সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধিঃ
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে উপজেলায় ছিচকে চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ওঠেছে। নেশার টাকা যোগাতে এ ছিচকে চুরি সংঘটিত হচ্ছে বলে সচেতন মহল মন্তব্য করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে ও সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যে নভেম্বর মাসে-৩টি,ডিসেম্বর মাসে গত ২২দিনে ১৮টি চুরি সংঘটিত হয়েছে। চুরি সংঘটিত এলাকাগুলো হলো সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের পিংনা কলেজ রোড়ের ইয়ামীনের স্যামস্যাং জে-সেভেন দামী মোবাইল ১লা নভেম্বর চুরি,সরিষাবাড়ী পৌরসভার আরামনগর বাজার মহল্লার প্রয়াত শিক্ষক ইকবাল হোসেনের বাসায় নভেম্বর/১৭ প্রথম সপ্তাহে ঘরের তালা ভেঙ্গে ১টি ল্যাপটপ চুরি।ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনা শ্রী শ্রী গোপাল বিগ্রহ মন্দিরে ১১ নভেম্বর রাতে দুধর্ষ চুরি।২রা ডিসেম্বর মাইজবাড়ীর আলহাজ আজাহারুল ইসলাম রঞ্জু’র ঘরের তালা ভেঙ্গে প্রায় ১০ মন সিদ্ধ ধান,৩ রা ডিসেম্বর সরিষাবাড়ী সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের রেজাউলের চা দোকানে চুরি,৪ঠা ডিসেম্বর সাতপোয়া মহল্লার সেকান্দরের ২ মন ধান,গত ৫ই ডিসেম্বর সরিষাবাড়ী ক্যাবল অপারেটর আবুল হোসেনের মূলবাড়ী বেপারী পাড়া থেকে ৫ শত মিটার অপটিক ফাইবার লোড় ৫ শত মিটার ও সম্প্রতি ঝালুপাড়া থেকে অপটিক ফাইবার লোড় ৬ শত মিটার,৬ই ডিসেম্বর মাইজবাড়ী’র পূর্ব পার্শ্বে রাজিবদিয়ার গ্রামের মনোহারী দোকানদার ছলিমের বাড়ী থেকে ধান চুরি,সাতপোয়া সিদ্দিকের বাসা থেকে ২ মন ধান চুরি,১০ই ডিসেম্বর শিমলা বাজার পাবনা পট্রিতে আফিয়া সুলতানার বাসা থেকে সরকারী ল্যাপটপ ও টাকা চুরি,১০ই ডিসেম্বর সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ভেবলা গ্রামের মোবারক হোসেন এর বসত ঘরের সিদ কেটে চুরি,১০ই ডিসেম্বর পৌর সভার কামরাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সেনা সদস্য শাহীনের বাসায় চুরি,১১ ডিসেম্বর শিমলা পল্লী(তাডিয়াপাড়া)মহল্্্্্øার রাইসুল ইসলাম খোকন এর বাসা থেকে ল্যাপটপ যার মডেল নং-ধংঁং-হ৩৩৫০ চুরি,১১ই ডিসেম্বর দিবালোকে মোবাইল কারীগর জুয়েলের ডেউটিন চুরি।১২ই ডিসেম্বর উপজেলার উকিল পাডায় আব্দুল হেলিমের বাসার ছাদ থেকে ২মন ধান চুরি।১৩ই ডিসেম্বর কামরাবাদ ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামের ২ জন মহিলা চিকিৎসার জন্য জামালপুর উদ্যেশে সরিষাবাড়ী রেলওয়ে ষ্ট্রেশন থেকে আন্তঃ নগর অগ্নীবিনা ট্রেনে উঠার সময় ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে ২টি মোবাইল ও ৫ হাজার টাকা ছিনতাই হয়,১৫ ই ডিসেম্বর আন্তঃনগর অগ্নীবিনা ট্রেনে সরিষাবাড়ী ষ্ট্রেশনে ট্রেনে উঠার সময় সাতপোয়া মহল্লার মোঃ আসাদুজ্জামান এর স্ত্রী’র মোবাইল ফোন ছিনতাই,১৬ই ডিসেম্বর রাতে উপজেলা কমপ্লেক্্র জামে মসজিদের দান বাক্্েরর তালা ভেঙ্গে চুরি,এ নিয়ে মসজিদটিতে গত ৩ বছরে ৬ বার চুরি,২২ ডিসেম্বর ভাটারা বাজারের মাছ হাটি থেকে ভ্যান চুরি সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়াও সম্প্রতি ২০টি স্থানে চুরির তথ্য পাওয়া যায়।