২ কিলোমিটার রাস্তায় সংস্কারের নামে কোটি টাকা বরাদ্দ, কাজে অনিয়মের অভিযোগ!

মো: নাসির উদ্দিন, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

 

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে গ্রাম সড়ক পূনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে উপজেলার সিরাজকান্দি-নিকরাইল বাজার পর্যন্ত সংযোগের মাত্র ১৯৭৫ মিটার (প্রায় ২ কি.মি.) রাস্তা। এ রাস্তা সংস্কারের জন্য ভূঞাপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর অফিস কর্তৃক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৭১ লাখ ৭২ হাজার ২৯৫ টাকা। আর এই রাস্তা সংস্কারের কাজটি পায় রোহান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মাত্র এই ২ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ কাজের অনিয়মের অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

 

জানা যায়, রাস্তার দু’পাশে মাটি ভরাট, পুরাতন সড়কের বেড চাষ করে পাঁচ ইঞ্চি পুরুত্বের প্রথম শ্রেণীর নতুন খোয়া ও বালু দিয়ে ভরাট, দু’পাশে এজিং স্থাপন, ক্ষতিগ্রস্থ অংশে সাব-বেইজ, আরসিসি প্যালাসাইটিং, ২৫ মি.মি ডেন্স কার্পেটিং সহ অন্যান্য কয়েকটি বিষয়ের জন্য এ অর্থ বরাদ্ধ দেয়া হয়। তবে এসব অধিকাংশ কাজেই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে স্বল্প দুরুত্বের সড়ক সংস্কারে বিপুল অংকের টাকা বরাদ্দ নিয়ে।

 

স্থানীয় হাসান আলী, সাত্তার, ফজলু ও নুরুল হক জানান, রাস্তার পুরনো বেডের বিটুমিন (পিচ) অপসারণ না করে পুরাতন বেডের উপরই করা হচ্ছে পিচ (বিটুমিন) ঢালাই। রাস্তার দু’পাশে মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও তা না করে কিছু জায়গায় বাঁশ ও টিন দিয়ে প্যালাসাইটিং দেয়া হয়েছে। সাব-বেইজে নতুন মালামাল ধরা হলেও তা ব্যবহার করা হয়নি। ৮০ শতাংশ অংশে ৫ ইঞ্চি পুরুত্বের খোয়া বালু দিয়ে ভর্তি করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তারা যে ভাবে কাজ করছে তাতে মনে হয় এই কাজে সর্বোচ্চ ব্যায় হবে ১৫-২০ লাখ টাকা। তারা আরোও বলেন, এরকম কাজ করার থেকে না করাই ভালো ছিলো। আগের রাস্তাটিই এর থেকে অনেক ভালো ছিলো। তাই সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার কাজের অনিয়ম বন্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারী কামনা করেছেন স্থানীয়রা। এসব অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কথা বলতে রাজী হয়নি।

 

ভূঞাপুর এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন জানান, রাস্তাটি যাতায়াতের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছিল। তাই টেন্ডার করানো হয়েছে। এই রাস্তায় সংস্কার কাজে কোন অনিয়ম হয়নি। প্রাক্কলন অনুযায়ী যথাযথ ভাবেই কাজ হচ্ছে।

 

ভূঞাপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর খাঁন জানান, আমার অফিসের লোক দিয়ে সব সময় তদারকি করানো হচ্ছে। ডিজাইন মোতাবেক কাজ হয়েছে। এখানে কোন রকম অনিয়ম করার সুযোগ নেই এবং কাজে যে ব্যয় ধরা হয়েছে তা যৌক্তিক। এর থেকে কম টাকা বরাদ্ধ হলে রাস্তার কাজের মান খারাপ হতো বলে জানান তিনি।