বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

শিক্ষকই মানুষকে দক্ষ মানব শক্তিতে রুপান্তর করে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩ Time View

 

 

আ: রশিদ তালুকদার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

 

ভারই দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় । টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ। ঐতিহ্য মন্ডিত বিদ্যালয়টি অত্র এলাকার বিদ্যানুরাগীদের সার্বিক সহযোগীতায় উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম প্রিন্সিপাল প্রখ্যাত সাহিত্যিক ইবরাহীম খাঁ প্রতিষ্ঠা করেন । নিভূত পল্লীঅঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয় থেকে পাশ করে অনেক ছাএ /ছাএী দেশ ও সমাজে কৃতিত্ব পূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন । শিক্ষা বিস্তারে বিদ্যালয়টির অবদান বর্তমানে ঈষণীয় পর্যায়ে অবস্থান করেছে।

অর্ধ শতবর্ষী এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১ জানুয়ারী ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে। প্রথমে ভারই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যক্রম শুরু হয় । ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নিজস্ব জমির উপর পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ২ একর ৩১শতাংশ ভূমির উপর দাড়িয়ে আছে । বিদ্যালয়টিতে রয়েছে আছে ৪টি একাডেমিক ভবন , ১টি নামাজ ঘর , ১টি শহীদ মিনার , ১টি সুবিশাল খেলার মাঠ ও ১টি পুকুর ।চারদিকে সীমানা প্রাচীর বিদ্যালয়টি চারপাশ ও আঙ্গিনা ফলজ ,বনজ ও শোভাবর্ধন ৫শ বৃক্ষ সুসজ্জিত করে রেখেছে। প্রকৃতির নানা রুপে সজ্জিত বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৫৯৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম । যিনি সাফল্যের সোনালী দরজা খুলে ধাপে ধাপে অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন । শিক্ষা প্রসারে তার অঙ্গিকার পূরণের চেষ্টা করছেন । এ প্রজন্মের সাফল্য জয়ী শিক্ষকদের মধ্যে কামরুল ইসলাম তালুকদার কিছুটা ব্যতিক্রম । তিনি শেকড়ের প্রতি বরাবরই শ্রদ্ধাশীল । ”মানুষ মানুষের জন্যে ” এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে তিনি তার জীবনকে পরিচালিত করতে চান । সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন । মানুষের মঙ্গলে সে কাজ করতে চান অগ্রণী সেনানী হিসেবে।

অতীত কিংবা পূর্ব পুরুষের পরিচয় কতোটা সমৃদ্ধ সে বিষয়টি সামনে না এনে বরং অতীতকে নিয়েই গর্ব করতে ভালোবাসেন কেউ কেউ। কামরুল ইসলাম তালুকদার তাদেরই একজন । তিনি তার পূর্ব পুরুষের পরিচয় নিয়ে স্বস্তিবোধ করেন। এই শেকড় সন্ধানী ব্যক্তিত্বের জন্ম ২০ ডিসেম্বর ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে। তার পৈত্রিক নিবাস টাঙ্গাইল জেলার,ভূঞাপুর উপজেলার, ভারই গ্রামে। পিতামৃত.নজরুল ইসলাম তালুকদার । মাতা মৃত. কমলা বেগম । স্ত্রী রহিমা খাতুন (শিক্ষিকা)। ১ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক। মেয়ে মার্জিয়া ইসলাম তুবা (১১), ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে। ছেলে তানজিমুল ইসলাম তালহা (৭) । এম.কম. ও বি.এড. ডিগ্রী অর্জনকারী কামরুল ইসলাম তালুকদার শিক্ষা অনুরাগী হিসেবে এলাকাবাসীর হৃদয়ে ইতিমধ্যে স্থান করে নিয়েছেন । ভারই দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন । এগুণি শিক্ষক একান্ত সাক্ষাৎকারে তার বিদ্যালয়ের ইতিহাস ঐতিহ্য ও শিক্ষা সম্প্রসারণের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন-

যাদের সার্বিক সহযোগীতায় ভারই দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে ?

যাদের সার্বিক সহযোগীতায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় তাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্যরা হলেন- তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান খান,মৌলভী মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, ওয়াজেদুল ইসলাম তালুকদার,হাসান আলী সরকার,মৌলভী মতিয়ার রহমান ,মকরম আলী সরকার,আবুবক্কর সরকার , আব্দুল গফুর খান , এমদাদ হোসেন,সৈয়দ আলী,নূর হোসাইন মিঞা, জসীম উদ্দীন মিঞা ও সৈয়দ আক্তার হোসেন সহ এলাকার সকল শিক্ষানুরাগী মানুষের সহযোগীতায়।

অতীতে এ বিদ্যালয়ে যে সকলগুনী শিক্ষকগণ প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের নাম বলবেন কি ?

এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অতীতে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তারা হলেন – প্রথম প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার বসাক। এরপর মৌলভী মতিয়ার রহমান ,মোঃহাসান আলী মিঞা ও নূরুল ইসলাম খলিফা। তারা সকলেই সততা ও দক্ষতার সাথে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে গেছেন ।তবে এর মধ্যে মৌলভী মতিয়ার রহমান সাহেব বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে এক সফল প্রধান শিক্ষকের মর্যাদায় আসীন হয়ে আছেন । তার কথা ছাএ-ছাএী, শিক্ষক/অভিভাবকগণ আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বরণ করেন। বিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান ,মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু রয়েছে । বিদ্যালয়টিতে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী রয়েছে। যাতে ১ হাজার ৮শ ৭৩ টি বই রয়েছে ।আরো রয়েছে উন্নত মানের বিজ্ঞানাগার ও শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব ।

প্রধান শিক্ষক হিসেবে আপনার উপর অর্পিত দায়িত্ব কিভাবে পালন করছেন ?

অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের সহায়তায় মেধাবী ও দরিদ্র ছাএ-ছাএীদের স্কুলড্রেস সহ আর্থিক সহায়তা করা হয়ে থাকে। প্রতি বছর মিলাদ মাহফিল,শহীদ দিবস,স্বাধীনতা দিবস,বিজয় দিবস সহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান সহ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগীতা মূলক নানা অনুষ্ঠানে নিয়মিত এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে থাকে । বরাবরই এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো রেজাল্ট করে। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে ৬৭ জন এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই কৃতকার্য হয় এবং ৭জন এ প্লাস অর্জন করে । আমার শিক্ষা ও শিক্ষকতা জীবন এ দুয়েরই হাতে খড়ি এই বিদ্যালয়ে। ছাএ ছিলাম হাসান আলী মিয়া স্যারের (প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন) । লেখাপড়া সম্পর্কে মৌলিক শিক্ষা ও আদর্শ যেটুকু আমার মধ্যে আছে তিনি রেখে গেছেন। তিনি ছিলেন আমার আদর্শ। সে সময়ের অন্য শিক্ষক গণের প্রতি ও রয়েছে আমার অগাধ শ্রদ্ধাবোধ। আমি আমার স্যারদের নিকট থেকে যা জেনেছি শিক্ষকতা জীবনে যে টুকু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি তাই নিয়ে আজ ঐতিহ্যবাহী ভারই দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে গুরু দায়িত্ব পালন করছি। আমি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর হতে উল্লেখিত সভাপতি মহোদয়গণ আমাকে সার্বিক ভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং সহযোগিতা করেছেন/করছেন।মোঃ আমিরুল ইসলাম তালুকদার (বিদ্যুত),মোঃ হামিদ মিঞা (ভোলা),মোঃ আনছার আলী তালুকদার,মোঃআব্দুল খালেক মিঞা,উনাদের অবদান সারা জীবন স্বরণ রাখার যোগ্য।

প্রশ্ন: মানব সভ্যতার জন্য শিক্ষার গুরুত্ব কতটুকু ?

উত্তর: শিক্ষা একটি ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । কবি জন মিল্টন বলেছেন -Education is the harmonious develoment of body mind and soul অর্থ্যাৎ দেহ মন ও আত্নার সুসামঞ্জস্য বিকাশই শিক্ষা। সক্রেটিস কিংবা তার শিষ্য প্লেটোর মতে নিজেকে জানার নামই শিক্ষা । শিক্ষার এসব সঙ্গা প্রমাণ করে মানব সভ্যতার প্রাণ শক্তির হল শিক্ষা।

প্রশ্ন: জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সিন্ধান্ত নিতে গিয়ে আপনি নিজের মত ছাড়া অন্য কার মতামতকে গুরুত্ব দেন ?

উত্তর: যাদের মতামত কাল জয়ী হয়ে মানব সমাজে নিঃশব্দে কাজ করে যাচ্ছে তাদের মতামত কে প্রাধান্য দেই।

প্রশ্ন: কোন শিক্ষার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন ?

উত্তর:আমাদের দেশের সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব। কিন্তু মানুষ হওয়ার জন্য যে কোন ধর্মীয় অনুশাসন পালন ছাড়া সম্ভব নয়। তাই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্ব-স্ব ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রশ্ন্ন: আমাদের দেশে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব কতটুকু ?

উত্তর: মালেশিয়া ,সিংগাপুরসহ উন্নত দেশগুলো কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে উন্নত হয়েছে ।আমাদের দেশে কারিগরিশিক্ষার এখানো আশানুরুপ নয়। বাংলাদেশ উন্নত দেশের সারিতে নিয়ে যেতে হলে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।

প্রশ্ন: ছাএ-ছাএী ও সহকর্মীদের সম্পর্কে আপনার অভিমত কি ?

উত্তর:শিক্ষক হলো মানুষ গড়ার কারিগর । অর্থ্যাৎ শিক্ষকই মানুষকে শিক্ষিত ও দক্ষ মানব শক্তিতে রুপান্তর করেন। দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তারা জ্ঞানের দীপশিখা জে¦লে উজাড় করে বিলিয়ে দেন নিজের জ্ঞানের ভান্ডার । আলোকিত মানুষ তৈরিতে আমার সহকর্মিরা প্রত্যেকই কুশলী কারিগর । যোগ্য মানুষ তৈরির ক্ষেএে তাদের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরুপ ভদ্র,বিনয়ী,কর্মঠসহ কর্মী সত্যিই বিরল। কোন কাজে তাদের অনীহা প্রকাশ করতে দেখিনি । তারা প্রতেকেই স্ব-স্ব বিষয়ে দক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল । আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পাঠমুখী, জ্ঞানার্জনে আগ্রহী। আমি সহকর্মি ও শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য ও সুখময় ভবিষ্যৎ কামনা করি।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এই সাইটের কোন লেখা কপি পেস্ট করা আইনত দন্ডনীয়

Headlines