Amar Praner Bangladesh

আব্দুল্লাহ্পুর থেকে তেরমুখ কচ্ছপের গতিতে রাস্তার কাজে জনদুর্ভোগ তুঙ্গে উঠেছে

 

(লোকাল এমপি-কাউন্সিলর সবার মুখ বন্ধ, এসব এলাকায় বসবাসরত মানুষের বেহাল অবস্থা। নামে মাত্র রড দিয়ে রাস্তার দু’পাশে পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণ না করেই চলছে রাস্তা ঢালাই, এখনই পানি জমছে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।)

 

প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্ক :

 

বর্তমান সরকার উন্নয়নের বিষয়ে আপসহীন হলেও রাস্তা নির্মাণে বড় বড় বাজেট দিলেও সরকারের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন অসাধু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানরা মিলে নামে মাত্র কাজ করে কোটি কোটি টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে উত্তরখান থানার শেষ মাথা তেরমুখ ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় আট থেকে দশ কিলো রাস্তায় চলছে সংস্কারের কাজ। এই কাজের ঠিকাদার আবেদ মনসুর। তাকে কাজ চলাকালীন সময় অদ্যবধি হারিকেন দিয়েও খুজে পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত তার চেহারা কেউ দেখিনি। সড়ক ও জনপথে এ বিষয় নিয়ে ফোন দিলে কর্মকর্তারা বিভিন্ন তাল বাহনা করে মূল বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

এখানে রড দিয়ে ঢালাই করে মজবুত নির্মাণকৃত রাস্তার কাজ হওয়ার কথা থাকলেও মূলত হচ্ছেটা কি? কিন্তু বিষয়টি শুধুমাত্র লোক দেখানো কাজ চলছে, নামে মাত্র রড দিয়ে যে পরিমাণ রড দিয়ে বাধাই দেয়ার কথা ছিল তার চেয়ে অনেক কম রড দিয়ে বেশী বেশী ফাঁক রেখে নিম্নমানের শুল্কি সিমেন্ট দিয়ে রাস্তা ঢালাই দিয়ে কাজ করছে অসাধু ঠিকাদার। তারপরেও গত কয়েক বছর ধরে চলছে এই কাজ, এখনো রয়েছে খানাখন্দ, রয়েছে উঁচু-নিচু জায়গা।

এখানে কাজ হয়েছে, সেখানে হয়নি আবার ঢালাই দিচ্ছে কোথাও আবার রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবন্ধকতা করে রেখেছে কোথাও। সকাল-বিকাল, রাত-সন্ধ্যা সব সময় থাকছে গাড়ির সারি সারি যানজট ভোগান্তি জনদুর্ভোগ মানুষের সমস্যা, স্কুল-কলেজ মাদ্রাসায় যাতায়াত করা ছেলেমেয়েদের চরম দুর্ভোগের শেষ নেই। কোথাও অটোরিকশা পড়ছে বেঁকে, কোথাও জাম্প দিচ্ছে, কোথাও এক অটোরিক্সার পিছনে অন্য অটোরিকশা লাগিয়ে দিচ্ছে, ঘন্টার পর ঘন্টা থেমে থাকছে গাড়ি, চলে না চাকা।

এ যেন অন্যরকম এক পৃথিবী আব্দুল্লাহপুর থেকে তেরমুখ এই এলাকার মানুষরা রয়েছে চরম কষ্টের মধ্যে। রাস্তা ঘেষে জিয়াবাগে পলমল গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ তুলছে প্রাচীর। ফুটপাতে হাটার জায়গাও নেই। ঢাকা-১৮ আসনের এমপি আলহাজ্ব হাবিব হাসান এসব এলাকার কাউন্সিলর সবাই দেখছে কিন্তু কেউ কিছু বলছে না। রহস্যজনকভাবে সবার মুখ বন্ধ, বছরের পর বছর মানুষের কষ্ট দেখেও এসব জনপ্রতিনিধিদের কিছু না বলাটা একটি অশনি সংকেত ছাড়া অন্য কিছু নয় বলে জানায় এলাকার লোকজন।

এই রাস্তার ঠিকাদারকে অদ্যবধি তার চেহারা কেউ দেখেনি সংবাদ প্রকাশের নিমিত্তে অনুসন্ধানে নামলে প্রায় ১৫ দিন চেস্টা করেও ঠিকাদারের ছবি পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নাম্বার কোথায় থাকে কেউ জানে না, অথচ কোটি কোটি টাকার কাজ চলছে এখানে। এ যেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে দে মা চেটে পুটে খাই, দেখার কেউ নাই। উত্তরখানে বসবাসরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভদ্রলোক দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে জানান, আমি এই রাস্তার কাজ সম্পর্কে জানি, এই রাস্তার কাজটাই নিতে এমপি কাউন্সিলরকে অনেক মোটা অংকের টাকা ঘুষ দেয়া লাগছে, যে কাজ করছে তাতে বাজেটের ফিফটি পার্সেন্ট খরচ হচ্ছে না।

দুদকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর যদি খোঁজ খবর নেয় বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। খেয়াল করে দেখবেন রাস্তার দু’পাশে কোন নালা করা হয়নি, তাহলে বৃষ্টির পানি যাবে কোথায়? যে কাজ করেছে এখনই নতুন রাস্তায় জায়গায় জায়গায় পানি জমে থাকে, এখনই যদি এই অবস্থা হয় ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এই একই ঠিকাদার তেরমুখ ব্রীজ করার পরে ব্রিজের পিলার হেলে পড়লে আবার নতুন করে কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি রহস্যজনক খতিয়ে দেখা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে, এমনটাই স্থানীয় মানুষের মন্তব্য।

কিছুদিন পর আবার ক্ষমতাসীন দলের কেউ এই রাস্তার দুই পাশে নালা করা প্রয়োজন হবে বিদায় নতুন ভাবে বাজেট পাস করিয়ে আবার খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে মানুষের দুর্ভোগ রাখবে সারা জীবন। সম্পূর্ণ কাজটাই একটি মাস্টার প্ল্যান করে একবারেই করতে পারতো। কর্তৃপক্ষ তাহলে কেন এই টম এন্ড জেরির খেলা চালাচ্ছে মানুষের জীবনযাপন মানুষের যোগাযোগের ব্যবস্থাকে জিম্মি করে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সোপানে কোন দুর্নীতি চলবে না, সকল অপরাধীরা আসবে আইনের আওতায়, এমনটাই প্রত্যাশা সবার। আগে সোনার বাংলা। পরে অন্য সব। সাধু সাবধান।