মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:১৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সৃজনশীল সৃষ্টি এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার (ছেলুন) উত্তরার সুন্দরী মক্ষিরাণী তন্নি অনলাইনে চালাচ্ছে দেহ ব্যবসা শ্রমিক লীগের ৫৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি রুবেলকে হত্যার চেষ্টা : থানায় অভিযোগ অস্ত্রধারী নুর আলম নূরুকে গ্রেফতারের জন্য মানববন্ধন হলেও নূরু অধরা : প্রশাসন নিরব তিন দিনের সফরে ঢাকায় বেলজিয়ামের রানি ভূমিকম্প: তুরস্কে ও সিরিয়ায় নিহত ৫ শতাধিক উত্তরা বিজিবি মার্কেট এখন আর ডালভাত কর্মসূচিতে নেই মন্দিরে মূর্তির পায়ে এ্যাড. রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী’র সেজদা প্রতিবাদে নির্যাতন ও মামলার শিকার মোঃ জলিল রৌমারীতে অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির অফিস উদ্বোধন যুবলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় কল্যাণপুরে আবাসিক হোটেলে রমরমা দেহব্যবসা

এবার বংশের খোঁজ নিয়ে ছাত্রলীগের নেতা বাছাই

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২ মে, ২০১৮
  • ৩৪ Time View

প্রানের বাংলাদেশ রিপোর্ট : ছাত্রলীগের নেতৃত্বে অযাচিত কেউ যেন আসতে না পারে, সে জন্য পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্তের পাশাপাশি তাদের পারিবারিক পরিচয়ও দেখা হবে। গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে স্বজনদের রাজনৈতিক বিশ্বাস আর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে।

ছাত্রলীগের অভিভাবক হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্র সংগঠনটির নেতা-কর্মীদেরকে এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

আগামী ১১ ও ১২ মের সম্মেলনকে সামনে রেখে সোমবার আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের নানা কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এমনকি হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগের পর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারাও।

আর বারবার আলোচনায় এসেছে সংগঠনে অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধ রাজনৈতিক আদর্শের পরিবারের সদস্যরাও ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এসেছে, বারবার এটি প্রমাণ হয়েছে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনাও সইতে হয়েছে সংগঠনটির।

নানা সময় দেখা গেছে, নেতারা দল ভারী করতে বিতর্কিতদেরকে সংগঠনে নিয়ে আসে। আবার টাকার বিনিময়ে পদ পাওয়ার বিষয়টিও আর গোপ নয়।

আর এবারের জাতীয় সম্মেলনের আগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আর ছাত্রলীগকে নতুন মডেলে ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

আর এই ঢেলে সাজাতে নতুন মডেল কী হবে, সেটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, অবিতর্কিত, যাদের নিজেদের বা পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তাদেরকে নেতৃত্বে আনতে চাইছেন শেখ হাসিনা।

জাতীয় সম্মেলনে কোনো ভোট হবে না জানিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ’সম্মেলনে কোন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করারও প্রয়োজন নেই। যোগ্যতার ভিত্তিতে পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড মেধা এসব বিবেচনায় নিয়ে সিলেকশন পদ্ধতিতে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হবে।’

’কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি সবক্ষেত্রে এবার সিলেকশন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।’

আর এই নেতৃত্ব বাছাই করার ক্ষেত্রে নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বিষয়েও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মাধ্যমে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

প্রতিবারই সম্মেলনের আগে সংগঠনে কথিত সিন্ডিকেটের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সাবেক ছাত্রলীগ এবং বর্তমান আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এই সিন্ডিকেট চালান বলে প্রচার আছে।

প্রচার আছে ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই সিন্ডিকেট প্রভাব বিস্তার করে নানা কারসাজি করে।

ছাত্রলীগের ১০১টি সাংগঠনিক জেলা কমিটি থেকে ২৫ জন করে কাউন্সিলর থাকেন সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনে। তাদের ভোটে শীর্ষ পদের নেতৃবৃন্দরা নির্বাচিত হয়। কিন্তু ভোটার তালিকা না থাকায় কারা নেতা নির্বাচনের জন্য ভোট দিচ্ছেন তাদের পরিচয় জানা যায় না।

ছাত্রলীগের নেতৃত্ব বাছাইয়ে গত তিনটি জাতীয় সম্মেলনের ইতিহাস বলছে রিপন-রোটন (২০০৬-২০১১) কমিটিতে সারাদেশ থেকে কাউন্সিলরদের নিয়ে ভোটের আগের রাতেই নেতা কে হবে, কাকে ভোট দিতে হবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।

পরের বদিউজ্জামান সোহাগ-নাজমুল (২০১১-২০১৫) ও সাইফুর রহমান সোহাগ-জাকির (২০১৫-২০১৮) কমিটিতেও ঘটেনি এর ব্যতিক্রম।

এই তিনটি সম্মেলনেই দেখা গেছে কোন কোন জেলা থেকে শুধু জেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভোট দিতে সংগঠনের জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেন। তারা দুইজনই বাকি ২৩ জনের ভোট দেন। ভোটারদের পরিচয় প্রকাশ না করায় এই সমস্যা হচ্ছে।

আর এই পরিস্থিতিতে এবার এই পরিস্থিতি যেন না হয়, সে জন্য ছাত্রলীগের একটি অংশ এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাদেরও কেউ কেউ কথিত ভোটের বদলে শেখ হাসিনার ওপর সিদ্ধান্তের ওপর সব ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন।

আর শেখ হাসিনা নেতাদের সঙ্গে এক অনির্ধারিত সভায় ছাত্রলীগের ব্যাপারে এই নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। নেতাদের কাছ থেকে ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলনের সর্বশেষ প্রস্তুতিও জানতে চান তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ।

আগামী জাতীয় সম্মেলনের আগে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু নেতা নির্বাচন এখনও আটকে আছে। সেখানে কোনো ভোটাভুটি হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এই সাইটের কোন লেখা কপি পেস্ট করা আইনত দন্ডনীয়