Amar Praner Bangladesh

আরপিজিসিএল’র মহা ব্যবস্থাপক গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আলআমিন তালুকদার:

দেশের মূল্যবান সম্পদ প্রাকৃতিক গ্যাসের বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যানবাহনে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে বায়ু দূষণরোধসহ পরিবেশ সুরক্ষায় এবং জ্বালানি আমদানির নির্ভরতা হ্রাসের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের জন্য ০১ জানুয়ারি ১৯৮৭ তারিখে ‘কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড’ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে কোম্পানির কর্মপরিধি বৃদ্ধির ফলে ০৯ ফেব্রæয়ারি ১৯৯১ তারিখে কোম্পানির এ নাম পরিবর্তন করে ‘রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড’ (আরপিজিসিএল) নামকরণ করা হয়।

 

যানবাহনে সিএনজি ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ, বাংলাদেশে সিএনজি (সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস) জ্বালানি নির্ভর পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণ, তদারকি, বাণিজ্যিকভাবে এর পরিচালন, সম্প্রসারণের দায়িত্ব প্রদানসহ সিলেটের গ্যাস ক্ষেত্রসমূহে প্রাপ্ত কাঁচামাল এনজিএল-কনডেনসেট হতে এলপিজি (তরলকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস), পেট্রোল ও ডিজেল উৎপাদন, পরিবহন-বিতরণ এবং এলএনজি সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব কোম্পানির উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। আর এসব সংকোচিত মহামূল্যবান সম্পদের বানিজ্যিক ভাবে ব্যবহার অবকাঠামো নির্মাণে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোটি কোটি টাকার ব্যয় দেখিয়ে অধিকাংশ অর্থই গিলে খাচ্ছে কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি প্রকল্প গিলে খাওয়া দুর্নীতিবাজ উলু পোকা দমনে শূদ্ধী অভিযানের ঘোষণা দেন।

 

সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ব পালনে এক দল অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দল দূর্নীতিবাজ উলু পোকাদের সন্ধানে নামলে খোঁজ মেলে খিলক্ষেত আরপিজিসিএল এর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরীর। কোটি কোটি টাকা দূর্নীতি করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় উত্তরা চালাবন্দ জমুরুদ্দিন রোড হাজি পাড়া এলাকায় দূর্নীতির অর্থে ২০০৫ সালে ৪ কাঠা জায়গার উপর নির্মাণ করছেন বহুতল ভবন যার ৮০ শতাংশ কাজ শেষ। উত্তরা বাড়ি- ২৩, রোড নং ৩/এফ, সেক্টর ৯ একটি ফ্ল্যাট ৪ টি গাড়ি সহ নিজ জন্মস্থান দিনাজপুরে রয়েছে একটি পেট্রোল পাম্প এবং নামে বেনামে রয়েছে অসংখ্য অর্থ সম্পদ। উল্লেখ্য সম্পদের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি খুব শীঘ্রই পদন্নতি পাবো বলে কিছু কুচক্রী ব্যক্তি ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার পদন্নতি ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তবে এই বাড়িও ফ্ল্যাট নিজের বলে স্বীকার করেন এবং গাড়ি অফিসের ও তার কোন পেট্রোল পাম্প নাই বলে স্বীকার করেন। ক্রয়কৃত জমির মূল্য জানতে চাইলে তিনি জানান কাঠা প্রতি ৯/১০ লক্ষ টাকা হবে তবে সঠিক মনে নেই।

 

১৯৯৩ সালে চাকরীতে যোগদান করে ২০০৬ সালে একটি ফ্ল্যাট ও ২০০৫ ইং সালে ১০ লাখ টাকা দরে ৪ কাঠা জমি ক্রয় করা এবং বর্তমানে এই পদবীতে কর্মরত বেতনের অর্থে আয় ব্যয় হিসেব করে সাংসারিক চাহিদা মিটাতে হিমসিম খাওয়া উচিত অথচ কোন অনাটোনের ছোঁয়া তো লাগেই নি বরং গড়েছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। বর্তমানে নির্মাণাধীন ৭ তলা ভবনের বিষয়ে বলেন ব্যাংক থেকে ৮০ লাখ টাকা লোন করা অর্থে নির্মাণ কাজ চলছে কিন্তু ভবন নির্মাণ কারী বিশেষজ্ঞদের মতে ৪ কাঠা জায়গার উপর ৭তলা ভবন নির্মাণের জন্য পাইলিং ফাউন্ডেশন সহ অন্যান্য কাজে সর্বনিম্ন খরচ হবে ৫০ লাখের উপরে আর প্রতি তলায় খরচ হবে ৩০ লাখের উপরে । তাহলে বিশেষজ্ঞদের মতে একমত হয়ে হিসেবে দেখা যায় তার বাড়ী নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ও অন্যান্য খরচ বাবদ আরো ২০ লাখ তাহলে ব্যাংক লোনের টাকায় এই ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা কি ভাবে সম্ভব তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে গিলে খাওয়া দুর্নীতিবাজ উলু পোকাদের দমনে যে শুদ্ধি অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন তাতে এই ধরনের উলুপোকাদের অবৈধ অর্থে নামে বেনামে গড়া অঢেল সম্পদের হিসাব নিকাশ যাচাই-বাছাই না করে পদন্নতি দিলে উলুপোকা দমনতো হবেই না বরং শুদ্ধি অভিযানের গøনি ঘটবে।

 

এই বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধানে সাংবাদিকের একটি দল তার খিলক্ষেত অফিসে গেলে তার বিরুদ্ধে আনিত দূর্নীতির বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ব্যাংক লোন নিয়ে বিল্ডিং করছি আবার পুনরায় ব্যাংক লোন নেয়ার চেষ্টা করছি। আমার কোন অবৈধ সম্পদ নেই। আপনারা খোজ নিয়ে জানেন থাকলে পত্রিকায় প্রকাশ করুন। আমি দূর্নীতি করে থাকলে বিভাগীয় আইন আছে, দূর্নীতি দমন কমিশন আছে তারা আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে, আপনারা এই তথ্য কোথায় পেলেন ? আমাকে একটু বলেন আপনাদের এই তথ্য কে দিল ? ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের দিনাজপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ সদস্য শিবলী সাদিক আমার ভাতিজা হয়। আমার বিষয়ে তার কাছ থেকেও জানতে পারেন। আমার বাবা দিনাজপুর আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং আমি বুয়েট থেকে পাশ করা একজন মেধাবী ছাত্র।

 

এই বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা কেন তার অফিসে গেল মর্মে পরবর্তীতে দক্ষিনখান জোনের এডিসি ৩ হাফিজুর রহমান তার সরকারী মোবাইল ফোন থেকে এই প্রতিবেদককে বলেন আমি বলছিনা সে দূর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করবেন না। কিন্তু খোঁজ খবর নিয়ে করেন। প্রতিবেদককে আরও বলেন আমার অফিসে আসেন কথা বলব। বিস্তারিত বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান অব্যহত।

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সোপানে কুসুম বাগানে অনেক দূর্নীতিগ্রস্থ ভূতুম প্যাঁচাদের আর্বিভাব ঘটেছে। এসব নিধনে প্রধানমন্ত্রীর জোড়ালো পদক্ষেপে দেশব্যাপী প্রশংসা বিরাজমান। আগে সোনার বাংলা পরে অন্য সব। সাধু সাবধান।