Amar Praner Bangladesh

উত্তরায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

গত ২৭/০২/২০ তারিখ রাত্রে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১৪ নম্বর সেক্টর, ১০ নম্বর রোডের ৩ নম্বর বাড়ির সপ্তম তলার ছাদের উত্তর পাশের রুমে  মৃত  কাজী গোলাপ হোসেন, পিতা- মৃত বোরহানউদ্দিন উদ্দিন আহমেদ, সা়ং- নারান্দিয়া (পরকড়া) পূর্ব পাড়া, থানা -নাঙ্গলকোট, জেলা- কুমিল্লা-কে অস্ত্র দিয়ে গলা এবং পেট কেটে হত্যা করে দূবৃত্তরা। পরের দিন সকাল বেলা ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মৃত দেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা হয়। যার নাম্বার -৩৬, তারিখ-২৮/০১/২০২০, ধারা -৩০২, ৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। ঘটনাস্থল হতে হত্যাকারীর ব্যবহৃত জ্যাকেট, জুতা, চাঁদর, শিল-পাটাসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।মামলার রুজু হওয়ার পর উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তরা বিভাগ), অতিরিক্ত উপ- পুলিশ কমিশনার (উত্তরা জোন)-এর দিক নির্দেশনা এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণে, সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার- উত্তরা জোন, অফিসার ইনচার্জ- উত্তরা পশ্চিম থানা’র নেতৃত্বে এসআই জিন্নাত আলী এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসান অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় জড়িত আসামি মোঃ হৃদয় (২৪)-কে কদমতলী থানার শ্যামপুর, পালপাড়া এলাকা হতে আটক করা হয়।

আটক হৃদয়  জিজ্ঞাসাবাদে  জানায় যে, সে একজন অটোরিকশাচালক। এছাড়া সে বিভিন্ন প্রকারের মাদক সেবন করে। ঘটনার দিন হৃদয় অটোরিক্সার ব্যাটারি চার হাজার টাকায় বিক্রি করে তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়াঝাঁটি করে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা হতে বের হয়ে মধ্য রাতের দিকে আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ডে যায়। সেখানে দেখতে পায় তার পকেটে যে টাকা ছিল সে টাকাগুলো নেই । সেখানে বাস কাউন্টারে গিয়ে লালমনিরহাট যাওয়ার জন্য ভিকটিম মোঃ গোলাপ হোসেনকে একটি টিকিটের ব্যবস্থা করে দিতে বলে। পরে কাউন্টার-মাস্টার গোলাপ হোসেন তাকে বলে যে এখন টিকিট নাই পরের দিন তোকে বাসে উঠায় দিবো বলে রাতে থাকার জন্য তার বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় যাওয়ার পর তারা খাটের উপর শুয়ে পড়ে। শোয়ার কিছুক্ষণ পর হতেই ভিকটিম গোলাপ হোসেন তার গায়ে হাত দেয় এবং তাকে জড়িয়ে ধরে। বারবার না করা সত্ত্বেও একই কাজ করায় আসামি ঘরে থাকা শিলপাটা দিয়ে রাগের মাথায় ভিকটিমের মুখে আঘাত করে, তারপর ঘরে থাকা বটি দিয়ে গলায় ও পেটে কোপ দেয়, এতে পেটের নাড়িভুড়ি বের হয়ে যায়। তারপর বাথরুমে গিয়ে হাত পরিষ্কার করে ভিকটিমের মৃতদেহ বিছানার চাদর দিয়ে এবং মুখ বালিশ দিয়ে ঢেকে দেয়।

আসামি তার একটি চাদর , সোয়েটার ও জুতা ফেলে রেখে যায় এবং যাওয়ার সময় ভিকটিমের পকেটে থাকা ৩০০ টাকা এবং রুমের টেলিভিশন নিয়ে রুমের দরজায় তালা লাগিয়ে ভোরের দিকে তার বাসায় চলে যায় । আসামির স্বীকারোক্তি মতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের বাসা হতে নিয়ে যাওয়া টিভি কদমতলী থানার শ্যামপুরের পালপাড়া এলাকার জনৈক হানিফের চায়ের দোকান হতে উদ্ধার করা হয়। অদ্য ০৬/০২/২০২০ তারিখ অভিযুক্ত মোঃ হৃদয়-কে আদালতে প্রেরণ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক এর কাছে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।