সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আব্দুর রাজ্জাককে দেখতে চায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা

প্রকাশ : শুক্রবার, মে ১৭, ২০১৯ অপরাহ্ণ ৫:০০

 

মো: দুলাল হোসেন চকদার:

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বর্তমানে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো। সল্পপরিমানে হাঁটাচলাও করতে পারছেন। ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ওবায়দুল কাদেরের সাথে যারা আছেন তারা জানিয়েছেন আগামী পনের দিনের ভেতর তাঁর বাইপাস সার্জারি হওয়ার কথা। বাইপাস সার্জারির জন্য তার শরীরকে পর্যাপ্ত পরিমানে প্রস্তুত করা হচ্ছে। সার্জারির পর তাঁকে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার জন্য স্বাস্থ্যগত নিয়মনীতি অনুসরণ করেই চলতে হবে।

 

এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আগামী অক্টোবরের মধ্যে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন হওয়ার কথা। যেহেতু ওবায়দুল কাদের বর্তমানে অসুস্থ এবং তার শরীরিক অসুস্থতা পুরোদমে কাটিয়ে উঠতেও বেশ সময় লাগবে সেজন্য আওয়ামী লীগের মধ্যে নতুন সাধারণ সম্পাদক কে হবে তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। যদিও আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫/১/গ এর ধারা অনুযায়ী মাহাবুব আলম হানিফকে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওবায়দুল কাদেরের ফিরে না আসার আগ পযন্ত তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন।

 

 

এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে ওবায়দুল কাদেরকে দলের সাধারণ সম্পাদক নাও রাখা হতে পারে। ওবায়দুল কাদেরের দায়িত্বে থাকা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ও দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব তিনি সুস্থ্য হবার পরেও ঠিকমতো চালিয়ে যেতে সমস্যা হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ মতে মানসিক চাপ থেকে তাকে মুক্ত থাকতে হবে।

 

এজন্য আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণ করা মনে করছেন তার সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য দায়িত্ব কমিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে সরকারের দুটি মহাপরিকল্পনা ‘পদ্মাসতু’ ও ‘মেট্রোরেল’ বাস্তবায়নের জন্য তাকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর পদে রেখে আসন্ন কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদকের পদটি নতুন কাউকে দেওয়া হতে পারে। নতুনদের তালিকায় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে বিশ্লেষণে তাদের এই পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার কিছু প্রতিবন্ধকতাও খুঁজে পাওয়া যায়।

 

হানিফের বিষয়ে জানা যায়, তিনি দলীয় সভানেত্রীর পারিবারিক আত্মীয় এবং জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রত্যাবর্তন স্থানীয় পর্যায় থেকে হঠাৎ উঠে এসে। নানকের ক্ষেত্রে তার অঞ্চল একটা বিষয় হিসাবে কাজ করবে। ঐ অঞ্চল থেকে অনেক বড় বড় নেতা এখনও দলে বর্তমান। তাদের সম্মতি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আব্দুর রহমানের ক্ষেত্রেও অঞ্চলটা প্রতিবন্ধকতা মনে করছে দলীয় নেতাকর্মীরা। বৃহত্তর ফরিদপুর থেকে দলীয় সভানেত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক পদটি ঐ অঞ্চল থেকে আসবে না বলেই মনে করেন অনেক।

 

এদিকে আলোচনায় হঠাৎ করেই কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাকের নাম সামনে চলে এসেছে। তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের বাইরেও আওয়ামী লীগের বর্তমান সম্মানিত প্রেসিডিয়াম সদস্য। সৎ ও আদর্শিক অবস্থান থাকায় ও নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন কমিটিতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, সেই সাথে সাধারণ মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠতা থাকায় তাকে নিয়ে এবার খুব করেই আলোচনা হচ্ছে।

 

সাধারণ সম্পাদক হবার দৌঁড়ে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, আব্দুর রাজ্জাকের দিকেই পাল্লাটি ভারী। যদিও দলীয় ফোরামে এই বিষয়ে নূন্যতম কোন গুঞ্জন নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের একজন কর্মী বলেন, আব্দুর রাজ্জাক একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত।

 

জাতীয় নেতা হিসেবে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার মতো যতগুলো গুণ দরকার তার অধিকাংশের প্রতিফলন আছে তার আচরণে। এই মুহুর্তে এতো বড় দলটির সাধারণ সম্পাদক হিসাবে তিনিই বেস্ট অপশন বলে মনে করি। নানান জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্তকে সাধারণ সম্পাদকের পদে আসীন হচ্ছেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

 

এখন শুধু ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ও তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ফিরে আসার অপেক্ষায় আওয়ামী লীগ। সাধারণ সম্পাদকের পদটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা এবং আসন্ন পরিস্থিতির উপরই নির্ভর করছে।