Amar Praner Bangladesh

উজিরপুরে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালীদের দ্বন্ধের জেরে সভাপতি খুন

 শিক্ষার্থীদের দাবী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে রাজনীতি নয়, চাই শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ
আঃ রহিম সরদার, উজিরপুর প্রতিনিধি ঃ উজিরপুরের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত সাতলা নবীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে দ্বন্ধের জেরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খুন হয়েছিল। খুনীদের শাস্তির দাবীতে এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যহত। মামলার তদন্তে জেলা সিআইডি, ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রভাবশালীদের দ্বন্ধে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষককে স্কুলে যোগদান করতে বাধা, শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি। এলাকার সাধারন জনগনের দাবী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে রাজনীতি নয়, চাই শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ। এর লক্ষ্যে গতকাল ১৬ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকাল ৩ টায় স্কুল চত্বরে শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ধীরেন রায়ের হত্যা কান্ডের প্রকৃত রহস্য উৎঘাটন ও খুনিদের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তারা। গত ১৭ আগষ্ট ধীরেন রায় নিখোঁজ হয়। এ ব্যপারে তার ছেলে বাদী হয়ে একটি অজ্ঞাতনামা অপহরণ মামলা করে। পরে ১৯ আগষ্ট সকালে পার্শবর্তী উপজেলার নাজিরপুরের পিন ডুবুরিয়া খালে হাত,পায়ে ইট বাঁধা অবস্থায় তার লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে অবহতি করলে লাশটি উদ্ধার করে। সরজমিন ঘুরে জানা যায় সাতলা নবীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য থাকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন কর্তৃপক্ষ, এতে স্থানীয়সহ পার্শ্ববর্তী থানার ৮জন শিক্ষকদের আবেদন জমা পড়ে। নিয়োগ বোর্ডের উত্তীর্ণ কাশিনাথকে মনোনিত করেন। ঐ পরীক্ষায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুনিল চন্দ্র অংশগ্রহন করে উত্তীর্ণ হতে না পেরে তিনি অভিযোগ করেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ধীরেন রায় মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করেছে এবং কালাম নামের আরেকজন আবেদনকারী শিক্ষকের পক্ষে এলাকার প্রভাবশালীরা নিয়োগ প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হারুন জানান, ঘটনাটি স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্মরনাপন্ন হলে বোর্ড কর্তৃক নিয়োগকৃত শিক্ষককে যোগদানের পরামর্শ দেন। গত ২৪ তারিখে শিক্ষক কাশিনাথ নিয়োগপত্র নিয়ে স্কুলে যোগদান করতে গেলে স্কুলের শিক্ষক সুনিল চন্দ্র, প্রদিপ,হরষিতরা এর বিরোধীতা করে এবং কিছু শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুলে থেকে বের হয়ে আসেন। পরবর্তীতে কাশিনাথকে আবার বরণ করেও নেয়। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা স্কুলে এসে হুমকি ধামকি দিয়ে ও সভাপতি ধীরেন রায়কে ঐ শিক্ষককে স্কুলে ঢুকতে না দেয়ার নির্দেশ প্রদান করে। বিষয়টি নিয়ে আবারও এমপি’র কাছে জানানো হলে তিনি থানায় সাধারণ ডায়রী করার পরামর্শ দেন। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় সাবেক স্কুল কমিটির সভাপতি সুভাষ, বাবুল মেম্বর, ইকবাল বালী, কামরুল মাষ্টার, মামুন ফকির, মাসুম, সুশীল, ইব্রাহিম, সাইদুলসহ কতিপয় লোক স্কুলে এসে শিক্ষক কাশিনাথকে লঞ্চিত করার চেষ্টা করে। এ নিয়ে জটিলতার এক পর্যায়ে গত ১৭ আগষ্ট রাতে স্কুল সংলগ্ন মাখন রায়ের বাড়িতে ধীরেন্দ্র নাথ রায়সহ প্রভাবশালীরা শিক্ষক সুনীলের দাবীকৃত টাকা পরিশোধের জন্য চাপ পয়োগ করে এবং বলে টাকা পরিশোধ হলে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে সমস্থ অভিযোগ তুলে নিয়ে স্কুলে যোগদান করতে দেয়া হবে। ঐ দিন রাতেই তিনি নিখোঁজ হন সভাপতি ধীরেন রায়। এ ব্যাপারে মামলার বাদী দিলীপ রায় জানান, আমার বাবা শিক্ষক সুনীলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা গচ্ছিত হিসেবে রেখে বিভিন্ন কাজে খরচ করেন। তার হিসাব ঐ বৈঠকে তিনি দেন এবং ২৭ হাজার টাকা তার কাছে পাওনা ছিল। তা পরিশোধ করার অঙ্গীকারও করেন। কিন্তু সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা দাবী অযৌক্তিক। এদিকে এলাকার প্রভাবশালীরা বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য এলাকায় হামলার নাটক সাজিয়ে এলাকার নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার পায়তারা চালাচ্ছে। স্থানীয় রামকৃষ্ণ রায়(৪০), ভদ্দর রায়(৮৫), শাহীন(৩০), লিটন(৩৫), সঞ্জিব(৩৫), কারিশ্যাম বিশ্বাস (৭০), অনাদী রায়(৪৫), নগেন (৫০) সহ একাধিক এলাকাবাসী জানান, কতিপয় লোক হুকমি ধামকি দিয়ে বলে তোরা বাবুল মেম্বর, সুভাষসহ বিভিন্ন লোককে রাতের আঁধারে হুমকি দিস। তাদের বাড়িঘরে হামলা করার পরিকল্পনা করছিস। এ ব্যাপারে সুভাষের স্ত্রী চপলা রানীর কাছে হুমকিক ও হামলার ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন এ রকমের কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে স্কুলের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে তোমাদের দাদা বিরোধীতা করেছিল বলে ধীরেন রায়ের হত্যাকান্ডের পরে পলাতক আছে। এ বিষয়ে মামলার প্রাথমিক তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মামলাটি বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তাধীন আছে এবং সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার সিআইডির ইনসপেক্টর আলী আকবরের কাছে। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার বলেন, মামলাটি সিআইডি তদন্ত করলেও এলাকার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে এবং এ ব্যাপারে পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।