Amar Praner Bangladesh

উইপোকা খাচ্ছে মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তক

 

 

শের ই গুল :

অভিন্ন রূপরেখার আলোকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। রূপকল্প-২০৪১ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুই স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কাজটি হাতে নেয়া হয়। কিন্তু দুই কারণে এ প্রয়াস ভেস্তে যাচ্ছে। পুরোনো ধাচেই প্রাথমিকের কারিকুলামের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন ধারায় তৈরি হচ্ছে মাধ্যমিক স্তরেরটি। অথচ দুই ধাপেই নতুন ও আধুনিক কারিকুলাম হওয়ার কথা। বিশেষজ্ঞদের মতে বর্তমানে যা হচ্ছে তাতে দুই পথে হাঁটছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর। করোনার দোহাই দিয়ে নতুন উদ্যোগের বাস্তবায়ন পেছানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। করোনার কথা বলা হলেও নেপথ্যে আছে অন্য দুটি কারণ। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা খাত উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) থেকে টাকা খরচ করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত খসড়া কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছিল।

যা বাতিল হলে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আর এ আশঙ্কায় নানা যুক্তিতে এটি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশের সবচেয়ে বড় অর্জনের একটি হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরের সকল শিক্ষার্থীর জন্য বছরের প্রথম দিনই বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যবই। সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকার কারণে প্রতিবছরই সঙ্কট ছাড়াই ৩৫ থেকে ৩৬ কোটি কপি বই যাচ্ছে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে। প্রতিবছর এক হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করে পাঠ্যবই দিলেও দেশে ৩৬ কোটি কপি পাঠ্যবই রাখার জন্য গুদাম বা সংরক্ষণের জায়গা নেই একটিও! প্রতিবছর প্রায় তিন মাস আগে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বই পাঠানো শুরু হলেও সেখানে নেই রাখার কোন ব্যবস্থা।

খুলনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের দুইটি হল রুমে পড়ে রয়েছে মাধ্যমিকের ১০ টন বই। দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হলেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেই কতৃপক্ষের। নিচতলার পূর্ব পাশের রুমের জানালার পাল্লা না থাকায় বই ভিজছে বৃষ্টির পানিতে। বছর বছর অবহেলায় মেঝেতে পড়ে থাকায় তা খাচ্ছে উইপোকায়। ভবনটির দুই রুমে ২০২০ শিক্ষা বর্ষের ৬ষ্ট শ্রেণীর বাংলাদেশ বিশ্ব পরিচিতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। ৭ম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ইংলিশ ফর টুডে, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা। ৮ম শ্রেণীর ইংরেজী গ্রামার এন্ড কম্পোজিশন, বিজ্ঞান। ৯ম-১০ম এর জীববিজ্ঞান, ক্যারিয়ার শিক্ষা, ইংরেজি, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা সহ মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষার বিভিন্ন বই ছড়িয়ে রয়েছে।

খুলনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে পড়ে থাকা বই সম্পর্কে জানতে অধ্যক্ষের সাথে কথা হয়। প্রফেসর এম, আবুল বাসার মোল্লা জানান, রুম দুটি মাধ্যমিকের বই-পুস্তক রাখার জন্য ব্যবহার হতো। তবে স্থান পরিবর্তন করে বয়রায় স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এই জায়গা থেকে বইগুলো সরানো হয়নি। দায়িত্বশীলদের এ বিষয়ে জানানো হয়েছে, কিন্তু তারা পদক্ষেপ নেয়নি। এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মোমিন জানান, ২০১০ সাল থেকে ওখানে বই রাখা হচ্ছে। ১৬ থেকে ২০ শিক্ষা বর্ষের বই পড়ে রয়েছ সেখানে। নষ্ট হতে থাকা বই এর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, পুরাতন বই তারা বিক্রি করে দেয়, তবে এখন পর্যন্ত বই বিক্রির বিষয়ে নির্দেশনা আসেনি।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার রুহুল আমিন জানান, আগে ওখানেই মাধ্যমিক সহ মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষার বই-পুস্তক রাখা হতো। এখন বয়রা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে রাখা হচ্ছে। কিছু পুরাতন বই আগের জায়গায় রয়েছে। তবে সেগুলো পলিথিন বিছিয়ে মেডিসিন দিয়ে রাখতে বলা হয়েছিলো। বইগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানালে তিনি বলেন, ‘থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীলের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই ভাবে দেশের অনেক জায়গায় পাঠ্যপুস্তকের করুনদশা। দীর্ঘ মেয়াদী করোনা মহামারী ও লকডাউনের কারণে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক এখন উইপোকার খাবারে পরিণত হয়েছে।