Amar Praner Bangladesh

ঈদকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

প্রবীণদের সাথে নবীন প্রার্থীদের ছড়াছড়ি

এস, এম, মিজান গৌরনদী (বরিশাল) :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল-১, ২ ও ৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনের এখনও প্রায় দেড় বছর বাকি থাকলেও বর্তমান তিন সংসদ সদস্যসহ সবদলের সম্ভাব্য প্রবীণ প্রার্থীদের সাথে পাল্লাদিয়ে নবীন প্রার্থীরা কৌশলে দলের পক্ষে ও নিজের পক্ষে মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে একক নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছেন চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। পাশাপাশি আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন পেতে মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বড় দলগুলোর মনোনয়ন কারা পেতে পারেন, কার সম্ভাবনা বেশি এনিয়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া ও মহল্লায় দলীয় নেতাকর্মীসহ ভোটারদের মধ্যে চলছে নিখুঁত বিশ্লেষণ।
সূত্রমতে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় বরিশাল-১ ও ২ আসনে আওয়ামীলীগ এবং বরিশাল-৩ আসনে মহাজোট সমর্থিত ওয়াকার্স পার্টির প্রার্থী জয় পেয়েছেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনই দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। পাশাপাশি হারানো আসন উদ্ধারের জন্য নানাকৌশলে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন বিএনপি। অপরদিকে স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যবর্ধি বরিশাল-৩ আসনে নিজ দলের প্রার্থী নির্বাচিত হতে না পারায় এবার এ আসন থেকে যোগ্যপ্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য দলের সভাপতির কাছে জোরদাবি জানিয়েছেন আওয়ামীলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।
সূত্রে আরও জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রাণের দাবি সরকারের নিজ অর্থায়নের পদ্মা সেতু, কঠোর হস্তে জঙ্গী দমন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বিদ্যুত, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা ও নারী উন্নয়নের সফলতার পাশাপাশি সমুদ্র বিজয়, প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের সাফল্য সাধারণ ভোটারদের কাছে তুলে ধরে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আওয়ামীলীগকে ফের ক্ষমতায় আনার আহবান জানিয়ে গণসংযোগে নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও পবিত্র ঈদ-উল আযহাকে ঘিরে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদভারে ক্রমেই মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা নির্বাচনী এলাকা। অন্যদিকে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি হারানো মসনদ ফিরে পেতে সরকারের নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরে নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের নামে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতেই মাঠে নেমেছেন। এছাড়া বিএনপির প্রার্থীরা কৌশলে ঢাকায় বসে এলাকার নেতৃত্বস্থানীয় নেতাদের নিয়ে গোপনে একাধিক বৈঠক করে দলতে চাঙ্গা করেছেন। সবমিলিয়ে এখন তিনটি সংসদীয় আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ ছড়িয়ে পরেছে।
তবে উভয়দলেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পর পর দুইবার ক্ষমতায় থেকেও দলের হাইব্রীড নেতাদের কারণে নেতৃত্বস্থানীয়দের ব্যর্থতায় আওয়ামীলীগের অতীতের নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করার ফলেই কোন্দল দেখা দিয়েছে। অপরদিকে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে না থেকেও এখন বসন্তের কোকিলের ন্যায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল-১ আসনে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ আব্দুস সোবাহান, সাবেক এমপি এম. জহির উদ্দিন স্বপন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম স্বজল, আকন কুদ্দুসুর রহমান এবং ওয়ান ইলেভেনের পরীক্ষিত নেতা আশির দশকের কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা এসএম মনির-উজ জামান মনির। জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এককভাবে নির্বাচন করলে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন এসএম রহমান পারভেজ। এখানে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হচ্ছেন মেহেদী হাসান রাসেল।
বরিশাল-২ আসনের বর্তমান সাংসদ, জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পীকার ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি ছাড়াও দলের মনোনয়ন পেতে সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনি, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহে আলম ও শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজুর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে তাদের কাউকে মাঠে দেখা যায়নি। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান ও সাবেক হুইপ শহীদুল হক জামাল। জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা। এখানে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হচ্ছেন মাওলানা নেছার উদ্দিন।
বরিশাল-৩ আসনকে এবার আওয়ামীলীগের আসন হিসেবে দলের সভাপতিকে উপহার দিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে মাঠে কাজ শুরু করেছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান। আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের নেতাকর্মীদের জোরালো দাবির মুখে দীর্ঘদিন থেকে তিনি (মিজানুর রহমান) মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। এখানে আওয়ামীলীগের অপর সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত যুবলীগ নেতা শহীদ মোশতাক আহমেদ সেন্টুর ভাই মোস্তাফিজুর রহমান নিলু। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন-দলের ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, খালেদা জিয়ার আইন উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গু। এ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হচ্ছেন উপাধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ সিরাজুল ইসলাম। জোটভূক্ত নির্বাচন হলে এ আসনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন চাইবেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের ব্যক্তিগত সহকারী, প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁও এর পরিচালক এবং বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোঃ আতিকুর রহমান ও বর্তমান এমপি জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ টিপু সুলতান। তবে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আতিকুর রহমান। এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু।