Amar Praner Bangladesh

অর্থের অভাবে দিনাজপুর মেডিকেলে পড়া কি বন্ধ হয়ে যাবে সনাতনের ?

বোচাগঞ্জ(দিনাজপুর) প্রতিনিধি

দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬নং রনগাঁও ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রামের অসহায় দরিদ্র রাজমিস্ত্রি শুভ চন্দ্র রায়ের ছেলে সনাতন চন্দ্র রায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে চান্স পেলেও পড়াবার সামর্থ্য নেই তার দরিদ্র পিতা মাতার। এমতাবস্থায় সনাতনের মেডিকেল কলেজে পড়া কি বন্ধ হয়ে যাবে? অসহায় দরিদ্র পিতার পক্ষে তার পড়ালেখার খরচ চালানো সম্ভব নয়।

শত অভাবের মধ্যেও লেখাপড়া করে সনাতন চন্ডিপুর এম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে এস,এস,সি ও ২০১৯ সালে সেতাবগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচ,এস,সি পরীক্ষায় পাশ করে। এরপর সে ছোট বেলার স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার জন্য শুধুমাত্র মেডিক্যালেই ভর্তির আবেদন করে। এজন্য সে অন্য কোথাও আর ভর্তির আবেদন করেনি। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় সনাতন ২৭৩৩ সিরিয়াল নিয়ে দিনাজপুর এম, আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়। তবে তার অসহায় দরিদ্র পিতার পক্ষে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা সম্ভব নয়। মেধাবী সনাতন চন্দ্র রায়ের পিতার শেষ সম্বল একমাত্র গরু বিক্রি করে ছেলেকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকের (দিনাজপুর মেডিক্যাল) কলেজে ভর্তি করালেও তার ভবিষ্যত লেখাপড়ার খরচ নিয়ে শংসয় প্রকাশ করেন তিনি । নিজ বাড়ীর ভিটেমাটি ছাড়া কোন জমিজমা নেই তার। দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সনাতন চন্দ্র রায় বড়।

 

সনতানের ছোট বেলার স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার তাই খেয়ে না খেয়ে কষ্ট করে সনাতন সহ অন্য দুই ভাইবোনের লেখাপড়ার খরচ বহন করতে হয় পিতা শুভ চন্দ্র রায়কে। রাজমিস্ত্রি কাজ করলেও অনেক সময় হাতে কাজ থাকেনা তার জন্য সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় সনাতনের গ্রামের মানুষ সহ আশপাশের মানুষজন ভীষন খুশি। তার পরিবারের পিতা-মাতা, ভাই-বোন,দাদা, দাদি সহ আত্মীয় স্বজনরা খুশি হলেও সনাতনের স্বপ্ন পুরনে এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। মেডিক্যালে পড়তে অনেক খরচ।

 

একদিকে সংসারের খরচ অন্যদিকে লেখাপড়ার খরচ কোন দিকে সামাল দিবেন অভাবী পিতা এই চিন্তায় আছেন সনাতন চন্দ্র রায়। সমাজের কোনো স্বহৃদয়বান ব্যক্তি এই মেধাবী ছাত্রটিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিলে তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন মুখ থুবওে পড়বে।