Amar Praner Bangladesh

একজন আদর্শ শিক্ষক আব্দুর রহিম

 

সোহরাব হোসেন, ডেস্ক ইনচার্জ :

শিক্ষার আলো, ঘরে ঘরে জ্বালো, নিরক্ষর থাকব না, দেশের বোঝা হব না। শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। তিনি ঝাউগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কারিগর হিসাবে কাজ করছেন দীর্ঘ বছর ধরে। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের তিনি সন্তানের মতই মমতা ও ভালবাসা দিয়ে আগলে রাখতেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সর্বদা ভাল-মন্দ বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে ভুলতেন না শত ব্যস্ততার মাঝে। গ্রামের মানুষের কাছে তিনি গরীবের শিক্ষক হিসাবে পরিচিত। চলাফেরা ও জীবন যাপন করেন সাদামাটা ভাবে।

নিজের আদর্শকে ধরে রাখতে চান মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। জামালপুর মেলান্দহ ঝাউগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম বিএসসি। সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম বিএসসি মেলান্দহ উপজেলার দক্ষিণ ঝাউগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি স্কুলের ক্লাস শেষে নিয়মিত গ্রামের বাড়িতে ঘুরে ঘুরেও অনেক অভিভাবকদের সাথে কথা বলতেন এবং ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনার ব্যাপারে খোজখবর রাখতেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ করার চেষ্টা করতেন। যারা দুর্বল শির্ক্ষার্থী ছিলেন, তাদের দিকে একটু বেশি খেয়াল রাখতেন ও বাড়ীতেও খোজখবর রাখতেন পড়াশুনা ঠিক মতো করছে কিনা। জামালপুর-মেলান্দহ দক্ষিণ ঝাউগড়ার সবার নিকট একজন প্রিয় স্যার, মোঃ আব্দুর রহিম (বিএসসি) স্যার। তিনি তার এলাকায় একজন সৎ ও ভাল শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।

তিনি তার এলাকায় সবাইকে ভাল ছাত্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ছাত্রদের পিছনে অনেক পরিশ্রম ও সময় ব্যয় করেছেন। শিক্ষক হিসেবে তার সাথে অন্য কারো তুলনা হয় না। তার ছিলনা কোন টাকার লোভ। তিনি সব সময় চেয়েছেন কিভাবে তার এলাকার ছাত্রদের ভাল ছাত্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়। তিনি তার এলাকার প্রায় সব ছাত্রকে ভালভাবে পড়াশুনা করার জন্য উপদেশ দিয়ে থাকেন। তার উপদেশ কেউ শুনে ভাল করে পড়াশুনা করেছে আবার অনেকেই না মেনে বিরক্ত মনে করেছে। কিন্তু যারা উপদেশ মেনেছে- তিনি তাদেরকে কাছে ডেকে ভাল ছাত্র হতে হলে কিভাবে পড়াশুনা করতে হবে, কিভাবে রুটিন বানিয়ে পড়াশুনা করা যায়, কোন বিষয়ে কতটুকু সময় দিতে হবে তা পরামর্শ দিতেন। এমনকি কাজের সময়, খেলাধূলার সময় ও খাওয়ার সময় টুকুও রুটিন মেনে চলতে বলতেন।

তাছাড়া এলাকায় কোন ছাত্রের সমস্যা হলে, তার কাছে সমস্যার কথা বললে, তার পক্ষে যতটুকু সম্ভব সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেন। তিনি ছাত্রদের পড়াতে ও সহযোগীতা করতে খুবই আনন্দবোধ করেন।

তিনি হতদরিদ্র ছাত্রদের পড়াশুনায়ও অনেক উপদেশ-শাসন, সময় ব্যয় ও বিভিন্ন সময় অর্থ দিয়েও সহযোগীতা করেছেন। তিনি এলাকার সকল ছাত্রদের একজন প্রিয় শিক্ষক। কারণ- তার কাছে যখন কোন একটা বিষয় যেমন- গণিত/ইংরেজী নিয়ে বসতাম যতবার বুঝতে চাইতাম ততবারই বুঝিয়েছেন। তারপরেও বলতেন আর কোথাও সমস্যা! আর এমন অনেক শিক্ষক আছে যারা একবারের বেশি বুঝাতে গেলেই বিরক্তবোধ করেন। তাই তিনি অন্য শিক্ষকদের থেকে একটু ভিন্ন। সর্বদা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকেন। বর্তমানে তার অনেক ছাত্র ভালো অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বর্তমান অবসরপ্রাপ্ত হলেও ইয়াতন জালাল উদ্দিন চৌধুরী নামে এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জীবনের বাকী সময় টুকু কাটানোর জন্য শিক্ষকতা করেন। তিনি তার শরিরীক অবস্থা ভাল রাখার জন্য রীতি মতো সকালে হাঁটেন ও বিদ্যালয়ে প্রায় সময় হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি কোন কাজকেই ছোট মনে করেন না। তিনি সাধারণ জীবন-যাপন করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চান তিনি। তিনি হাঁটা চলাফেরা করলেও বর্তমানে তার শারিরীক অবস্থা বেশি ভাল নন। দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পরিবারের পক্ষ থেকে সবার নিকট দোয়ার দরখাস্ত। তাঁর জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং সবার মাঝে সুস্থ হয়ে ফিরে এসে ছাত্রদের ছড়িয়ে দেন শিক্ষার আলো।

ভাল থাকুক, সুস্থ থাকুক আমাদের প্রিয় শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিম বিএসসি স্যার এই কামনাই করি। ভাল থাকুক সকল স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা। কারণ- প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকা তারা সকল শিক্ষার্থীকে নিজের ছেলে মেয়েদের মতো শিক্ষায় আলোকিত করছেন এবং ঘরে ঘরে আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। যে আলোয় আলোকিত হচ্ছে গোটা বিশ্ব। যে আলো সকল সমস্যার সমাধান নিয়ে আসতে পারছে। যে আলোর সংস্পর্শে মানুষরূপী জন্ম নেওয়া মানুষগুলো সত্যিকারের মানুষে রূপান্তর হচ্ছে। শিক্ষা মানুষকে জ্ঞানী ও বিচক্ষণ করে তুলছে, সত্য-মিথ্যার বাছ-বিচার করতে শেখায়, শিক্ষার আলোর পরশে মানুষ হয়ে উঠে এক সত্যিকারের মানুষ। শিক্ষা মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে। তাই সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে জানাই অন্তরের অন্তরস্থল হতে ভালবাসা ও শ্রদ্ধা।