সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনার প্রেক্ষিতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হবে।

দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানিয়েছেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার ২১ আগস্টের অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে নিয়ে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, সেই প্রেক্ষাপটেই এ সংবাদ সম্মেলন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল।

গতকাল সোমবার বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতির তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন বলেই তারা (বিচারপতি) ওই পদে বসতে পেরেছেন।  যে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন, সেই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না বলেই তাদের এত রাগ ও গোস্বা।  প্রধান বিচারপতি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়েও কথা বলেছেন। সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সংরক্ষিত নারী সদস্যরাও ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন।  আর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন।  তাই সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে কথা বলার আগে প্রধান বিচারপতির উচিত ছিল পদ থেকে সরে যাওয়া।  বলতে পারতেন, যেহেতু সংরক্ষিত নারী সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন, তাই আমি এই পদে থাকব না। সব কিছু সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা সহ্য করা যায় না। আর আমাকে হুমকি দিয়ে কোনো লাভ নেই। জীবন দেওয়ার মালিক আল্লাহ, জীবন বাঁচানোর মালিকও আল্লাহ। আমি একমাত্র আল্লাহর কাছে সেজদা দেই, আর অন্য কারও কাছে মাথানত করি না। জনগণের আদালতই সবচেয়ে বড় আদালত, জনগণের শক্তিই বড় শক্তি, এটা সবাই মনে রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তার (প্রধান বিচারপতি) নাকি সংবিধানের কিছু কিছু অনুচ্ছেদ পছন্দ না।  তার মনে রাখতে হবে, এই সংবিধান বঙ্গবন্ধুর দিয়ে যাওয়া। তার যেগুলো পছন্দ সেগুলো জিয়ার শাসন আমলে প্রচলিত ছিল। তাকে মনে রাখতে হবে, আমার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গিয়েছিলেন বলেই আজ ওই চেয়ারে বসতে পেরেছেন। আমার বাবা দেশ স্বাধীন করে দিয়েছিলেন বলেই আজ সবাই স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here