Amar Praner Bangladesh

হয়রানি আর নাজেহালের অপর নাম রাজীব বাস সার্ভিস

 

সোহরাব হোসেন :

রাজীব বাস সেবার নামে প্যাসেঞ্জারের সাথে নিয়মিত বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে নিয়মবহির্ভূতভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। রাজীব বাসের সার্ভিস এখন সিটিং নয়, তাদের আচরণে মনে হয় চিটিং পরিবহন।

এমন কোন সময় নেই এই করোনার মহামারীতেও বাসে অতিরিক্ত যাত্রী উঠিয়ে আব্দুল্লাহপুর থেকে গন্তব্যস্থল পর্যন্ত কয়েকশতবার প্যাসেঞ্জার উঠানামা করিয়ে রীতিমতো একটি মালবাহী গাড়ীর মতো সার্ভিস দিয়ে আসছে।

কখনো বাসের মধ্যে প্রবেশ করছে বিভিন্ন ফেরিওয়ালা, কখনো ভিক্ষুক, এভাবে একেরপর এক অনিয়ম করে এক সময়ের এই সুনামধন্য রাজীব বাস সার্ভিসকে নষ্ট করে বাংলাদেশের সবচেয়ে বাজে বাস সার্ভিস হিসেবে পরিণত করছে।

জামালপুর ভোকেশনাল মোড়ের পার্শ্বেই রাজিব কাউন্টার। রাজীব বাসে চলতে এখন অনেকেই বিরক্তবোধ করেন। তাছাড়া উপায়ও নেই, কারণ জামালপুরে রাজীব ছাড়া অন্যকোন বাসও চলেনা। তাই যাত্রীদের বিরক্ত হলেও বাধ্য হয়ে চলতে হয় এই রাজীব বাসে। রাজীব বাসে সিট খালি থাকা পর্যন্ত বাস চলে স্লোমোশনে।

আবার কিছু বলতে গেলেও বাসের লোকদের ব্যবহার ভাল পাওয়া যায়না। যদি কোন ব্যক্তি ভাড়া না বলে উঠে তাদের অবস্থা হয় খারাপ, যা ভাড়া চাইবে তাই দিতে হয়। আর ঈদ আসলে তো কোন কথাই নাই, ভাড়া ডাবল থেকেও বেশি নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেন না। আর তাদের কেউ কোন প্রতিবাদ না করাতে প্রত্যেক বছরই এমনটাই হয়ে আসছে। আর তাদের ব্যবহারে প্রায় যাত্রী ভাড়া বলে উঠেন।

আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত যদি জ্যামে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘন্টা কিন্তু তাদের স্লোমোশনে আরো দুই ঘন্টা সময় বেশি নিয়ে ফেলে। রাস্তায় যেকোন স্থানে ঘন ঘন দাঁড়িয়ে ১০ টাকার ভাড়াটিয়া যাত্রীদেরও তুলে নিচ্ছেন রাজীব বাসে। (ছবিতে- বাসের মধ্যে দাঁড়ানো গার্মেন্টস্ কর্মীদের তোলা ছবি।) আবার একটু সামনে গেলে দেখা যায় একজন ব্যক্তি ৫-১০ মিনিটের জন্য বাস থামিয়ে বাজার করে নিয়ে আসেন। আবার দেখা যায় তাদের সাথে থেকে জামালপুরের কাছে এসে নতুন ড্রাইভারকে দিয়েও গাড়ী চালাচ্ছেন স্লোমোশনে। এই হলো রাজীব বাসের অবস্থা। রাজীব বাসের চালানোর ষ্টাইলে ঝাঁকি খেতে খেতে পিঠের অবস্থা হয় বেহাল।