ইজতেমা ময়দানে যাবেন না মাওলানা সাদ,  থাকবেন কাকরাইল মসজিদেই

মোঃ ইলিয়াছ মোল্লা ও মোঃ মনির হোসেনঃ   ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভি এবারের ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া । বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের যে সিদ্ধান্ত, তাতে দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সাদ টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় যাচ্ছেন না । আপাতত মাওলানা সাদ কাকরাইল মসজিদেই থাকছেন । কাকরাইল মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন সম্পর্কে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, এই এলাকায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয় সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । মোহাম্মদ সাদকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে কাকরাইল মসজিদে রাখা হয়েছে । ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা মুহাম্মদ সাদের বাংলাদেশে আসা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ দুই গ্রুপের সৃষ্টি হয় । সরকারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মাওলানা মোহাম্মদ সাদ ইজতেমায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন—এমন বক্তব্য দিয়ে গতকাল বুধবার সকাল থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গোলচত্বরের পূর্ব পাশে বিক্ষোভ-সমাবেশ শুরু করেন বিক্ষুব্ধরা । তাঁরা দাবি তোলেন, মাওলানা সাদ ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বিমানবন্দর থেকে দিল্লিতে ফেরত পাঠাতে হবে । আলেম ও মুসল্লিদের বিক্ষোভ-সমাবেশ ও অবরোধের ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়তে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় । এতে সাধারণ যাত্রী ছাড়াও দেশের বাইরে থেকে আসা যাত্রীদের সারা দিন চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয় । অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হন । যেখানে আলেমরা বিক্ষোভ করেন, তার পেছনে একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে, মাওলানা সাদ সাহেব সরকারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিশ্ব ইজতেমায় আসার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের ইমানদারদের তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ-সমাবেশ । বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মাহফুজুল হক ঘোষণা করেন, আমরা জানতে পেরেছি মাওলানা সাদ বিমানবন্দর থেকে কাকরাইল মসজিদে চলে গেছেন । তাই এখানের জনগণের দুঃখ-দুর্দশার কথা বিবেচনা করে এখানকার বিক্ষোভ-সমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করছি । পাশাপাশি আমরা মাওলানা সাদকে ঠেকাতে কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমাএলাকায় অবস্থান করব । উল্লেখ্য, শতবছর আগে দ্বীন ও ইসলামের দাওয়াতি কাজকে তরান্বিত করতে মাওলানা ইলিয়াছ শাহ (রাহ.) দিল্লির নিজামুদ্দিন মসজিদ থেকে তাবলিগের কাজ শুরু করেন । মাওলানা ইলিয়াছ (রাহ.)-এর ছেলে মাওলানা হারুন (রাহ.) । তারই ছেলে হলেন মাওলানা সাদ কান্ধলভী । দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের বর্তমান মুরুব্বী সাদ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় কুরআন, হাদিস, ইসলাম, নবি-রাসুল ও নবুয়ত এবং মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন । তিনি তার এ সব আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য দেওবন্দসহ বিশ্ব আলেমদের কাছে বিতর্কিত হয়েছেন । তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যগুলো  সাদ সাহেবের আসল রূপ নামে একটি ছোট্ট বই আকারে প্রকাশ করেছেন জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহাদ্দিস, তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বী এবং দ্বন্দ্ব নিরসনে ভারত সফরকারী ৫ সদস্যের অন্যতম মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক