একজন সাদা মনের মানুষ জনাব সোলাইমান আহমেদ

 

 

এস.এম অভি, ফরিদপুর থেকেঃ

 

ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার একটি নয়নাভিরাম গ্রাম শুকুরহাটা।ছবির মত সুন্দর এ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আলফাডাঙ্গার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।যে নক্ষত্রের নাম সোলায়মান আহমেদ।জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন সাধনে নানাধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকেছেন।

তার জন্মস্থান শুকুরহাটা ও পাশ্ববর্তী গ্রামগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এ জনপদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল।সেটা উপলব্ধি করে এই জনপদের ছেলেমেয়েদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন।এই কাজটা আসলে তার রক্তের সাথে মিশে আছে,কারণ তার জন্মস্থান শুকুরহাটাতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তার পিতা মমতাজউদ্দীন আহমেদ জমি দান করেছিলেন। এ জনপদের ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করতে নিজের পিতার নামে জাটিগ্রামে গড়ে তুলেছেন “মমতাজউদ্দীন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়”। আলফাডাঙ্গা সরকারী কলেজ ও ধলাইরচর বরকতিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতেও তার রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা।এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটির ও তিনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

১৯৪৭ সালের ১৬ ই অক্টোবর পিতা মমতাজউদ্দীন আহমেদ ও মাতা সবুরন নিসার কোল আলোকিত করে শুকুরহাটা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন সোলায়মান আহমেদ।১৯৬০ সালে কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী থেকে এসএসসি পাস করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের জন্য করাচি চলে যান।করাচি ইসলামিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। একই কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করেন এবং করাচী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।এরপরে করাচীর সিন্দ মুসলিম ল’কলেজ থেকে এলএলবি প্রথম বর্ষ সমাপ্ত করেন।ঠিক সে সময়ে তিনি কাতার ইন্সুরেন্স কোম্পানির উচ্চ পদে চাকরির অফার পান। পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি চাকুরীতে যোগদান করেন।কাতারে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।কাতারস্থ বাংলাদেশ হাই স্কুলের তিনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।কয়েক মেয়াদে তিনি এই স্কুলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠনের সাথেই তিনি কেবল জড়িত ছিলেন না। কাজ করেছেন বেকার মানুষদের জন্য ও। আলফাডাঙ্গা সহ পাশ্ববর্তী এলাকার অগণিত মানুষের জন্য দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য নীরবে নিভৃতে কাজ করতে তিনি ভালবাসেন।

সোলায়মান আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনিয়র সিটিজেন।তবুও তিনি দেশের টানে,শিকড়ের টানে বারবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন।রাজনীতিতেও সোলায়মান আহমেদ একজন সফল ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এখনো এ জনপদের মানুষের কথা চিন্তা করেন।স্বপ্ন দেখেন জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দীন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই একটি কলেজ গড়ে তুলবেন,এটা তার স্বপ্ন।

এলাকার অভিভাবকদের তিনি অনুরোধ করে বলেন ছেলেমেয়েদেরকে তাঁরা যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলে। তাহলেই কেবল এ জনপদ আলোকিত হবে,উন্নত হবে। ব্যক্তিজীবনে সোলায়মান আহমেদের তিন সন্তান এবং স্ত্রী নিয়ে তার বসবাস।তার জীবন সঙ্গীনী বেগম নুরুন্নাহার, তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী।

তার তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে মাশফুক আহমেদ ও ছোট ছেলে মারুফ আহমেদ ও একমাত্র কন্যা শায়লা আহমেদ তিনজনই যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্রাজুয়েট এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্রেই চাকুরীতে নিযুক্ত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে সকল সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্বেও বারবার দেশের টানে মাটির টানে শিকড়ের টানে দেশে ফিরে আসেন।সোলায়মান আহমেদদের জন্যই এ দেশকে বেশি করে ভালবাসতে ইচ্ছে করে।সোলায়মান আহমেদরাই দেশের কিংবদন্তি।যুগ যুগ ধরে মানুষ সোলায়মান আহমেদকে স্মরণ রাখবে।