স্টাফ রিপোর্টারঃ

 

বহু অপকর্মের মূল হোতা রাজধানীর তুরাগের ধউর এলাকার মৃত ঠাকুর আলী ওরফে খাকুরি মোল্লার ছেলে আলাল উদ্দিন আলাল (৫৫) । দলিল জালিয়াতি থেকে শুরু করে ভূমি দখল, রেকর্ড জালিয়াতি, জমির ভুয়া মালিক বানিয়ে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া ও দেওয়া, ভুয়া দলিল দেখিয়ে নামজারি করা, অন্যের জমি দখল নিতে ছেলে ওমর ফারুক হিমেলের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং প্রতিষ্ঠা করা । এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে । এমনকি ভূমি জালিয়াত চক্রের সক্রিয় সদস্যও তিনি । এলাকায় মানুষ তাদের বাপ- বেটাকে ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, চিটার, সন্ত্রাস হিসেবেই বেশি চেনে । এমনকি তাকে ‘ভূমিদস্যু আলাল বলেও ডাকে অনেকে ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন তার একটাই কাজ, নিত্যনতুন কৌশল অবলম্ভন করে কাগজ পত্র সৃজন করে অন্যের জমি নিজের দাবী করে সেই সেই জমি বিক্রির কথা বলিয়া বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়া । আর নিরীহ মানুষের দুর্বলতার সুযোগে হয়রানি করা । একইসঙ্গে জাল দলিল বানিয়ে অন্যকেও জমি দখল করার ব্যবস্থা করে দেওয়ার পায়তারা চালিয়ে আসছেন । বিনিময়ে পাচ্ছেন মোটা অংকের টাকা । শুধু তা-ই নয়, আলাল প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রকম অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন । ওমর ফারুক হিলেম নামে তার একমাত্র পুত্র এলাকায় কিশোর গাংয়ের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন চুরি- ছিন্তাই ও মাদক ব্যবসার বিশাল এক সিন্ডিকেট । আলাল ও তার ছেলে হিমেলের এহেন অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন অনেকে । তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ডজন খানেকের উপরে মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন থানায় প্রায় অর্ধশত সাধারণ ডায়েরিও রয়েছে । জেলও খেটেছেন একাধিকবার ।

অপরদিকে সাধারণ মানুষকে ফাঁসাতে ও হয়রানী করতে আলাল নিজে এবং তার স্ত্রী সন্তানদের বাদী বানিয়ে একাধিক মিথ্যা মামলাও করেছেন অনেকের বিরুদ্ধে । এরপরও তার অপকর্ম-জালিয়াতি কমছে না, বরং বাড়ছে দিন দিন । এছাড়া কৌশলে সাধারণ মানুষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করা তার আরেকটি জালিয়াতির পদ্ধতি । এভাবে তিনি উভয়পক্ষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দা বাস্তবায়ন করেন । সহজ-সরল মানুষকে ঠকানোই তার কাজ । খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ কাজে আলা উদ্দিন আলাল একা নন । তার সঙ্গে আছে তার স্ত্রী ও সন্তানেরা । তারা পরস্পরের যোগসাজশে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল তৈরি করে সেটা দেখিয়ে আরেকজনের কাছে জমি বিক্রি করেন । বিনিময়ে পান মোটা অংকের টাকা । যা আবার ভাগ হয় তাদের চক্রের সদস্যদের মধ্যে । এছাড়া ভূমি সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমাও তাদের হাত দিয়েই বেশি চলে । খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধউর এলাকার জৈনক ইউসুফ আলী স্ত্রী হাজেরা বিবি ও হানিফ আলী, আকবর আলী এবং একাব্বর আলী ওরফে সবদর আলী নামে তিন পুত্র সন্তান রাখিয়া বহু আগেই মৃত্যুবরণ করেন । তার মৃত্যুর পর হাজেরা বিবি একই এলাকার জৈনক ঠাকুর আলী ওরফে খাকুরি মোল্ল্যার নিকট ২য় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । পরে এই পক্ষে পর্যায়ক্রমে আঃ হালিম ও আলা উদ্দিন আলাল নামে দুই সন্তানের জনক- জননী হন ঠাকুর আলী ওরফে খাকুরি মোল্ল্যা ও হাজেরা বিবি দম্পতি ।

