সাংবাদিকদের নিয়ে তামাশা খেলছেন সিটিজি ক্রাইম টিভি নামক ভূয়া প্রতিষ্ঠানের মালিক

এম, এ কাদের অপু, কুমিল্লা (দঃ জেলা) প্রতিনিধি: সাংবাদিকদের বলা হয় জাতির বিবেক, আর এই জাতির বিবেকদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খেলা করে আসছেন চট্রগ্রামের এক ভূয়া সাংবাদিক আজগর আলী মানিক। এই আজগর আলী মানিক যার পেশা হলো ফেইসবুকে Ctgcrimetv নামক একটি অনলাইনে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া, সকল সাংবাদিকরাই চায় টেলিভিশন চ্যানেলে কাজ করতে, সাংবাদিকরা চায় সারা বিশ্বে যেন তাদের একটা নিউজ প্রকাশ হয়। কিন্তু এর সুযোগ নিয়ে সিটিজি ক্রাইম টিভি নামাক একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়ে সহজ সরল সাংবাদিকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিযোগপত্র দিয়ে আইডিকার্ড দিয়ে প্রতারনা করছে সাংবাদিকদের সাথে, তেমনই ধোকা দিচ্ছে সাধারণ জনগণের সাথে। কয়েকটি মামলার আসামী হলেও তাকে ধরছেনা আইন শৃংখলাবাহীনি, কেনো প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করছে? সিটিজি ক্রাইম টিভির অফিসটি আকাড়ে ছোট, একটা চায়ের দোকানও এর থেকে বড় হবে বলে মনে হয়। বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারনা করতে করতে তার প্রতারনার মাত্রা এতই বেড়ে গেছে যে, সে এখন গোটা সাংবাদিক জাতিকে নিয়ে ও প্রতারনার ফাঁদ বানাচ্ছে।
গত কয়েকদিন আগে নাটোর জেলার একজন মহিলা সাংবাদিক তার সিটিজি ক্রাইম টিভিতে কাজ করতে তার কাছে আগ্রহ প্রকাশ করে, তখন চরিত্রহীন আজগর আলী মানিক ঐ মেয়েটিকে কু-প্রস্তাব দেয় এবং বলে এই প্রস্তাবে রাজি হলে এবং চট্রগ্রাম এসে মানিক কে খুশি করতে পারলে মেয়েটিকে চাকুরী দিবে। তার জবাবে মেয়েটি বল্লো চট্রগ্রাম যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়ার টাকাও তার সাথে নেই, তখন সিটিজি ক্রাইম টিভির মালিক আজগর আলী মানিক মেয়েটির ব্যবহারিত বিকাশ নাম্বারে ১০০০ হাজার টাকা গাড়ি ভারা পাঠানোর কথা বলে। ফেইসবুকের ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যেমে অনৈতিক কাজ করার কথাও বলে এই লম্পট মানিক। মানিকের ভন্ডামি, প্রতারণার বহু প্রমান আসার পর যখন তাকে ফোন করে জানতে চাওয়া হলে সে উল্টো ফেইসবুকে মিথ্যা প্রচারনা শুরু করে দেয়। তার সাথে জড়িত আছে লক্ষীপুর জেলা প্রতিনিধি আরেক প্রতারক মাজেদুল ইসলাম। মাজেদুল ইসলাম মানিকের প্রতারণার জালে ফেসে গিয়ে কাজ করছে আজগর আলী মানিকের পক্ষে।

এই সিটিজি ক্রাইম টিভি’র নামে তথ্য মন্ত্রনালয়ে কোন অনুমতি নেই, অনুমতি না থাকার কথা সে স্বীকার করেন অন্য লোকের কাছে তার প্রমাণও হাতে এসে যায়। ব্যক্তিগত জীবনে মানিকের ২ জন স্ত্রী থাকা সত্তেও তার অফিস সহকারীর সাথে অন্তরঙ্গ করে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন ভাবে তার ও প্রমান পাওয়া যায়। এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হয়েও ভাইস চেয়ারম্যান হয়ে প্রতারণার সিমা অতিক্রম করে গেছে আজগর আলী মানিক।

