Amar Praner Bangladesh

অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী বেকুটিয়া সেতুর আগামীকাল উদ্বোধন

 

 

আল-আমিন হোসাইন, পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ

পিরোজপুরের কচা নদীর ওপর নির্মিত অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী বেকুটিয়া সেতু উদ্বোধনের দিন গণনা শেষ। আগামীকাল ৪ সেপ্টেম্বরই দ্বার খুলতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের স্বপ্নের এই সেতুর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির উদ্বোধন করবেন। কাউখালীর বেকুটিয়া ও পিরোজপুরের কুমিরমারা পয়েন্টে কঁচা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সেতু।

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি চালু হলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন হবে। এই বেকুটিয়া সেতু দক্ষিণাঞ্চলের দুই বিভাগকে এক করে দিয়েছে। সেতুটি চালু হলে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, পায়রা ও মংলা সমুদ্র বন্দর এবং বেনাপোল ও বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরকে সরাসরি সড়ক পথে সংযুক্ত করবে।

এ অঞ্চলে ২১টি জেলার সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও যাতায়েতের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু। দৃষ্টিনন্দন সেতুটি দেখতে প্রতিদিন কৌতূহল মানুষের ঢল নামে। চীনা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরকালে ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর অষ্টম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু নির্মাণে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর দু’বছর পরে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর ‘প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট বক্স গার্ডার’ ধরনের এ সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কঁচা নদীর ওপর প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৮৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬৫৪ কোটি টাকা গ্র্যান্ড অনুদান দিয়েছে চীন সরকার। বাকি ২৪৪ কোটি টাকার জোগান দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মূল সেতুটির উভয় প্রান্তে ৪৯৫ মিটার ভায়াডাক্টসহ সর্বমোট দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় কিলোমিটার। ১৩.৪০ মিটার প্রস্থের সেতুটির পিরোজপুর ও বরিশাল প্রান্তে এক হাজার ৪৬৭ মিটার সংযোগ সড়কসহ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে আরো দু’টি ছোট সেতু ও বক্স কালভার্ট নির্মিত হয়েছে।

কঁচা নদীর সর্বোচ্চ জোয়ার থেকে ৬০ ফুট উচ্চতায় নির্মিত সেতুটির তলদেশ দিয়ে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর এবং বরিশাল ও খুলনা নদী বন্দরে পণ্য ও জ্বালানিবাহী বড় ধরনের নৌযান চলাচলও নির্বিঘ্ন থাকবে। পাশাপাশি নৌবাহিনীর ফ্রিগেটসহ যেকোনো ধরনের জাহাজ চলাচলেও কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকছে না। নদীর মধ্যভাগে সেতুটির সবচেয়ে প্রশস্থ স্প্যানটিতে ১২২ মিটার এলাকা নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।