বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

৪ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বেকার ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • ৭ Time View

সিরাজুল ইসলাম, অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধিঃ
কমিউনিটি ব্যাংক ব্যবস্থার ধারণা দিয়েছেন অভয়নগরের চলিশিয়া গ্রামের মাহাবুবুর রহমান যা ফলপ্রসু বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। দেশে এমনিতেই ৪ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বেকার, তার ওপর এ সমস্যা আরও প্রকট হবে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম।
কাজেই সরকারের শীর্ষমহল ও শ্রম-শিল্প-কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি নিয়ে যে আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশে বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি মন্দা হওয়ার কারণে নতুন শিল্প-কারখানা তৈরি হচ্ছে না। আর বেসরকারি উদ্যোগে শিল্প-কারখানা গড়ে না উঠলে কাক্সিক্ষত কর্মসংস্থান তৈরি হবে না এবং বেকারের বোঝা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। কারণ মোট কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশেরই জোগানদাতা বেসরকারি খাত হলেও বিনিয়োগ না থাকায় এ খাতে বর্তমানে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না বললেই চলে। শীর্ষস্থানীয় ৮০জন ব্যবসায়ীর মতামতের ওপর ভিত্তি করে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদনের তথ্যকে হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে বেকারত্ব হ্রাস ও কাক্সিক্ষত কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে এখনই পদক্ষেপ নেয়া দরকার। জানা যায়, বর্তমানে দেশে কর্মক্ষম ৪কোটি ৬৬ লাখের বেশি মানুষ বেকার হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিসংখ্যান ব্যুরো বিশ্ব শ্রম সংস্থার (আইএলও) একটি সংজ্ঞা ব্যবহার করে মাত্র ২৬ লাখ বেকার দেখিয়েছে। অথচ ওই সংজ্ঞা অনুযায়ীই দেশে সাড়ে ৪ কোটি মানুষ কর্মে যুক্ত নয়। কর্মক্ষম হয়েও যারা কর্মে যুক্ত নয়, তাদের বেকার না দেখানো কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বেকারত্ব একটি চলমান সমস্যা। বাংলাদেশেও ব্যাতিক্রম নয়। এখানে শিক্ষিত বেকারের হারই সবচেয়ে বেশি। এ অবস্থায় বেকারত্ব কমিয়ে আনতে হলে সুষ্ঠু বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি শিল্প-কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। ওয়ানষ্টপ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। ওয়ানষ্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে সব সেবা এক ছাদের নিচে পাওয়ার যে দাবি ব্যবসায়ীদের, তা এখনও পূরণ হয়নি। দ্রুত এটি পূরণের উদ্যোগ নিতে হবে। দূর করতে হবে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো সংকট। শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যামান দীর্ঘসূত্রতা-জটিলতা দূর করতে হবে। স্বল্প সুদে দ্রুত ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রেখে সরকারের অংশীদার হিসেবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তারা যেন কোনো ধরনের হয়রানির মুখে না পড়েন, সেটাও নিশ্চিত করা দরকার। মনে রাখতে হবে, বেকারত্ব কমানো দরকার দেশের সার্বিক কল্যাণের স্বার্থেই। মানুষ বেকার থাকলে পরিসংখ্যানে সেটা কম দেখালে লাভের বদলে ক্ষতি হওয়ারই আশংকা থাকে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ দেড় বছরে ১৪ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। অথচ তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর একটি চাকরির বিজ্ঞাপনের বিপরীতে যে হারে উচ্চশিক্ষিতরাও আবেদন করেন, তাতে এ দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সরকারের শীর্ষ মহলের উচিত এসব বিষয় খতিয়ে দেখা। কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ার পেছনের কারণগুলো দূর করা সম্ভব হলে কম বেকারত্ব দেখানোর জন্য আইএলও’র সংজ্ঞার কাছে যেতে হবে না, সবাই খালি চোখেই পরিস্থিতি বিচার করতে পারবে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের উচিত দ্রুত বিষয়টি উপলব্ধি করা এবং কমিউনিটি ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রবর্তন করা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এই সাইটের কোন লেখা কপি পেস্ট করা আইনত দন্ডনীয়

Headlines