শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নেতাকর্মীরা প্রস্তুত থাকুন, কেউ যেনো মানুষের ক্ষ‌তি কর‌তে না পা‌রে : প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরে তুলার গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৮ ইউনিট একই ইউনিয়নে ৭ টি অবৈধ ইট ভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলে জিমে’র আড়ালে মাদক ব্যবসা; ৩০ লাখ টাকার হিরোইনসহ নারী আটক তোফাজ্জল হোসেন মিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব নিয়োগ প্রদান করায় ভাণ্ডারিয়ায় দোয়া ও মোনাজাত ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে রৌমারীতে লজিক প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ সাতক্ষীরায় বঙ্গবন্ধুর মুর‍্যালে পুস্পস্তবক অর্পণ করলেন খুলনা রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি মইনুল হক কুমিল্লায় তৈরি হলো দেশের সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট টঙ্গীতে এশিয়ান ও আনন্দ টিভির সাংবাদিকের উপর হামলা ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

সাতক্ষীরায় বোরো ধান পরিচর্চায় ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
  • ৯ Time View

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরায় বোরো পরিচর্চায় ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। আগাছা দমন, সেচ দেয়া, সার প্রয়োগসহ পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে কৃষকরা নানা মুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়াতে কৃষকরা অনেটা দুশ্চিন্তায়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ধান চাষে লাভের মুখ দেখবে এমনটায় আশা কৃষকদের।
জেলা কৃষি খামারবাড়ি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলাতে ৭৩ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবাদ হয়েছে আরো বেশি। অন্যদিকে উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লক্ষ ৬২৬ মেঃ টন। চলতি সপ্তাহে মাঠ পর্যায়ে সারের দাম কেজি প্রতি এক-থেকে দুই টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রান্তীক কৃষকরা জানান। অন্যদিকে পাইকারী ব্যবসায়ীদের দাবী চলতি সপ্তাহে বস্তা প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা সারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ কম থাকায় দাম বৃদ্ধি বলে সার ডিলারদের অভিযোগ। বিঘা প্রতি ধানের উৎপাদন খরচ প্রায় ১৭ হাজার টাকা। বাজার মুল্যে কৃষকরা বিঘা প্রতি ধানের দাম পান ১৮ হাজার টাকা। বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখিন না হলে কিছুটা হলেও কৃষকরা ধান চাষ করে মুনাফার মুখ দেখবে এমন তথ্য দিলেন কয়েক জন কৃষক।
জেলা খামারবাড়ি সূত্র মতে, এবছর সাতক্ষীরা সদরে বোরো আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। যা থেকে ধানের উৎপাদন ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার ৫১৭ মেঃ টন। কলারোয়া উপজেলাতে আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। সব ঠিক থাকলে ধান উৎপান হবে ৪৮ হাজার ৭৮৫ মেঃ টন। তালাতে আবাদ হয়েছে ১৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদিত ধানের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭৮ মেঃ টন। দেবহাটাতে আবাদের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৩০ হেক্টর এবং ধান উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ১৮৯ মেঃ টন। কালিগঞ্জ উপজেলাতে আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে যা থেকে উৎপাদিত ধানের পরিমান ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৭৯৬ মেঃ টন। আশাশুনিতে আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে যা থেকে উৎপাদিত হবে ২৭ হাজার ৫৪৪ মেঃ টন। অন্যদিকে লোনা অধ্যাষিত শ্যামনগর উপজেলাতে বোরো আবাদ হয়েছে ০১ হাজার ৩৮৬ হেক্টর জমিতে যা থেকে উৎপাদিত ধানের পরিমান ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ মেঃ টন। বোরো রোপনের আগে বীজ তলা তৈরি করে কৃষকরা। জেলা খামারবাড়ি সূত্র মতে, এবছর সাতক্ষীরা জেলাতে ৩ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে বীজ তলা তৈরির লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয় ৪ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে। সরবরাহ বেশি থাকায় বোরো ধানের অনেক চারা নষ্ট হয়েছে বলে কৃষকরা জানান। সার, ডিজেল, বিদ্যুৎ সহ ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াতে গত কয়েক বছর ধরে ধানের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে কৃষি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ধান চাষে আগ্রহ হারাবে কৃষকরা।
মুনছুর আলী (৫০), সাতক্ষীরা শহরের ৫ নং ওয়ার্ডের মিয়াসাহেবের ডাঙ্গা গ্রামের কৃষক। তার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি এবছর দুই বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছে। ধানের বাড়ন ও ভাল। তার ক্ষেত যেন সবুজের সমারহ। কিন্তু তার দুঃখ ধানের উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। তিনি জানান, বিঘা প্রতি তার উৎপাদন খরচ দাড়াবে ১৭ হাজার টাকা এর মধ্যে বিঘা প্রতি বীজতলা তৈরিতে খরচ হয়েছে ২ হাজার টাকা। ১০ কেজি বীজ, সার পানি, পাতা উঠানো বাবদ এসব খরচ করতে হয়েছে তাকে। এর পর জমিতে তিন চাষ, নয়শ টাকা, রোপন এক হাজার টাকা, সার ওষুধ দুই হাজার টাকা, আগাছা দমন, ওষুধ স্প্রে তিনশ টাকা, ধান কাটা পনেরশ টাকা, বহন-ঝাড়া বারশ টাকা, জমির হারি ছয় হাজার টাকা, পানি সরবরাহের জন্যে তিন হাজার টাকা তাকে দিতে হবে। তার এক বিঘা জমিতে ১৮ মন ধান পাবে বলে তিনি আশা করছেন। তার মতে ধান কাটার মৌসুমে দাম বেশি থাকলে মণপ্রতি এক হাজার টাকা তিনি পেতে পারেন। এতে তার এক হাজার টাকা লাভ থাকবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। শহরের চালতে তলা এলাকার আজগর আলী (৬০)। সারা জীবন ধরে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু ধানের উৎপাদন খরচ এত বেশি তিনি কখনো দেখিনি। তার অভিযোগ, ধানের ক্ষেতে বিভিন্ন ধরণের পোকার আক্রমণ দেখা যায়, কিন্তু সরকারী ভাবে কোন কৃষি কর্মকর্তার দেখা পায়নি। কোন পরামর্শ দেয়ার কোন লোক তার কাছে কখনো আসেনি।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা খামার বাড়ির কৃষি কর্মকতা উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, জনবল সংকটের কারণে সব কৃষকের কাছে পৌছানো সম্ভব হয় না। তবে বিভিন্ন প্রসপেকর্টাস, কৃষি মেলার আয়োজনসহ বিভিন্নভাবে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে থাকে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর সাতক্ষীরাতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এই সাইটের কোন লেখা কপি পেস্ট করা আইনত দন্ডনীয়

Headlines