ইউটিউব ও গুগোলে সিটিজি ক্রাইম টিভি নামক পেজ তৈরী করে সাংবাদিক নিয়োগের ব্যবসা করে প্রতিমাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধি হওয়ার জন্য আগত মেয়েদের ইজ্জত নিয়ে ও ব্যবসা করতে তার বিবেকে বাধা দিচ্ছেনা। কেউ কিছু বল্লেই চট্রগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী থানায় গিয়ে সাধারন ডায়েরী করে ভয় দেখায়। বায়েজীদ বোস্তামী থানার ওসি তার এসব মিথ্যা ডায়েরী করেই বা কি আনন্দ পাচ্ছেন তা ওসি নিজেই জানেন।

বাংলাদেশ সরকার তথ্যমন্ত্রনালয়ের সচিব মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, এই চ্যানেলটি কোন প্রকারেই বৈধ হতে পারেনা, যেহেতু তাদের চ্যানেলের নাম আবেদনের জায়গায় উল্লেখ থাকা তো দুরের কথা কোন প্রকার কাগজপত্রই আমরা খুজে পাইনি। এই চ্যানেলটি সম্পূর্ণ ভাবে অবৈধ বলে আমি মনে করি।
চট্রগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাবিবুর রহমান জানান, এই নামের কোন চ্যানেলের নাম আমি কখনো শুনি নাই। এই নামের প্রতিষ্ঠানটি সমপূর্ণ অবৈধ বলে আমি মনে করি। কারন, চট্রগ্রামের মত জায়গায় কোন টিভি চ্যানেল থাকলে অবশ্যই আমরা জানতাম। তিনি আরো বলেন, আজগর আলী মানিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কপি নিয়ে দেখা করেন আমরা আপনাদেরকে সহযোগীতা করবো।
এই দিকে চট্রগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাসির জানান, এই প্রতিষ্ঠানের নাম এই প্রথম শুনলাম, আগে কখনো আমি এই প্রতিষ্ঠানের নাম শুনি নাই। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কপি পাঠান আমরা সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো এবং সর্বাত্মক সহযোগীতা করার কথাও বলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাসির।

বায়েজীদ থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, এই মানিকের বিরুদ্ধে প্রতারনার আরো অভিযোগ পাওয়া গেছে।প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা ও জানান ওসি কামাল হোসেন।
চট্রগ্রামের এক আওয়ামী লীগ নেতা আঃ নবী লেদু এই প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা হিসাবে আছেন বলেও জানা যায় লোক মারফতে। অফিস সহকারী বিবি মরিয়ম উপস্থাপকের দায়িদ্ব পালন করলেও তাকে বানিয়ে দিয়েছেন এখন ভাইস চেয়ারম্যান। তার সাথে আছে অরোও কয়েকজন মেয়ে। প্রশ্ন হয়ে উঠেছে আজগর আলী মানিক যে কোন মেয়ের সাথে অবৈধ কাজের জন্য প্রস্তাব করে আসছে, তখন এই মেয়ে গুলির কি পরিস্থিতি হতে পারে? কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার এলাকার একটি মেয়ে এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, তার ও খোজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

চট্রগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন মোড় হাজ্বী বিল্ডিং, ইসলামী ব্যাংক এর ৩য় তলায় অবস্থিত ভুয়া এই অনলাইন চ্যানেলের অফিসটি যেনো একটি কুড়ে ঘর, অথচ সারা বাংলাদেশের ছেলে মেয়েদেরকে সাংবাদিকতা না শিখিয়েই সাংবাদিক নামের প্রতারণার যে ফাঁদ মানিক খুলে বসিয়ে সারা বাংলাদেশ সহ বিশ্ব বাজারে সাংবাদিক নামের এই মহান পেশাটিকে এমন ভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার সাহস পেল কোথায়? তার খুটির জোড় কোথায়? সর্বস্তরের সাধারন জনগন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছে।