Amar Praner Bangladesh

আশুলিয়ায় ছেলের হাতে বাবা খুনের অভিযোগ

 

 

আশুলিয়া প্রতিনিধি :

 

ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন শিমুলিয়া ইউনিয়নের টেঙ্গুরী কোনাপাড়া ফকিরবাড়ি এরাকায় এক ছেলের হাতে তার বাবা খুন। এ ঘটনার পর থেকে খুনি ওই ছেলে পলাতক রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর ২০২১ইং) সকালে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার ১নং শিমুলিয়া ইউনিয়নের টেঙ্গুরী কোনাপাড়া
ফকিরবাড়ি এলাকার হারুনের গেটে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

নুর মোহাম্মদ (৭০) কে তার ছেলে খুন করে পালিয়েছে। নিহতের প্রথম স্ত্রীর ছেলে আফাজ উদ্দিন (৪০) ও তার বাবা একই বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, ঘাতক আফাজ উদ্দিন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলো। ২০০৬ সাল থেকে পরিবারের লোকজন তাকে
চিকিৎসা করে আসছেন বলে তাদের দাবি। আফাজ মানসিক ভারসাম্যহীন আধা পাগল হওয়ায় তার স্ত্রী রাতে স্বামী
আফাজের পাশে ঘুমাতেন না। তাই তার বাবা নুর মোহাম্মদ তার ছেলের পাশে থাকতেন। প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল
দিবাগত রাতে নুর মোহাম্মদ ছেলে আফাজের কক্ষে তাদের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ঘুমাতে যায় কিন্তু ভোর রাতে আফাজ
বটি দিয়ে তার বাবার গলায় কুপিয়ে পিছনের দিকে আঘাত করে।

এসময় মানুষের গোঙ্গানির শব্দ শুনে ওই পরিবারের লোকজন আফাজের ঘরে গেলে নুর মোহাম্মদের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে, লোকজনদের ডাকলে এর ফাঁকে আফাজ তার ঘর থেকে বেড়িয়ে পালিয়ে যায়। পরে বাড়ির লোকজন নুর মোহাম্মদকে উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন আফাজ আধা পাগল বা মানসিক ভারসাম্যহীন জেনেও ওই পরিবারের লোকজন কেন বটি বা দেশি অস্ত্র ওই কক্ষে রেখেছে আর ছেলের কাছে বাবা আগে থেকেই ঘুমাতেন অন্য কোনদিন তাকে মারছে না তবে এখন কেন ছেলে হয়ে বাবাকে খুন করছেন? উক্ত বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন অনেকেই।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কায়সার হামিদ বলেন, নিহতের ছেলে আফাজ উদ্দিন মানসিক
ভারসাম্যহীন হওয়ায় ২০০৬ সাল থেকে তাকে চিকিৎসা করছিলেন পরিবারের লোকজন। সেই ছেলের হাতে বাবা খুন হন।
নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে
পাঠানো হয়েছে।

উক্ত হত্যাকান্ডটি অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ও র‌্যাব জানায়, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানায় বকেটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।