এলাকাগুলো হলো-সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদ বিআরডিবি অফিসের সামনে থেকে পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের সহ অপর একটি মোট ২টি মোটর সাইকেল চুরি,উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের উপজেলা ডরমেটরী বাসায় চুরি,জাতীয় শ্রমিক লীগ সরিষাবাড়ী শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নতুন মোটর সাইকেল চুরি,পৌর সভার আরাম নগর বাজারের জালালের মোবাইলের দোকানে চুরি,মাইজবাড়ী জহুরুল ইসলাম সেলিমের ১টি গরু চুরি,কোনাবাড়ীর মকবুল হোসেনের ১টি গরু চুরি,ব্যাবসায়ী আবু তালেব এর ১টি গরু চুরি।মাইজবাড়ীর শিখা বেগমের আলমারীর তালা ভেঙ্গে চুরি হয়,মাইবাড়ী খোকা ফকিরের বাসায় চুরির চেষ্টা,সরিষাবাড়ী কলেজ রোড়ে’র টিএ্যান্ডডি চত্বরে কয়েক দফায় যমুনা ট্রেনের যাত্রী’র টাকা ও মোবাইল ছিনতাই।মহাদান ইউপি’র সানাকৈর ও কামরাবাদের ধারাবর্ষা গ্রামে গরু চুরি।ভাটারা ইউনিয়নের পূর্ব ভাটারা গ্রামের শেখ হোসেন সুমেলের ও জয়নগর গ্রামের বাবলু মিয়ার হিরো স্প্যালেন্ডার ২টি মোটর সাইকেল ঘরের গ্রীল কেটে চুরি, ভাটারা স্কুল এ্যান্ড কলেজের পার্শ্বে মতি মিয়ার মনোহারী দোকানে চুরি,ভেবলা গ্রামের আব্দুস সামাদের গরু চুরিকালে চোর ধরা পড়েলেও স্থানীয় মাতাব্বর আব্দুস সাত্তার তিনি চোরকে ছাডিয়ে দেন। ভাটারা বাজারের হুমার কসমেট্রিক দোকানে চুরির চেষ্টা,মাদারগঞ্জ রোড়ের কাপড়ের দোকানে চুরি,মজিবর রহমান জিবি’র দোকানে চুরি।
পৌর সভার মাইজবাড়ী মহল্লার আলহাজ আজাহারুল ইসলাম রঞ্জু বলেন,আমার ঘরের তালা ভেঙ্গে প্রায় ১০ মন সিদ্ধ ধান চুরি হয়েছে।
ভাটরা বাজার বর্ণিক সমিতির সভাপতি মোঃ রমজান আলী বলেন-ভাটারা এলাকায় নেশার টাকা যোগাতে এ ছিচকে চুরি সংঘটিত হচ্ছে ।
সরিষাবাড়ী পৌর সভার মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকন বলেন-চুরি বৃদ্ধি প্রতিরোধে আইন শৃংখলা বাহিনীর উপর নির্ভর করা চলবে না পাশাপাশি স্থানীয় জনগনকে সচেতন হতে হবে।এর পরেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচাজ কে পুলিশি টহল বৃদ্ধি’র জোরদ্রা করা হবে।
সরিষাবাড়ী কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গনি বলেন, যেহেতু চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগনের জান মালের নিরাপত্তা বিধানে কমিউনিটি পুলিশি এর পক্ষ থেকে পুলিশের মাধ্যমে টহল ও সজাগ দৃষ্টি রাখা দরকার।
সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম খান বলেন- চুরি ঘটনার জিডি হয়না।জিডি করতে আসে থানায় কিন্তু অভিযোগ না দেয়ায় চুরি সংক্রান্ত বিষয়ে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া যায় না। চুরি সংঘটিত এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হবে।
উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী বলেন, চুরি ও ছিনতাই রোধে পুলিশের টহল বৃদ্ধি’র ব্যবস্থা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here