Amar Praner Bangladesh

উত্তরা সহ আশেপাশের থানা এলাকা এখন অবৈধ সমিতির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে

 

(সমবায় সমিতি আইন (২০০১) বলা হয়েছে, নিবন্ধন ব্যতীত সমবায় শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ। কোন ব্যক্তি এই ধারার কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদন্ড বা অন্যূন ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডনীয় হবে বলে আইন থাকলেও তার প্রয়োগ না থাকার কারণে প্রায় সময় শোনা যায় সমিতির প্রতারকরা কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে।)

 

প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্ক :

 

মধ্যযুগে মানুষের দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে জবর দখল করে তাদের সম্পত্তি গ্রাস করত মহাজনরা। লেখাপড়া না জানা গ্রামের সহজ সরল মানুষদের কাছ থেকে সাদা কাগজে টিপ সই নিয়ে সুদে টাকা ধার দিতো সে যুগের সুদে কারবারি মহাজনরা। সাদা কাগজে টিপ সই দিয়ে টাকা নেওয়ার পরবর্তীতে কি করতো সুদে মহাজনরা সেটাও আমরা গল্পে শুনেছি। সুদের টাকা পরিশোধ করার পরও গরীব অসহায় মানুষদের শেষ সম্বল বসতভিটা যেত মহাজনরদের দখলে। মধ্যযুগের সেই বর্বরতাকে হার মানিয়ে বর্তমানে সাধারণ মানুষদের নিঃস্ব করছে উত্তরা সহ আশেপাশের থানা এলাকায় গজিয়ে উঠা অবৈধ সমিতি গুলো।

উত্তরা পশ্চিম ও পূর্ব থানা এলাকা অন্যদিকে তুরাগ থানা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, এয়ারপোর্ট এবং ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকা সহ ভাটারা থানা থেকে বাড্ডা থানা, রূপগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বিভিন্ন নিবন্ধন বিহীন সমিতি, সমবায় সমিতি ও মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ নামের প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চলছে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম। সমিতির অনুমোদন নিয়ে সদস্যদের বাইরে সাধারণ মানুষকে লোভ দেখিয়ে সঞ্চয় আদায় করার অভিযোগ রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কেউ কেউ সুযোগ মতো মানুষের আমানত নিয়ে পালিয়েও যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সমবায় অফিসের অসাধু কর্মচারীদের সহযোগীতায় ২ নম্বরী কারবার করে কতিপয় প্রতিষ্ঠান। ফাঁকি দেয় রাজস্বও। জানা গেছে, উত্তরার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ও উত্তরখান মাষ্টারপাড়া বাজার, মৈনারটেক, চাঁনপাড়া বাজারসহ আশপাশের বাজারগুলোতে রয়েছে ব্যক্তি নামে বানানো সমিতি ও মাল্টিপারপাস। সমবায় কতিপয় কর্মচারীদের সাথে সখ্য করে সমিতির নামে এসব এলাকায় নিবন্ধন ছাড়া সমিতির সংখ্যাও বেশী। দক্ষিণখান বাজার, আশকোনা বাজার, এয়ারপোর্ট হাজী ক্যাম্প এলাকা, উত্তরখান মাজার এলাকা, চামুরখান, কাঁচকুড়া, কাওলা, খিলক্ষেত সহ উত্তরার আশপাশের এলাকায় রয়েছে প্রায় কয়েকশ’র অধিক সমিতি। এসব সমিতির মধ্যে বেশির ভাগ সমিতি নিবন্ধন ছাড়া সমিতি। অর্ধ শতাধিক নিবন্ধন বিহীন সমিতি ও মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ ও নামধারী এনজিও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এসব এলাকায় ভূয়া প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। সূত্রে জানা গেছে, উত্তরখান মাষ্টারপাড়া এলাকায় রয়েছে অথেন্টিক ফাউন্ডেশন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ, এই সমিতির নেই কোন ট্রেড লাইসেন্স, নিবন্ধন তো দূরের কথা এই বিষয়ে নেই কোন তাদের মাথা ব্যাথা, এই বিষয় নিয়ে সংবাদের প্রতিবেদক সমিতির মালিক দাবীদার সোহাগের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার আত্মীয় কিশোরগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। তাকে নিয়ে সমবায় অধিদপ্তরে নিববন্ধনের জন্য গিয়েছিলাম, আমার কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়াতে নিবন্ধন করি নাই।

খোজ নিয়ে জানা যায়, তারা এক হাজার বই ছাপিয়ে কয়েক বছর ধরে উত্তরখান মাষ্টারপাড়া এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের নিকট থেকে নিয়মিত টাকা তুলছে। তাদের নেই নিজস্ব কোন অফিস, সোহাগের একটি ফার্ণিচারের দোকানে বসেই চালায় সমিতির কার্যক্রম। স্বপ্ন দোয়ার নামে একটি সমবায় সমিতি রয়েছে মাষ্টারপাড়া কলাবাগান, সমিতি অফিসের মধ্যে প্রবেশ করলে দেখা যায়, রুমে রুমে বিছানা করা, দেখে মনে হয় এই মাত্র কোন নেশাখোরের দলেরা নেশা করে এখান থেকে চলে গেছে।

এই সমিতির কোন কর্মকর্তাকে কখনোই পাওয়া যায়না, অথচ তাদের কর্মীরা সমিতির বিভিন্ন সদস্যদের নিকট থেকে টাকা তুলছে প্রতিদিন। এসব সমিতি যেকোন সময় জনগণের কষ্টের উপার্জিত টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে পারে। এছাড়া সেন্টার ফার্ণিচার মার্ট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমবায় সমিতি, রূপসী বাংলা, জীবন সংগ্রাম মহিলা শ্রম শক্তি, গোলাকান্দাইল দৈনিক সমবায় সমিতি, প্রমিজ ইসলামী মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ, সাবলীল ক্ষুদ্র সঞ্চয় সমিতি, ছায়া গ্রাম সমবায় সমিতি, সেফটি মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ, আল-আরাফাহ ইসলামী কো-অপারেটিভ, এস বাংলা মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ, আশালয় শ্রমজীবি সমবায় বাৎসরিক সমিতিসহ আরও অনেক। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনেকেরই নিবন্ধন নেই বলে জানা গেছে।

হিমালয় পূর্বাচল শ্রমজীবী, নবজাগরণ শ্রমজীবী, শ্যামল বাংলা শ্রমজীবী, মায়ের আচল শ্রমজীবীসহ আরও বেশ কয়েকটি সমবায় সমিতি কার্যক্রম চলমান আছে বলে গণমাধ্যমে জানা গেছে। বৈধ নিবন্ধনকৃত প্রতিষ্ঠানের তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা এলাকার দায়িত্বরত সমবায় কর্মকর্তা মিজান ও তানভীরের সাথে কথা হলে তারা জানান, নিবন্ধনের তালিকা প্রস্তুত নেই। সময় লাগবে এই তালিকা প্রস্তুত করতে। ভূয়া ও অনিবন্ধিত সমিতি ও মাল্টিপারপাসের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উল্লেখ্য, সমবায় সমিতি আইন (২০০১) বলা হয়েছে, নিবন্ধন ব্যতীত সমবায় শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ। (১) এই আইনের অধীন সমবায় সমিতি হিসাবে নিবন্ধিত না হইলে কোন ব্যক্তি, ব্যক্তিসংঘ, সংগঠন বা সমিতি উহার নামের অংশ হিসাবে সমবায় বা কো-অপারেটিভ শব্দ ব্যবহার করিবে না। (২) সমিতির নিবন্ধিত নাম ব্যতীত সমিতির সাইন বোর্ড, বিল বোর্ড বা প্রচারপত্রে অন্য কোন নাম বা শব্দ ব্যবহার করা যাইবে না। (৪) কোন ব্যক্তি এই ধারার কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদ- বা অন্যূন ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডনীয় হবে বলে আইনে বলা হয়েছে।

 

 

স্বাক্ষাৎকার ফেসবুক লিংকঃ

 

https://www.facebook.com/112701898077693/videos/721214912333374

অথেনটিক ফাউন্ডেশন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর মালিক সোহাগের বক্তব্য আমার সমিতি চলে নিবন্ধন বিহীন।