচার পেয়েছি তার বিরুদ্ধে আর কোনো কিছু করার দরকার নাই।

অভিযুক্ত অফিস সহকারি কাম-কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল হাইয়ের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পন্ন মিথ্যা। এই প্রতারণায় আমি পড়েছি। তবে কি ভাবে কি করা যায় পরামর্শ দেন এবং আমাকে বাঁচান।

এসআই আনছার আলীকে তদন্তের বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও ইউএনও সেজে দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আমাকে দেখতে বলেন। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলাম। তবে স্যার বিষয়টি নিয়ে তেমন গুরুত্ববহ নয়। ডিসি স্যারের সাথে কথা বলে জানা যাবে কি করা যায়।

তদন্ত ওসি, দায়িত্বরত অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ বলেন, ম্যাজিষ্ট্রেট সেজে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর এসপি স্যারের সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি দেখতে বলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সরাসরি এবং মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কুড়িগ্রাম, রৌমারী ভুমি অফিসসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শনে থাকার কারণে কথা বলতে পারে নি।

উল্লেখ্য যে, আব্দুল হাই রাজিবপুর উপজেলা অফিস সহকারী পদে দায়িত্বে থাকা কালিন সময় উপজেলা পরিষদের আওতায় থাকা বিভিন্ন দোকানের ভাড়া উত্তোলন করে অফিসে জমা না দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানেও কিছু অর্থ পরিশোধ করে মাফসাফ নিয়ে রৌমারী বদলী হয়ে আসেন।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here