Amar Praner Bangladesh

অটোরিক্সা থেকে অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজি

 

 

মোঃ আনোয়ার, শ্রীপুর থেকে :

 

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার গড়গড়িয়া মাষ্টার টু শ্রীপুর রোডে শতশত অটোরিকশা চলাচল করে। এসব অটোরিকশা থেকে অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজি করছে একটি প্রভাবশালী মহল! এমন তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঁদাবাজির এক ব্যতিক্রমী পদ্ধতি। অটোরিকশা প্রতি ১০ টাকা করে চাঁদা নেয়ার তথ্য গোপন রাখার শপথ করিয়ে স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর করানো হয়েছে চালকদের। স্বাক্ষর নেয়া চালকদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে!

পাওয়া গেছে ঐ স্ট্যাম্পে টাইপ করে লিখিত অঙ্গীকার নামা যা কম্পিউটার কম্পোজের দোকান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে যা লিখা রয়েছে তা হুবহু তুলে ধরা হলো। “অঙ্গীকার নামা, আমরা সমস্ত অটোরিকশা ড্রাইভারগণ স্ব- ইচ্ছাকৃত ভাবে একমত হয়ে প্রতিদিন দশ(১০) টাকা করে জমা প্রদান করার অঙ্গিকার বদ্ধ হই। যাতে অটোরিকশা সিরিয়াল ঠিক মত সাইড করে মেন্টেইন করার কাজে সহযোগিতা হয়। কোনো ভাবে সাধারণ পথযাত্রির বা দোকানদারগণের কোনো প্রকার অসুবিধা না হয়।

এই টাকা দায়িত্বরত থাকা ব্যক্তির জন্য ব্যবহার করা হইবে। এই টাকা আমরা কোনো প্রকার চাঁদা হিসাবে মনে করিনা, বা কোনো প্রকার চাপ প্রয়োগ বলে মনে করিনা। আমরা সকল অটোরিকশা ড্রাইভারগণ সকলে একত্রিত হয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং নিজেদের মধ্যে আইন মেনে চলার অঙ্গীকারবদ্ধ হই, এতে কাহারো কোন ওজর আপত্তি থাকবেনা বা করিতে পারিবেনা।

আমরা সকল অটোড্রাইভারগণ উপস্থিত হয়ে অঙ্গিকারনামায় স্বাক্ষর করিলাম। কথা হলো স্বাক্ষর এবং চাঁদা দেয়া কয়েকজন চালকের সাথে, তারা জানায় এখানে তিনশত অটোরিকশা তালিকায় রয়েছে যারা প্রতিদিন ১০ টাকা চাদা দিচ্ছে। অর্থাৎ দৈনিক চাঁদা উঠছে ৩ হাজার টাকা, যা মাসে গিয়ে দাঁড়ায় ৯০ হাজার টাকা। প্রশ্ন হলো – সিরিয়াল দেয়ায় নিয়োজিত ব্যক্তি যদি মাসে ২০ হাজার টাকা পায় তবে বাকী ৭০ হাজার টাকা কোথায় যায় বা কারা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় মার্কেট মালিক আবুল কালাম মোবাইলে জানান তিনি এ বিষয়ে তেমন কিছু জানেননা, তবে শুনেছেন অটোরিকশা ড্রাইভারগণ একটা সমিতি করেছে। সমিতির নাম কি, অফিস কোথায় এবং কমিটিতে কারা আছে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান। তিনি জানান এসব আমার কাজ নয়, সাব্বির নামে একজন ওনার মার্কেটে ব্যবসা করে সে এসব দেখাশোনা করে। সাব্বির মোবাইলে জানান, তার কাছে ১০১ জনের নাম ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার সহ অটোচালকদের একটা তালিকা আছে। দৈনিক যা আসে তা সিরিয়াল ম্যান নিজে খরচ করে। এর বেশি তিনি কিছু জানেননা। তিনশত অটোরিকশার চাঁদা দেয়া টাকা কোথায় যায়, কারা কারা পায় তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব আমি জানিনা। আপনি চাইলে অটোরিকশা ড্রাইভারদের সাথে কথা বলতে পারেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা খলিল মিয়া নামে অপর এক মার্কেট মালিকের সাথে কথা হয়, তিনি জানান অটোরিকশা সিরিয়াল ম্যানের জন্য উভয় পাশের দোকানদারদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে তুলে আগে খরচ দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। তখন কোনো সমস্যা হয়নি। এখন আমি দায়িত্বে নাই, তবে শুনেছি গোপন চুক্তিনামায় স্বাক্ষর নিয়ে অটোরিকশা ড্রাইভারদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। চালকদের মুখ খুলতে নিষেধ করা হয়েছে, মুখ খুললে এখানে অটোরিকশা চলতে দিবেনা বলেও তাদের সাবধান করেছে। কারা করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন স্থানীয় সমস্যা রয়েছে আমি বলতে পারবোনা। কতোগুলো অটোরিকশা চলে এখানে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কমপক্ষে পাঁচশ অটোচলে। ওদের দেয়া চাঁদার ভাগাভাগি কিভাবে হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব প্রশাসন খুজে দেখুক, আমাকে এসবে জড়াবেননা ভাই।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাব্বিরকে ব্যবহার করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এসব চাঁদা তুলছে। প্রশাসনের উচিত তাঁকে ধরে জিজ্ঞেসাবাদ করা, তাহলেই পেছনে যারা রয়েছে তাদের ধরা যাবে। এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌর সভার মেয়র আনিসুর রহমান বলেন, এমন অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজি হতে পারে তা আমার ধারণায়ই ছিলো না। আমার পৌরসভার ভেতর কিছুতেই চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবেনা। যারা এসবের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।