এদিকে মৃত ইউসুফ আলীর রেখে যাওয়া সম্পতির দুই আনা অংশে ধউর মৌজা ও নলভোগ মৌজায় ৯শতাংশ জমির মালিক হন হাজেরা বিবি । অপর দিকে হাজেরা বিবি জীবিত থাকা কালিন তার দুই ছেলে যথাক্রমে হানিফ আলী ও আকবর আলী মৃত্যুবরণ করলে তাদের রেখে যাওয়া সম্পতির ৯২,৮৮ শতাংশ জমিরও মালিক হন হাজেরা বিবি । পরে ১৪/৬/১৯৮০ইং সালে ৮৭০৫নং দলিল মুলে জৈনক আবুল হাসেম গংদের নিকট ১৩. ৫০ শতাংশ, একই তারিখে ৮৭০৬নং দলিল মুলে জৈনক মোঃ আমির হোসেন ও মোঃ ওসমান আলীর নিকট ১৪. ৫০ শতাংশ, ৮৭০৭নং দলিল মুলে জৈনক আব্দুর রহমানের নিকট ১৪. ৫০ শতাংশ এবং ২৫/৮/১৯৮৫ইং সালে ৪৩৫৩নং দলিল মুলে একাব্বর আলী ওরফে সবদর আলীর নিকট ৬০ শতাংশসহ এই চারটি দলিলের মাধ্যমে মোট ১০২. ৫০শতাংশ জমি বিক্রয় করেন হাজেরা বিবি । আর এই জমি বিক্রয়ের পর তার নামে আর কোন জমি ছিলনা ।

এলাকার বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, মৃৎ আকবর আলী চুয়াডাঙ্গা জেলার ফিরোজা বেগম নামে এক মহিলাকে বিবাহ করেন, বিবহের পর তার কোন সন্তানাদি হয়নাই এক পর্যায় আকবর আলীর মেন্টালি সমস্যা দেখা দিলে তার স্ত্রী ১৯৭৫ইং সালের দিকে তার পিত্রালয়ে চলে জান এবং ফিরোজা বেগম তখন আকবর আলীকে তালাক দিয়ে ১২/১১/১৯৭৯ইং সালে জৈনক আলী রেজা নামে এক লোকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । তাদের ঘরে রাশিদা বেগম নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে ।

এ দিকে হাজেরা বিবির ২য় পক্ষের ছেলে ‘ভূমিদস্যু আলা উদ্দিন আলাল প্রতারনার মাধ্যমে আকবর আলীকে তালাক দেওয়া স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে ব্যবহার করিয়া জাল জালিয়াতির মাধ্যমে কিছু ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করিয়া নেয় এবং উক্ত ভুয়া কাগজ পত্র দেখাইয়া বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে বিক্রি ও বায়না বাবদ মোটা অংকের টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয় । এক পর্যায় জমির প্রকৃত মালিকদের নিকটও মোটা অংকের টাকা পয়সা দাবী করে বসেন । পরে জমির প্রকৃত মালিকগন আদালতের শরণাপন্ন হলে প্রতারক আলাল ফিরোজা বেগমকে দিয়ে ২০১২ইং সালে তালাকনামা বাতিল চেয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করান । পরে আদালত তালাক নামাটি সঠিক হওয়ায় ফিরোজা বেগমের মামলাটি খারিজ করে দেন । এরপর প্রতারক আলা উদ্দিন আলাল ফিরোজা বেগমকে দিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করান । উচ্চ আদালত দীর্ঘদিন ধরে যাচাই বাছাই করার পর তালাক নামাটি সঠিক হওয়ায় ২৪/২/২০২২ইং সালে আপিলটি না মুঞ্জুর করেন ।

ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও প্রতারক আলা উদ্দিন আলালের খপ্পরে পড়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন এবং হচ্ছেন । বর্তমানে ধউর মৌজার সি এস ১৯, ২৭৫, ২৭৮ । এস এ- ১৯ । আর এস- ৪৩নং খতিয়ানে সি এস ও এস এ ৫২৬,৫২৭, ৫১৫, ৫৫৩, ৫১৪, আর এস ৩১৩, ৩১৪, ৩১৫নং দাগের এবং নলভোগ মৌজার সি এস- ৩৫, এস এ- ১৯নং খতিয়ানের ৩৬ ও ৬৭নং দাগের জমির প্রকৃত মালিকগন চরম আতংকে রয়েছে । তাই উক্ত জমির প্রকৃত মালিকগন আলা উদ্দিন আলালের কবল থেকে মুক্তি চায় ।

উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে, অভিযুক্ত আলা উদ্দিন আলালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও সে এই প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ করেননি ।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here