Amar Praner Bangladesh

ঈদ সামনে বেড়েছে ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য

 

 

প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্কঃ

 

ঈদ সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাই ও অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য । প্রায় প্রতিদিনই রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইকারীর খপ্পরে পড়ে মানুষ টাকা-মোবাইল ফোন খোয়াচ্ছেন। এমনকি ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় খুনের ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের ২৭ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত শুক্রবার ও বুধবার রাজধানীর হাজারীবাগ, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও শাহবাগ এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান চালায় ডিবির রমনা ও লালবাগ বিভাগ।

এদিকে ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোন থানা ছিনতাই বা ডাকাতির অভিযোগ নিতে না চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে জানাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের নির্দেশনায় রমজান ও আসন্ন ঈদের নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি, অজ্ঞান ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে ছিনতাই, ডাকাতি ও দস্যুতার প্রস্তুতিকালে ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা দলবন্ধভাবে ঢাকা শহরের ব্যস্ততম বাসস্টপেজে অবস্থান করে কোনো ব্যক্তিকে টার্গেট করে। পরে যাত্রীবেশে বাসে উঠে সুযোগ বুঝে টার্গেট ব্যক্তিকে চেতনানাশক প্রয়োগে অচেতন করে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে পালিয়ে যায়। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও রেকর্ড অনুসন্ধান করে ২০ জনের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা পাওয়া গেছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম-কমিশনার বলেন, ছিনতাই বা ডাকাতি হওয়ার পর যদি কোনো থানায় ভুক্তভোগীর অভিযোগ বা মামলা নিতে গড়িমসি করে, তাহলে সরাসরি ডিএমপিতে অভিযোগ করুন। ওইসব থানার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ডিএমপি কমিশনারের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। অভিযোগ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তিনি বলেন, ঈদ ও রমজানকে ঘিরে প্রতিবছরই ছিনতাই, অজ্ঞানপার্টি ও মলমপার্টির দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। এবারো রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ডিজিটাল ডিভাইস বিশেষ করে মোবাইল ফোন চুরি-ছিনতাই হচ্ছে। রাস্তায় ছিঁচকে চোর-ছিনতাইকারীরা পথচারী ও যাত্রীদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার টান দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তাদের অধিকাংশই মাদকসেবী।

গ্রেফতাররা হলেন— আবদুর রহমান শুভ, ইয়াছিন আরাফাত জয়, বাবু মিয়া, মো. ফরহাদ, হূদয় সরকার, আকাশ, জনি খান, রোকন, মেহেদী হাসান ওরফে ইমরান, মনির হোসেন, জুয়েল, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে মাইকেল, আজিম ওরফে গালকাটা আজিম, শাকিল ওরফে লাদেন, ইমন, রাজিব, রাসেল, মিন্টু মিয়া ওরফে বিদ্যুৎ, মাসুদ, তাজুল ইসলাম মামুন, সবুজ, জীবন, রিয়াজুল ইসলাম, মুণ্ডা হাওলাদার, শাকিল হাওলাদার, ফেরদৌস ও আবুল কালাম আজাদ। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে লোহার রড, দা, ছোরা, চাকু, চেতনানাশক ও মলম জব্দ করা হয়।