Amar Praner Bangladesh

উজিরপুরের হারতায় রহস্যজনক মৃত্যু ইউপি চেয়ারম্যানের মোটা অংকের বানিজ্য

উজিরপুর প্রতিনিধি : উজিরপুরের হারতায় রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এর মোটা অংকের বানিজ্য, অলিখিত স্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে দিনমজুরকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, হারতা ইউনিয়নের পূর্ব হারতা গ্রামের উপেন্দ্রনাথ হালদার(৫০) কে জোড় পূর্বক অলিখিত স্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে নির্যাতন চালায় একই এলাকার প্রমথ হালদার(৪০), সুধাংশ হালদার(৩৫), সুকদেব হালদার(২৮) ও তার পিতা বিশ্বনাথ হালদার এবং মহুরী বিমল রায় মিলে এক সপ্তাহ পূর্বে উজিরপুর উপজেলার সাফ-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে জোড় পূর্বক দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে রেজিস্ট্রি করতে না পেরে অলিখিত স্টাম্পে স্বাক্ষর রেখে শারিরিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের পর সোমবার অসুস’ হয়ে পড়লে প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস’ না হওয়ায় রাত ১২টায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস’ার অবনতি হয়ে মঙ্গলবার রাত ২টায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহতের স্ত্রী পুস্প হালদার, ছেলে উজ্জ্বল হালদার বুধবার সকালে শত শত মানুষের সামনে প্রকাশ্যে অভিযোগ করে বলেন মৃত্যুর পূর্বে আমাদেরকে বলে গেছেন যে প্রমথ হালদার, সুধাংশ হালদার, সুকদেব হালদার ও তার পিতা বিশ্বনাথ হালদার মিলে পর পর ২টি অলিখিত স্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে নির্যাতন চালায়। তোমরা কেহ তাদের সাথে জমি নিয়ে বারাবারি করবা না তাহলে তোমাদেরকেও ওরা মেরে ফেলবে। তবে মৃত্যুর পরে বুধবার সকালে হারতা ইউপি চেয়ারম্যান হরেন রায় ৬ বছর পূর্বের ১টি অলিখিত স্টাম্প উদ্ধার করে আটকে রেখে ২ লক্ষ টাকার রফাদফা করার জন্য শুক্রবার মিমাংশার দিন ধার্য করে। সংবাদ পেয়ে উজিরপুর থানা পুলিশের এস.আই গোলাম মোস-ফা ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেন। ইউপি চেয়ারম্যানের অনুরোধে মিমাংশার সুযোগ দেন। পরিবারের দাবী অনুসারে লাশ সৎকার না করে দাফন করা হয়। এব্যাপারে মৃত্যু ব্যক্তির শ্যালক ননী হালদার জানান আমার দুলাভাইকে হত্যা করা হয়েছে কিন’ ইউপি চেয়ারম্যান হরেন রায়ের ভয়ে থানায় মামলা করতে সাহস পাচ্ছিনা। এলাকাবাসী আরো জানান ইউপি চেয়ারম্যান হরেন রায় এর বিরুদ্ধে কেহ কথা বললে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় এমনকী তার কথা না শোনায় উজিরপুর মডেল থানার এ.এস আই জসিম উদ্দিনকে মামলায় ফাসিয়ে হয়রানি করে। ইতিপূর্বে আরো এক পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে উর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিল। নিহতের বোন বিচিত্রা মন্ডল জানান আমার ভাইয়ের কাছে অসুস’্যতার ব্যাপারে জানতে তিনি বলেন বিশ্বনাথ মন্ডলের কাছে ৬ বছর পূর্বে জমি বিক্রির ৮০ হাজার টাকা পাওনা ছিল এবং এখন আবার নগদ টাকা দেয়ায় কথা বলে দলিল দিতে যাওয়ার পর টাকা না দিয়ে দলিলে সাক্ষর দিতে বলে। এতে রাজি না হলে শারীরিক নির্যাতন করে জোরপূর্বক অলিখিত স্টাম্পে সাক্ষর নেয়।