সুপ্রিম কোর্টে দাখিল পি কে হালদারকে নিয়ে একাত্তর টিভির ক্লিপ

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

অর্থপাচারের অভিযোগের প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে) হালদারকে নিয়ে একাত্তর টিভিতে প্রচারিত সাক্ষাৎকার ও টক শো’র ভিডিও ক্লিপ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে দাখিল করা হয়েছে।

আজ ১০ জানুয়ারি, রবিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের কাছে ওই ভিডিও ক্লিপ দাখিল করেছে একাত্তর টিভি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে এসব ভিডিও ক্লিপ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে দাখিল করা হবে।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর পিকে হালদারসহ সব পলাতক আসামির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে একাত্তর টিভিতে পিকে হালদারের প্রচারিত সাক্ষাৎকার ও টক শো’র ভিডিও দাখিলের নির্দেশও দেন আদালত।

দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সে নির্দেশের ধারাবাহিকতায় একাত্তর টিভি কর্তৃপক্ষ ভিডিও ক্লিপ আদালতে দাখিল করে।

দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান জানিয়েছিলেন, এর আগে পিকে হালদারকে নিয়ে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় পি কে হালদারের বক্তব্য বা লাইভ সম্প্রচার করা হয়। আইনের দৃষ্টিতে পি কে হালদার পলাতক আসামি। তাই পি কে হালদারসহ সকল আসামির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দুদকের পক্ষে আবেদন জানিয়েছি। আবেদনটির ওপর শুনানি নিয়ে আদালত একাত্তর টিভিকে ভিডিও ক্লিপ দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ১৫শ’ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসময় গোপনে কানাডায় পাড়ি জমান তিনি।

এদিকে আদালতের পূর্ব নির্দেশনা অনুসারে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অগ্রগতি প্রতিবেদন, মামলার এফআইআর ও সম্পত্তি-অর্থ জব্দের আদেশ হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়। পি কে হালদারের আত্মীয় পিপলস লিজিংয়ের সাবেক পরিচালক অমিতাভ অধিকারী এবং পি কে হালদারের সাবেক সহকর্মী ও পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীকে আবেদনের প্রেক্ষিতে এ মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়।

এরপর আদালত মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৩ জানুয়ারি শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। গত ৯ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এরও আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চে পিকে হালদারের দেশে ফেরত আসতে কোনরকম গ্রেপ্তার না করার নির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদন করে তার প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএল। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত জানিয়েছিলেন—পিকে হালদার কবে, কখন, কীভাবে দেশে ফিরতে চান তা আইএলএফএসএল লিখিতভাবে জানালে সে বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেওয়া হবে।

পরবর্তীতে পি কে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়ে গত ২০ অক্টোবর হাইকোর্টকে জানায়। পি কে হালদারের প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএল’র পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে জানানো হয়, ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা আসার জন্য টিকিট কেটেছেন। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

সার্বিক দিক বিবেচনার পর প্রশান্ত কুমার (পি কে হালদার) হালদারকে দেশে ফেরার অনুমতি দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পি কে হালদার দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের আইজি এবং ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি কারাগারে থাকাবস্থায় পি কে হালদার যেন অর্থ পরিশোধের সুযোগ পান সে বিষয়ে সুযোগ দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়। পি কে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়ে আইএলএফএসএলের করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। তবে পরে আর তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দেশে ফেরেননি।