লোকমান হোসেন, ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি:
স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করায় স্ত্রীসহ পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার দক্ষিণ শিয়ালকাঠী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান হাওলাদার এর পরিবারকে সাজানো মামলা দিয়ে হয়রাণীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান হাওলাদার জানান, তার মেয়ে ফারজানা আক্তারের সঙ্গে ভান্ডারিযা উপজেলার ইকড়ি গ্রামের মৃত আবদুর রহমান সাইব এর ছেলে মো. কাওছার এর সঙ্গে ২০১০ সনে বিয়ে হয়। দীর্ঘ ৩ বছর সংসার করার পরে ২০১৩ সনের ১০ এপ্রিল তাকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ী বেড়াতে যায় কাওছার। এক পর্যায়ে  কাওছার সৌদি আরবে চাকুরী করতে যাবে  বলে শ্বশুরের কাছে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে । তার শ্বশুর শাহজাহান হাওলাদার ওই  টাকা দিতে অস্বিাকার করলে এনিয়ে জামাতা কাওছার এর সঙ্গে ও তার শ্বশুরের এর সঙ্গে কথার কাটা কাটি হয়। এক পর্যায়ে জামাতা কাওছার সাফ জানিয়ে দেয় যৌতুকের টাকা না পেলে তার মেয়েকে সে তালাক দিবে বলে পিত্রালয়ে রেখে চলে যায়। এ পর থেকে আর ফারজানার কোন খোজ খবর নেয়নি কাওছার।  দীর্ঘ  চার বছর অপেক্ষার পর ২০১৬ সনের ১৫ ফেব্রুয়ারি তার মেয়ে ফারজানা পিরোজপুর সহকারী জজ আদালতে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত দীর্ঘ সুনানীর পর ২০১৭ সনের ৯ সেপ্টেম্বর কাওছার এর বিরদ্ধে ডিগ্রি প্রদান করেন। ডিগ্রিতে ফারজানা কাবিনের ৫ লক্ষ টাকা এবং খোরপোষ বাবদ ৭৭ হাজার ৬শত সাতষট্টি টাকা ৩০ দিনের মধ্যে প্রদানের নিদের্শ দেয়া হয়। আদালতের ডিগ্রীর কথা জানতে পেরে মো. কাওছার সাইব  তার বড় ভাই বাহাদুর সাইব কে দিয়ে ফারজানা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আদালতে ১৪ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ একটি মামলা দায়ের করে। উল্লেখ্য ফারজানার সঙ্গে ২০১৩ সনের পর তার স্বামীর কাওছার সাইব অথবা তার শ্বশুর বাড়ীর কারও সঙ্গে কোন ধরণের সম্পর্ক ছিলনা সেক্ষেত্রে ২০১৭ সনে তার স্বামীর বাড়ীর স্বর্ণ ও অর্থসাৎ এর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এছড়া ওই মামলার প্রধান সাক্ষি দক্ষিণ শিয়ালকাঠী এলাকর সোহাগ মল্লিক লিখিত ভাবে এ প্রতিবেদককে জানান এ চুরির মামলা বা ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেনা।
মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান হাওলাদার এর অভিযোগ, মামলায় যে এলাকায় চুরির ঘটনা দেখানো হয়েছে। সে স্থান থেকে ইকড়ি এলাকার দুরত্ব ১৫ থেকে ২০ কিমি. ওই মামলার বাকী সাক্ষি ইকড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং কাওছার সাইবের নিকট আত্মীয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here