Amar Praner Bangladesh

উত্তরার আওয়ামীলীগ নেতা ডাক্তার মাহি ইমতেহাজের গোমর ফাঁস ভুয়া ডাক্তার সেজে মিথ্যা প্রতারণায় মানুষকে দিয়েছে এতদিন বাঁশ

 

(ফাঁন্দে পড়ে বগা কান্দে, চট্টগ্রামে প্রতারণা করে মাহি ইমতেহাজ নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি ডাক্তার না, জাতিসংঘ (ইউএন) এ চাকুরিও করেন না বলে মাফ চায়। রাজনৈতিক শেল্টারের উদ্দেশ্যে মাহি ইমতেহাজ প্রতারণা করে উত্তরার আওয়ামীলীগে ভাগিয়ে নিয়েছেন নিজের পদ। প্রমাণিত হলে তাকে বহিস্কার করবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামীলীগ নীতি নির্ধারকরা।)

 

স্টাফ রিপোর্টার :

 

তিনি নেতা, উত্তরা আওয়ামীলীগ সহ সব জায়গায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন এতদিন! যেন কাউকে পরোয়া করেননা তিনি। একের পর এক অপরাধ করে আসলেও তাকে থামানোর সাধ্যি যেন কারো নাই। দলের সিনিয়র নেতারা বেশ বিরক্ত, অসন্তুষ্ট ক্ষোধ ঢাকা-১৮ আসনের এমপি হাবিব হাসান সহ অনেকে। এসব হাইব্রীডদের জন্য প্রায় সময় মূল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে হয়।

 

 

দলের দূর্দিনে কখনই এ ধরনের প্রতারকদের মাঠে দেখা না গেলেও সংগঠনের নাম বিক্রি করে ক্ষমতার প্রভাবে নারী নির্যাতন, চাকুরী দেবার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া, হুমকি-ধমকি, ইয়াবা ব্যবসা, হীন কোন কাজ নেই যা তারা করেনা।

একটি সময় প্রয়াত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাড. সাহারা খাতুনের নাম ভাঙ্গিয়ে তার পাশে বসে ছবি তুলে প্রতারক মাহি ইমতেহাজ ভুয়া ডাক্তার হয়েও তার সাথে প্রতারণা করে আসছিল। চোরের দশ দিন গৃহস্তের একদিন। এখন তার কুকীর্তি ফাঁস হলে সে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাফ চাইলেই এই জাতি তাকে কেন মাফ করবে? তার পাপের বোঝা অনেক ভারী। আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেন না বিধায় তাকে পাকড়াও করে তার মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচিত করে মানুষকে শিক্ষা দেয়।

মাহি ইমতেহাজ কখনও তরুণ লীগের নেতা, কখনও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা, আবার কখনওবা সামাজ সেবক সেজে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন নিত্য নতুন কায়দায় প্রতারণার নজির গড়েছেন যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে প্রতারক সাহেদের চেয়েও ভয়ঙ্কর কাহিনী। করোনাকালীন সময়ে তার গাড়ীতে ভুয়া ডাক্তারের ষ্টীকার লাগিয়ে উত্তরার মোড়ে মোড়ে মাস্ক ব্যবহার নিয়ে পথচারীদের সাথে তার দূর্ব্যবহার এখনো মানুষ ভুলেনি। সবসময় কোট টাই স্যুট পড়ে ক্লিন শেভ করে কাটিং করে দাঁড়ি রেখে নিজেকে উপস্থাপন করতো এই মাত্র উড়ে আসা জাতিসংঘ থেকে পাঠানো যেন কোন পাখি। তার শতভাগ কথার মিথ্যা বুলিতে ছিলো শুধু চাপাবাজি আর ছলনা।

বসবাস উত্তরায় করলেও জানা যায়, তার বাড়ী ভোলা জেলায়। কোথাও সঠিক ভাবে নিজের তথ্য না দেওয়ার কারণে এসব প্রতারকদের সত্যিকারের ঠিকানা খুজে পাওয়া দুঢ়হ ব্যাপার। তবে তার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পাওয়া যায়, তার নাম- ডাক্তার মাহিম ইমতিয়াজ খান, পিতা- মরহুম মিন্টু মিয়া, মাতা- মিসেস জাহানারা মিন্টু, বর্তমান ঠিকানা- বাড়ী নং- ২১, দ্বিতীয় তলা, রোড- ১৫, সেক্টর- ১১, উত্তরা ঢাকা-১২৩০। স্থায়ী ঠিকানা- গ্রাম- উকিলপাড়া, পোস্ট- ভোলা, ভোলা পৌরসভা, থানা ও জেলা- ভোলা সদর। নিজের ভোটার আইডি কার্ডটিও প্রতারণা করে অন্যের ঠিকানায় করেছে।

হরিরাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ১১ নং সেক্টর প্রস্তাবিত ইউনিট কমিটি উত্তরা ৫১ নং ওয়ার্ড উত্তরা পশ্চিম থানা ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার মাহি ইমতেহাজ খান চট্টগ্রামে প্রতারণা করার সময় হাতে নাতে ধরা পড়ে, নিজের ফেসবুক সোশ্যাল মিডিয়ায় জবানবন্দি দিয়েছে, আমি ডাক্তার না, জাতিসংঘে (ইউএন) জব করিনা, আপনারা আমাকে মাফ করে দেন। কে এই ভুয়া ডাক্তার ও জাতিসংঘের কর্মকর্তা মাহি ইমতেহাজ ? করোনাকালীন সময়ে বিশাল প্রতারণার কারণে প্রতারক সাহেদ গ্রেফতার হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। মাহি ইমতেহাজ সাহেদের চেয়েও বড় প্রতারক।

সে রাজধানীর উত্তরার সকল বড় বড় আওয়ামীলীগ নেতাদের চুনা লাগিয়ে নিজের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ভুয়া ডাক্তার সেজে আবার জাতিসংঘের পতাকা এবং ষ্টীকার গাড়ীতে ব্যবহার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে আওয়ামীলীগের পদ ভাগিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক। উত্তরা আওয়ামীলীগের একজন নেতা নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পদ পাইয়ে দিবে, তাছাড়া চাকুরি সহ বিভিন্ন তদবীরের বিষয় নিয়ে প্রতারক মাহি ইমতেহাজ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে। উত্তরার একজন যুবলীগ নেতার সাথে তার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

এই প্রতারণার কাজে ঐ যুবলীগ নেতার ইন্ধন রয়েছে বলে জানা যায়। প্রতারক মাহি ইমতেহাজের প্রধান কাজ হচ্ছে ছবি বাণিজ্য করা। তার সাথে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি শবনম জাহান শিলা, মেহের আফরোজ চুমকি সহ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সব হাই প্রোফাইলের নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ ছবি তুলে সেগুলো নিজের ফেসবুকে আপলোড দিয়ে সবাইকে ধোকা দিয়ে আসছে এই প্রতারক। তার অন্যতম প্রধান প্রশ্রয় দাতা উত্তরা গার্লস স্কুলের সাবেক সভাপতি আওয়ামীলীগ নেত্রী মাহমুদা ইদ্রিস।

এই বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা বললে মাহমুদা ইদ্রিস জানান, কেমনে কি হলো, এসব কি নাটক হচ্ছে আমার মাথায় আসেনা। প্রয়াত মন্ত্রী এ্যাড. সাহারা খাতুন এমপির আত্মীয় এ্যাড. আনিছুর রহমানের সাথে প্রতারক মাহি ইমতেহাজের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, একাধিক ছবিতে তাদের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকার ভাবভঙ্গিতে বুঝা যায় তাদের ঘনিষ্ঠতা কত! কিন্তু এই বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানান আমি তাকে চিনিনা।

এ বিষয় নিয়ে জনাব মতিউর রহমান মতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহানগর আওয়ামীলীগ (উত্তর), তিনি ১১ নং সেক্টর প্রস্তাবিত ইউনিট প্রস্তুত কমিটির টিম লিডার হিসেবে যে কমিটি দিয়েছেন তার সাথে কথা হলে তিনি দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে জানান, ইউনিট কমিটির ১৯ নং ঘরে রয়েছে ডাক্তার মাহি ইমতেহাজ খানের নাম। কোন প্রতারকের স্থান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে নেই। তাকে ১১ নং সেক্টর প্রস্তাবিত কমিটি ৫১ নং ওয়ার্ড উত্তরা পশ্চিম থানা ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি থেকে অবশ্যই বহিস্কার করা হবে।

এ বিষয় নিয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগ উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচির সাথে কথা হলে তিনি দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশের সাথে কথা বলে সম্পূর্ণ বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতারক মাহি ইমতেহাজের ফেসুবক লিংকটি তার হোয়াটসআপে দিতে বলেন এবং আরো জানান, প্রতারণা করলে কোন মাফ নেই, তাকে অবশ্যই বহিস্কার করা হবে। আগামী নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগকে প্রস্তুত করার লক্ষ্য থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযানের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেছেন যে, শুদ্ধি অভিযান নয় এটা হলো আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করা বা ঢেলে সাজানো। বড় বড় মন্ত্রী এমপিরাই অন্যায় করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে ছেড়ে দেননা। এখানে কোন প্রতারক নিজের সত্যিকারের পরিচয় গোপন করে মিথ্যা দিয়ে দলকে ধোকা দেওয়ার অর্থ সম্পূর্ণ জাতিকে ধোকা দেওয়া।

এ বিষয় নিয়ে মাহি ইমতেহাজ খানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি যখন এ কথা গুলো আমার ফেসবুক আইডিতে বলেছি তখন আমার সামনে কোন পুলিশ ছিলনা, ১০-১২ জন লোকের সামনে এ কথা বলেছি। কোথা থেকে ডাক্তারি পাশ করেছেন এবং জাতিসংঘ (ইউএন)এ যে চাকুরী করেন সেখানের কোন কর্মকর্তার মোবাইল নাম্বার চাইলে তিনি গড়িমশি করে বলেন ইবনেসিনা মেডিকেল কলেজ থেকে। আপনার ডাক্তার পাশের রেজি. নং- কত? তিনি কোন সদোত্তর না দিয়ে তিনি ব্যস্ত আছেন পরে ফোন দিয়েন বলে বিদায় নেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সোপানে কোন হাইব্রীড প্রতারক এবং ঠকবাজদের দলে জায়গা হবেনা। সকল অপরাধীরা আসবে আইনের আওতায়। এমনটাই প্রত্যাশা সবার। আগে সোনার বাংলা পরে অন্যসব। সাধু সাবধান।