Amar Praner Bangladesh

একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই কমিটি দিয়ে চরম দ্বন্দ বাধিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ

 

 

মোমিনুল ইসলামঃ

 

জামালপুর জেলা মেলান্দহ উপজেলায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ইউনিট কমিটি নিয়ে বিতর্কের ঝড় বইছে। একই বিশ্ববিদ্যালয় দুইবার কমিটি দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় সহ আশপাশ এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এছাড়া কমিটি নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের অভ্যন্তরে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। ছাত্রলীগের নিয়ম নীতি গঠনতন্ত্রের তুয়াক্কা না করেই পরের কমিটিতে বিএনপি জামাত শিবির পন্থী ছাত্রদের নিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রে জানা গেছে, ২৩/০৩/২২ ইং জামালপুর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের দিন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি’র উপস্থিতিতে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের কাছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ইউনিট কমিটির প্রস্তাব দেন।

এদিকে প্রস্তাবিত ইউনিট কমিটিতে মুস্তাফিজুর রহমান সোহাগ, পিতাঃ আব্দুস সামাদকে আহ্বায়ক ও নূরে জান্নাত পিতা-মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম কে ১) যুগ্ম আহ্বায়ক করে গঠন করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ২৪/০৩/২২ ইং থেকে প্রস্তাবিত কমিটির নেতৃবৃন্দ কে দলীয় সকল কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য মৌখিক অনুমোদন দেন এবং নির্দেশ প্রদান করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। তারই ধারাবাহিকতায় প্রস্তাবিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা করতেছে। অপরদিকে গত ৩১/ ৭ /২০২২ ইং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশকৃত কমিটিকে বাদ দিয়ে রহস‍্যজনক কারনে,মনগড়া ভাবে পুনরায় কমিটি করে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরবর্তীতে যে কমিটি দেয়া হয়েছে তারা অনেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত না। উক্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রথম বর্ষের ছাত্র কাউসার আহমেদ স্বাধীন,পিতাঃ আনোয়ার মাস্টার।

তিনি জামালপুর সদর উপজেলা তুলসীরচর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক বর্তমানে ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

১ নং যুগ্ন আহ্বায়ক করা হয়েছে তাইফুল ইসলাম পলাশ, পিতাঃ রফিক,তিনি সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। গুঞ্জন উঠছে তাইফুল ইসলাম পলাশ এর বড় ভাই তারেক হাসান, জামাত শিবিরের নেতা,তার জেঠা মোঃ শামসুল হক মৌলানা,সে স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজাকার। উল্লেখ্য,পরবর্তী কমিটি দেয়ার সময় জেলা আওয়ামী লীগের কারো সাথে কোন পরামর্শ করেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। উক্ত কমিটি দেওয়ায় ছাত্রলীগের দুই কমিটি নিয়ে চরম বিরোধ চলছে। অপরদিকে বিরোধ চরম আকার ধারণ করায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডঃ মোঃ বাকী বিল্লাহ’র আহবানে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রলীগের উভয় গ্রুপের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দুই কমিটি’র সকল কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

উক্ত বিষয় নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডঃ মোঃ বাকীবিল্লাহ’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমেদ মুঠোফোনে এ প্রতিবেদক কে জানান জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশে একটা কমিটি দেওয়া হয়েছিল এবং সেন্ট্রাল থেকে আরেকটা কমিটি দেওয়া হয়েছিল সেটা নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছিল। পরে জেলা নেতৃবৃন্দ এসে সেটা মীমাংসা করে দিয়েছেন। জানতে চাইলে মেলান্দহ থানা অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন মুঠোফোনে জানান, সেরকম কোন সমস্যা হয় নাই আমরাও গিয়েছিলাম এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জামালপুর জেলা প্রশাসক ফারুক আহমেদ চৌধুরী এসেছিলেন তেমন কোন ঘটনা হয় নাই।

এ বিষয়ে কথা বলতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য কে মুঠোফোনে কল করে পাওয়া যায়নি।