হবিগঞ্জে সরকারী ভাতাভোগীদের টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে ধনাট্যরা \ দোষীদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগের উদ্দ্যোগ

এম এ আজিজ সেলিম হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরকারী ভাতাভোগীদের টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে ধনাট্য ব্যক্তিরা। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় বয়স্ক,বিধবা,স্বামী গৃহীতা মহিলা এবং অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার অর্থ আত্মসাত করে আসছে কিছু অসাধু জন-প্রতিনিধিসহ অভিযোগ রয়েছে সমাজ সেবী কর্মীদের উপর। উপজেলার বানিয়াচংয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে সমাজসেবা কর্মী ও ইউপি সদস্যের উপর। প্রতিবন্ধি মাকসিনা আক্তার ইউনও’র কাছে নালিশ করলে সাথে সাথে সমাজসেবা অফিসার সাইফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন। সে অনুযায়ী ইউপি মেম্বার ও সমাজসেবা অফিসের রতনকে তলব করা হয়।

প্রতিবন্ধী মাকসিনার অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমানিত হওয়ায় ৩নং ইউপি ৭নং ওয়ার্ড সদস্য সুমন আখনজি ও সমাজসেবা কর্মী রেজাউল হকের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রতিবেদন প্রেরণ করেন নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খন্দকার। রহস্য জনক কারণে অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নেয় প্রতিবন্ধী মাকসিনা আক্তার। জেলার বাহুবল উপজেলায় বয়স্ক ভাতার টাকা তুলে দেয়ার নামে ৪হাজার ৮শ টাকা ঘুষ গ্রহন কালে হাতেনাতে ধরা পড়েন সদর ইউনিয়নের ৩,৪,ও ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আলফা বেগম এবং তার সহযোগী একই উপজেলার ভেড়াখাল গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা বিবি।

এ অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালত তাদেরকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়ে। একই উপজেলায় অপর ঘটনায়, বয়স্ক ভাতা বিতরণের সময় উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগে ৭, ৮, ও ৯ এর সদস্য শিল্পী রাণীর স্বামী কাজল দেব (৫০) কে এক বছর সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেণ ভ্রাম্যমান আদালত। শুধুমাত্র বানিয়াচং উপজেলায় খোজ নিয়ে দেখা যায় বয়স্ক,বিধবা,স্বামী নিগৃহীতা, প্রতিবন্ধী, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তির সরকারী ভাতাভোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ১শ ৪২ জন। এর মধ্যে ১৬শ ১৪ জনের অস্তিত্বই খোজে পাচ্ছেন না স্থানীয় উপজেলা সমাজ সেবা অফিস। ভাতাভোগীদের অনলাইনের আওয়াতভ‚ক্ত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি ইউনিয়ন ভিত্তিক জিটুপি (গভমেন্ট টু সার্ভিস) পদ্ধতি নিরুপনের সময় এ তথ্য উঠে আসে। ফলে দীর্ঘদিন যাবত চলে আসা দুর্নীতির লাঘাম টেনে ধরতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সূত্র জানায়, সরকারের নিতিমালা অনুযায়ী সরকার ভাতাভোগীদের উন্মোক্ত মাঠে সমাজ সেবা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নাম সনাক্ত করার কথা থাকলেও রহস্য জনক কারণে ওই উপজেলায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এখানে ভাতাভোগীদের নাম সনাক্ত করেণ ইউপি চেয়াম্যান ও সদস্যরা। ফলে জনপ্রতিনিধিরা তাদের পছন্দের লোখ নির্ণয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভাতাভোগীদের নাম তাদের হাতে ন্যস্ত থাকায় শতকরা ১০ ভাগ টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে একটি মহল।

এব্যাপারে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার সাইফুল ইসলাম প্রধান জানান, আমি এখানে সম্প্রতি যোগদান করেছি। দীর্ঘ দিন যাবত চলে আসা দুর্নীতি লাঘাম টেনে ধরতে ভাতাভোগীদের জিটুপি পদ্ধতিতে নিয়ে আসার কাজ শুরু করেছি যার প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই শতকরা ১০ জন ভাতাভোগী খোজে পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খন্দকার জানান,কি পরিমান সরকারী টাকা কতদিন যাবৎ কারা লুটেপুটে খেয়েছে তা খতিয়ে দেখার জন্য সমাজ সেবা অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যারা দোষী হবেন তাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ প্রেরণ করা হবে।

এদিকে ,দুর্নীতি ঠেকাতে উন্মোক্ত মাঠে বাছাইয়ের মাধ্যমে সরকারী ভাতাভোগী সনাক্ত করার উদ্দ্যেগ নিয়েছে সমাজ সেবা অধিদপ্তর। গত ৫ ডিসেম্বর সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক মোঃ নুরুল কবির এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেন।