৩৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গির আলম পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

ইমরান হোসাইনঃ

বেশ কিছুদিন যাবৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুদ্ধি অভিযান চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই শুদ্ধি অভিযান তার নিজের দলের লোক থেকে শুরু করেছেন। “ এ্যারোমেটিক ম্যাজিক ল্যাডি” মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, হাইব্রিড নেতা ও দখলবাজদের শক্ত হাতে দমন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উন্নত রাষ্ট্রের শিখড়ে। হাইব্রিড নেতাদেরকেও হুশিয়ারী দিয়ে দমন করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অভিযোগে পদত্যাগ করান।

 

এরপর ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভূঁইয়া ওরফে লেংড়া খালেদকে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র, ক্যাসিনো সরঞ্জামাদি, জুয়া খেলার বিপুল পরিমান টাকা ও মাদক সহ গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনো পরিচালনা, চাঁদাবাজি, টেন্ডাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। খালেদের তথ্য মতে রাজধানীর নিকেতন থেকে যুবলীগের সমবায় সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামিম ওরফে জিকে শামিমকে তার বাসা থেকে বিপুল পরিমান নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা,অস্ত্র ও মাদক সহ গ্রেফতার করা হয়। যুবলীগের পর গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এনামুল হক এনুর কয়েকটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিপুল পরিমান অবৈধ টাকা, স্বর্ণ, মাদক ও অ¯্র উদ্ধার করে। প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে সর্বস্তরের জনগন। শেখ হাসিনা এক বক্তব্যে বলেছেন শুধু ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগই নয় এবার অভিযুক্ত কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধ অ্যাকশন নেওয়া হবে। প্রশাসনের গোপণ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের ৪৪ জন অপরাধী কাউন্সিলরদের তালিকা আছে তাদের কাছে। যেকোন সময় তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে। কাউন্সিলরা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসায়ে সেল্টার, সরকারী-বেসরকারী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল, ক্যাডার বাহিনী দিয়ে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখানো সহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে যাচ্ছে।

 

বাড্ডা থানাধীন ডিএনসিসির ৩৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: জাহাঙ্গির আলমের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক র্নিমূলের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানী করা, মাদক ব্যবসায়ীদের সেল্টার দেয়া, মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের দিয়ে মাদক নির্মূল কমিটি গঠন সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তিনি বাড্ডার রাজনীতিতে হাইব্রিড ও নব্য আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে খ্যাত। ভূক্তভোগীরা কাউন্সিলর জাহাঙ্গির ও তার ভাই আলমগীর সহ তার বাহিনীর এতসব অত্যাচারের কোন সুরাহা না পেয়ে কেউ কেউ এখন মৃত্যু পথযাত্রী। মাছ চাষের নামে কয়েক এক হাজার প্লট দখলের অভিযোগ রয়েছে কাউন্সিলর জাহাঙ্গির আলম ও তার ছোট ভাই আলমগীরের বিরুদ্ধে। তাদের রয়েছে একটি বিশাল ক্যাডার বাহিনী যাদের মাধ্যমে সমস্ত অপকর্ম করে বেড়ায়। আর এ সমস্ত বিষয়ে তাৎক্ষনিক যোগাযোগের জন্য তাদের নিকট রয়েছে কালো রঙের ওয়াকি টকি/ ওয়ারল্যাস। যা দেখলে সাধারণ মানুষ তাদেরকে পুলিশ বা অন্য কোন বাহিনীর সদস্য মনে করে। তাদের এই বাহিনী অনেক সাধারণ মানুষকে অপরাধী বানিয়ে খামারে অবস্থিত টর্চার সেলে নিয়ে মারধর করে থানা পুলিশে সপর্দ করে মামলা দেয়। এ বিষয়ে জাহাঙ্গির-আলমগীরের এই বাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য জিডি, একাধিক মামলায় তাদের রয়েছে জামিন লাভ। তাদের ক্যাডার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে রুমি, বিপুল, মানিক, লিটন, দিপু, আমিরুল ও নজরুল অন্যতম। বিএনপি সমর্থিত জাহাঙ্গির আলম এখন আওয়ামীলীগের ব্যানারে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের মাধ্যমে তার সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

 

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৯ ইং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের নব গঠিত ৩৬টি ওয়ার্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে ৩৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন মো: জাহাঙ্গির আলম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানায় জাহাঙ্গির আলম সিটি নির্বাচনের আগে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সাথে আলোচনার মাধ্যমে তাদের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। তথ্য সূত্রে জানা যায় বাড্ডা থানা বিএনপির এক সময়ের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম কোন এক প্রভাবশালী নেতার তদবীর আর অর্থের বিনিময়ে কৃষক লীগে যোগদানে সুবাধে বাড্ডা থানা কৃষকলীগ সভাপতির পদ বাগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে বর্তমানে বাড্ডা থানা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তারা বাবা হাসান উদ্দিন বাড্ডা থানা বিএনপির সাবেক আহŸায়ক ও বর্তমান বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনরত।

 

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ বাড্ডা থানার ১ নং ওয়ার্ড ইউনিটের সহ সভাপতি ও সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের ভাগিনা হত্যা মামলার আসামী কাউন্সিলর জাহাঙ্গির আলম ও তার ছোট ভাই আলমগীর। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ক্যাম্পগুলো পরিচালনার জন্য আর্থিক খরচ প্রদান করেছেন জাহাঙ্গীর ও আলমগীর বাহিনী। ২০১১ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাড্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপি থেকে নমিনেশন চেয়ে নির্বাচনের প্রচারনা চালিয়েছিলেন জাহাঙ্গির আলম। কাউন্সিলর জাহাঙ্গিরের নির্বাচনি প্রচারনায় একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল। তার সকল কাজকর্ম অধিকাংশ বিএনপির নেতাকর্মীদের দিয়ে পরিচালিত হয়। কাউন্সিলর হওয়ার পর তার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত জহিরুল ইসলাম দিপু হত্যা ও অস্র মামলায় সাজাভোগ করা আসামী বলে জানা যায়। যার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা সহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

কাউন্সিলর জাহাঙ্গির অবৈধভাবে জমি দখল করে মাছ চাষের কারণে অসহায় হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকজন নামকরা শিল্পী সহ কমপক্ষে এক হাজার প্লট মালিক। মাছ তুলতে এলাকার সুতিভোলা খালের কিছু অংশও দখল করেছে। এই বাহিনীটি গত সাত বছর ধরে অবৈধভাবে ভূমিদস্যুতাসহ তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ভূমির মালিকগণ দখলদারদের রাজনৈতিক এবং আর্থিক পেশি শক্তির কাছে অসহায়।অসংখ্য আবাসিক প্লট এবং একটি সরকারী রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে মাছ চাষ শুরু হওয়ার আগে প্লটগুলোতে চাষাবাদ হতো, কিন্তু এখন প্রায় সারা বছরই পানির নিচে থাকে প্লটগুলো, যা এই অঞ্চলের এবং আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য প্রচুর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়ায়।

 

ক্ষতিগ্রস্থরা ঢাকা ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ডিএমপি গুলশান বিভাগ ও বাড্ডা থানায় বিভিন্ন সময় সহায়তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরী ও অভিযোগ দায়ের করেছেন, তবে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত জাহাঙ্গির-আলমগীরদের পিতা হাসান উদ্দিন ছেলের বিরুদ্ধে দখল করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আলমগীর তাদের নিজস্ব জমিতে মাছের খামার গড়ে তুলেছে। একুশে পদক বিজয়ী সংগীতশিল্পী খুরশিদ আলম তার স্বপ্নের বাড়িটি গড়ে তুলতে প্রায় ২০ বছর আগে ওই অঞ্চলে পাঁচ কাঠা জমি কিনেছিলেন। সেই জমিতে বাড়ির নির্মান কাজ করতে গেলে অবৈধ দখলদাররা তাদের নির্মান কাজ বন্ধ রাখার জন্য হুমকি ধামকি প্রদান করে।

 

এ বিষয়ে খুরশিদ আলম বলেন, “রাজধানীতে নিজের একটি বাড়ি থাকা এবং বাড়ি ভাড়া বাঁচানোর স্বপ্ন নিয়ে আমি পূর্ব বাড্ডার আরশিনগরে জমিটি কিনেছিলাম। কিন্তু ভূমিদস্যু দখলবাজরা এতই শক্তিশালী যে আমার জমিতে গিয়ে আমি দাড়াতেও পারছিনা। তাই আমি এলিফ্যান্ট রোডের ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হয়েছি। আমি যখন প্লটটি কিনেছিলাম তখন শুকনো মৌসুমী ফসলের চাষ হত, তবে এখন জমিটি বর্ষাকালে এমনকি শুষ্ক মৌসুমেও পানির নিচে থেকে যায়। জমি দখলদারদের খপ্পর থেকে জমি মুক্ত করার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, তবে সকল চেষ্টা নিরর্থক ”যন্ত্রণা সহকারে জনপ্রিয় গায়ক বলেছিলেন। আরেক প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মিনা বড়–য়া প্রায় ৩০ বছর আগে একই এলাকায় ছয় কাঠা জমি কিনেছিলেন। তার স্বামী গায়ক ধর্মদর্শী বড়–য়া অভিযোগ করেছেন যে কাউন্সিলর জাহাঙ্গিরের ক্যাডার বাহিনী তাদের জমিটি মাছ চাষের জন্য দখল করেছে। কবি ও সংগীত রচয়িতা মনসুর জোয়ার্দারের জামাতা চৌধুরী নুরুল হুদা, যিনি সেখানে এক টুকরো জমি রেখেছিলেন, প্রতিদিনের সূর্যকে বলেছিলেন যে একদল লেখক ও গায়ক এই অঞ্চলে প্রায় ৫০০ বিঘা জমি কিনেছিলেন এবং এর নাম রাখেন আরশিনগর। হুদা বলেছিলেন, “দখলদাররা এই অঞ্চলে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী এবং আমাদের অভিযোগ সম্পর্কে কোন অভিব্যক্তি দেয় না।” মুক্তিযোদ্ধা ও ভুক্তভোগী আব্দুল আউয়াল বলেছেন, তারা সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম রহমত উল্লাহর সাথেও যোগাযোগ করেছিলেন এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। তাদের অভিযোগের চিঠিতে দেখা গেছে, হাজী হাসান উদ্দিন নামে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলে ৩৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গির আলম ও আলমগীর তার ভাড়াটে কর্মী বিপুল, হাফিজ, রুমী ও অন্যরা মাছ চাষের জন্য জমি দখল করেছিলেন।

 

হাসান উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করেন । ২০১৬ থেকে ২০১৮ এর মধ্যে বাড্ডা থানায় কমপক্ষে ২৫ টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। স্থানীয় লোকজন জানান, বর্ষাকালে জল খাল হিসাবে স্থবির হয়ে যায় যেখানে দখলদারদের ব্যারাজ তৈরির মাধ্যমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ওয়াসার মতে, সুতিভোলা খাল ৩,৬৮০ মিটার দীর্ঘ এবং ১৫ থেকে ২০ মিটার প্রশস্ত। সরজমিনে দেখা যায় আফতাব নগর থেকে পূর্ব বাড্ডা হয়ে সাতুরকুল এবং বেরাইদ অঞ্চলে মাছের চাষ চালাচ্ছে জাহাঙ্গির ও আলমগীরের ক্যাডার বাহিনী। কৃত্রিম বাঁধ সৃষ্টির মাধ্যমে পুরো অঞ্চল গভীর জলের নিচে থাকে বার মাস। ওয়াকি টকি/ওয়ারল্যাস সহ খামারে নিয়োজিত ক্যাডার বাহিনীর সদস্যদের মাছ ধরতে দেখা গেছে। হাতিরঝিল-রামপুরা খাল থেকে সুতিভোলা খালের একটি শাখা আফতাব নগর হয়ে সাতারকুলের সাথে মিলিত হয় এবং অবশেষে বালু নদীর সাথে সংযুক্ত হয়। বাশ ও জাল দিয়ে তৈরি বাঁধটি আফতাব নগর স্টিল ব্রিজের নিকটে খালের মধ্যে পাওয়া গেছে কেবল দু’ মিটার উত্তরে বালির স্তুপ যা খালের স্বাভাবিক প্রবাহকে থামিয়ে দেয়।আফতাব নগর বালুর মাঠ থেকে পূর্ব বাড্ডা কবরস্থান রোড পর্যন্ত ওই অঞ্চলের পানির নিষ্কাশন অবরুদ্ধ করে মাছ চাষীদের জন্য নিজস্ব একটি মিনি রাস্তা নির্মান করেছে এই বাহিনী। অন্যদিকে এই বাহিনী তাদের খামার সম্প্রসারণ এবং তাদের মাছ ধরার নৌকা চলাচলের সুবিধার্থে সরকারী রাস্তার একটি অংশ ধ্বংস করে দেয়।খালের মধ্যে বাঁশ ও জাল দিয়ে আরও একটি ব্যারেজ তৈরি করা হয়েছে তারা যে অস্থায়ী রাস্তাটি তৈরি করেছিলেন তার কয়েক গজ দূরে। এই বাহিনীটি রূপনগরে আরেকটি বাঁধ এবং সাতরকুল ব্রিজের কাছে আরও একটি বাধ তৈরি করে।বর্ষাকালে বাধঁগুলির মুখে জাল রেখে কেবল খোলা হয় যাতে মাছ দূরে সরে না যায়। তবে শুকনো মৌসুমে বাধেঁর মুখ বালুর ব্যাগ দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়।

 

বর্ষাকালে স্থানীয়দের নৌকায় করে পয়েন্টটি পাড় হতে হয়। তবে এখন জায়গাটি বালির ব্যাগে ভরে গেছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা এই প্রতিবেদককে বলেছেন প্রতিদিন ৫৪ জন লোক এই খামারে কাজ করেন। হাসান উদ্দিনের ছেলে কাউন্সিলর জাহাঙ্গির পরিচালিত বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টে অবৈধ ভাবে দখল করা জমির উপর নির্মিত মাছ বাজারে/ফিস আড়দে মাছগুলো বিক্রি হয়। বাংলাদেশ বদ্ধ ফেডারেশনের নির্বাহী সভাপতি অশোক বড়–য়া জানান, আমাদের জমিতে হাসান উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গির ও আলমগীর বাধঁ তৈরি করে মাছ চাষ করছেন। আগে আমাদের জমিতে ধান জন্মেছিল। তবে এখন তাদের মাছ চাষের জন্য জমিটি পানির নিচে রয়েছে। তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলেনা, বললেই তাদেরকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করা হয়, মারধর করা হয়। পূর্ব বাড্ডা আরশী নগর ভূমি মালিক সমবায় সমিতির নেতা হাফিজুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গিরদের সেখানে এক বা দুই বিঘা জমি রয়েছে, তবে তারা অন্য ব্যক্তির সম্পত্তিতে সাইনবোর্ড বসিয়েছে।জমির মালিকগণ তাদের জমি পূনরুদ্ধারের জন্য পূর্ব বাড্ডা আরশি নগর ভূমি মালিক সমবায় সমিতি, গুলশান সোসাইটি এবং পূর্ব বাড্ডা ডাউকান্দি সমবায় সমিতি গঠন করেও কোন সুরাহ পান নাই।

 

২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর নুরুল আলম বাদি হয়ে একটি জিডি দায়ের করে বলেছিলেন যে, তিনি ঐ এলাকায় জমিতে বাড়ি তৈরির সময় নজরুল মানিক ও আলমগীরের সহযোগী আমিনুল বাড়িটি তৈরির বিরোধীতা করেছিলেন এবং তাকে মারধর করে ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। স্থানীয়দের পক্ষে, আব্দুল আউয়াল, একেএম সৈয়দ আহমেদ, অশোক বড়–য়া, শফিকুল ইসলাম এ্যাড. মাহমুদুল করিম রতন, আক্তার হোসেন ও রফিকুল আজম থানায় একটি সাধারণ ডাযেরী করেছেন গত ২ নভেম্বর। জিডিতে তারা বলেছিল যে তারা ১ নভেম্বর ২০১৮ এ যখন তাদের জমি ও খালের বাধঁগুলি সরিয়ে দিতে গিয়েছিল, রুমী, বিপুল, হাফিজ, মানিক এবং আরও অনেকে তাদের উপর শারীরিক নির্যাতন করেছিল এবং বাধঁগুলি অপসারণ করার চেষ্টা করলে তাদের ভয়াবহ পরিনতি হবে বলে হুমকি দিয়েছে। এ ব্যাপারে কাউন্সিলর জাহাঙ্গিরের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। ওয়াসার পরিচালক (টেকনিক্যাল) একে.এম শহিদ উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অবৈধ ভাবে মাছের চাষ হচ্ছে। আমরা তাদের মাছ তোলার অনুমতি দেই নি এবং আমরা বাধঁগুলো সরিয়ে দেব। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামীলীগের সভাপতি একে এম রহমত উল্লাহ বলেন, কাউন্সিলর জাহাঙ্গির আলম পূর্বে কখনো আওয়ামীলীগ করেনি, আর প্রকৃত পক্ষে তিনি আমার প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেউ নয়। কবে, কখন, কিভাবে কৃষকলীগে প্রবেশ করে থানা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হয়েছে তাও আমার জানা নেই। সে হাইব্রিড ও নব্য আওয়ামীলীগ।

 

কাউন্সিলর জাহাঙ্গির আপনার কোন আত্মীয় কিনা জানতে চাইলে, তিনি বলেন ওনি আমার কোন আত্মীয় নয়। সাবেক বাড্ডা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজি এমদাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কখনও তাকে আওয়ামীলীগ করতে দেখি নাই। কাউন্সিলর জাহাঙ্গিরের পরিবারেরর ভূমিদস্যুতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের আরও তথ্য থাকছে আগামী সংখ্যায়