মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

সহসা সচল হচ্ছে না বাঘাবাড়ি নৌবন্দর কাজে আসছেনা ড্রেজিং ঃ বালু ফেলছে নদীতেই

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
  • ৭ Time View

মাসুদ মোশাররফ, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ চলতি শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদীর ৫টি নাব্য সংকট পয়েন্টে বিআইডাব্লিউটিএ ড্রেজিং কাজ শুরু করেছে। পয়েন্ট গুলি হল, মোল্লার চর, ব্যাটারির চর, মোহনগঞ্জ, কৈটোলা ও চর পেচাকোলা। বেশ কিছুটা দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত ড্রেজিং কাজ শুরু হওয়ায় বাঘবাড়ি নৌবন্দরগামী জাহাজ শ্রমিকরা সস্তির নিশ^াস ফেলে। কিন্তু পর মূহুর্তেই তাদের সে সস্তি বিষাদে পরিণত হয়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব মাস্টার বলেন, গত দেড় মাস আগে এ সব পয়েন্ট দিয়ে বাঘাবাড়িগামী জাহাজ চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পথে পথে শত শত সার,কয়লা,ক্লিংকার,ধান,চাল ও জ¦ালানী তেলবাহী জাহাজ আটকা পড়ে। ফলে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এতে বন্দরে দেখা দেয় স্থবিরতা। এ দিকে যমুনায় নাব্যতা সংকটের কারণে গত দেড় মাস ধরে জ¦ালানিবাহী ট্যাংকার জাহাজ ফুল লোডে বাঘাবাড়িতে আসতে না পাড়ায় বিপিসির বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপোর পদ্মা,মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানির ডিজেলের মজুদ প্রায় শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। বর্তমানে এখানকার ডিজেলের এ মজুদ ৭ কোটি লিটার থেকে নেমে আড়াই কোটি লিটারে এসে দাড়িয়েছে। যমুনা নদীর নাব্যতা সংকট দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধাণ করা না হলে চরতি সেচ মৌসুমে ইরি-বোরোর আবাদ হুমকির মধ্যে পড়বে। এ দিক বিবেচনায় এ সংকট নিরশনে বিআইডাব্লিউটিএ এ নৌ চ্যানেলটি ড্রেজিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। অগ্রাধীকার ভিত্তিতে দ্রুত এ চ্যানেলটি সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীও নির্দেশ দেন। তা সত্বেও বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে তা সময় মত শুরু করেনি। গত সপ্তাহে পাবনার বেড়া উপজেলার চর পেচাকোলা বড়াল ও যমুনা নদীর মোহনায় ড্রেজিং কাজ শুরু করে। থেমে থেমে ধীর গতিতে এখানে চলছে ড্রেজিং। শুধু তাই নয় ড্রেজিংকৃত বালু ড্রেজিং এলাকার মাত্র ১০ গজ দূরে নদীর ভিতরেই ফেলা হচ্ছে। ফলে এ নৌ চ্যানেল দিয়ে জাহাজ চলাচলের সময় পানির ঢেউ ও ¯্রােতের ধাক্কায় ওই বালু পূর্বের স্থানে চলে এসে তা আবারও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে গোয়ালন্দ পাটুরিয়া ও দৌলদিয়া পয়েন্টে ইউরিয়া সার,জ¦ালানী তেল ও কয়লাবাহী কমপক্ষে ১৩০টি কার্গো জাহাজ গত ১ সপ্তাহ ধরে নোঙ্গর করে আটকা পড়ে আছে। তিনি বলেন, লাইটারেজের মাধ্যমে প্রতিদিন ২/৩টি করে জাহাজ বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে পৌছালেও তা চাহিদার তুলনায় অতি নগণ্য। ফলে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের লেবার এজেন্ট আবুল হোসেন ও আব্দুল মজিদ বলেন, নাব্যতা সংকটের কারণে গত দেড় মাস ধরে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে সরাসরি কোন সারবাহী জাহাজ ভিড়তে পাড়ছেনা। ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কাজ কর্ম ২/৩ গুণ কমে গেছে। এতে তারা চরম আর্থিক লোকশানে পড়েছে। সেই সাথে সরকারও বিপুল অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তারা আরো বলেন, ড্রেজিং এলাকায় কমপক্ষে আরো ২টি ড্রেজার মেশিন দরকার। মোট ৩টি ড্রেজার একযোগে কাজ করলে তবেই এ সংকট দ্রুত সমাধাণ হবে। লেবার সরদার লুৎফর রহমান বলেন,বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে জাহাজ ভিড়তে না পাড়ায় তাদের ৫/৭‘শ শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এ মৌসুমে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর ঘাটে প্রতিদিন ১২‘শ থেকে ১৩‘শ শ্রমিক কাজ করতো। এখন মাত্র আড়াই‘শ থেকে ৩‘শ শ্রমিক কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, কর্মসংস্থান হারানো শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব মান্টার আরো বলেন, উত্তরাঞ্চেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌ-চ্যানেলটি সচল রাখতে বিআইডাব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ও নৌমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেও যথা সময়ে এ নৌ-চ্যানেলে ড্রেজিং শুরু না করায় বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শাহজাদপুর সহ উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার কৃষিকার্য। বিশেষ করে চলতি সেচ মৌসুমে ইরি-বোরোর আবাদে প্রয়োজনীয় ডিজেল তেল ও ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে বাঘাবাড়ির যমুনা ওয়েল ডিপোর ম্যানেজারজাহিদ সরোয়ার বলেন,তেলবাহী জাহাজ বাঘাবাড়িতে আসতে না পাড়ায় রিজার্ভ থেকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে মজুদ কমে গেছে। গত দু‘দিনে ৪টি তেলের ট্যাংকার জাহাজ হাফ লোডে বাঘাবাড়ি এসেছে। এ ভাবে আসতে থাকলে সংকট হবেনা। এ ব্যাপারে পোর্ট অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বলেন,চর পেচাকোলায় ড্রেজিং শুরু হয়েছে। আশা করি ২/৪ দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধাণ হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে বাঘাবাড়ি বন্দরের বাফার গুদামের ইনচার্জ সোলায়মান হোসেন বলেন,যমুনায় নাব্যতা সংকটের কারণে বাঘাবাড়ি বন্দরে জাহাজ আসতে না পারলেও সারের আপাতত কোন সমস্যা নেই। আগের মজুদ থেকে কৃষকদের সার সরবরাহ অব্যহত রয়েছে। তাই এ অঞ্চলে এখনো সারের কোন সংকট দেখা দেয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এই সাইটের কোন লেখা কপি পেস্ট করা আইনত দন্ডনীয়

Headlines