Amar Praner Bangladesh

এসবিএসএল কোম্পানীর নামে টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ৮

 

 

হাসনাত রাব্বু, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি :

এসবিএসএল কোম্পানির (সানরাইজ বিজনেস সার্ভিস লিমিটেড) নামে গ্রাহকদের নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কোম্পানীর চেয়ারম্যানসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে কুষ্টিয়া র‌্যাব-১২। প্রতারণার শিকার একজন গ্রাহক বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় কোম্পানীর চেয়ারম্যানসহ একাধিক ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার সকালে কুষ্টিয়া র‍্যাব-১২ আটকদের নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করার পর কুমারখালী থানায় সোপর্দ করলে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গত ২৬ জুন এসবিএসএল কোম্পানির নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এর সংবাদ বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে, প্রতারক চক্রকে গ্রেফতারে র‌্যাব উদ্যোগী হয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়া র‌্যাব-১২, সিপিসি-১ এর একটি আভিযানিক দল র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় শুক্রবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।

অভিযানে প্রতারক চক্রের ৫ সদস্য কুমারখালী উপজেলার বেতবাড়িয়া এলাকার জলিল বিশ্বাসের ছেলে হাসান আলী, মহেন্দ্রপুর এলাকার মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল হান্নান (৪৩), বাঁশগ্রাম এলাকার মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে মোস্তফা রাশেদ পান্না (৪৭), মৃত আলাউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে আইয়ুব আলী (২৮) ও বহলবাড়িয়া এলাকার মৃত আলতাফ শেখের ছেলে হাফিজুর রহমান (২৮) কে গ্রেফতার করে।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যমতে কোম্পানীর চেয়ারম্যান ঝিনাইদহ শৈলকুপা এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৯), কোম্পানীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ঝিনাইদহ মহেশপুর পদ্মপুকুর এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে মহসীন আলী (৩১) ও কোম্পানীর ফিন্যান্স ডিরেক্টর কুষ্টিয়া কুমারখালীর গোবরা এলাকার তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন (২৮) কে ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃত আসামীরা। এসবিএসএল কোম্পানীর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর ও কুমারখালী থানায় ২টি মামলা রয়েছে।

এছাড়া কোম্পানীর চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন এর বিরুদ্ধে ২টি চেক জালিয়াতির মামলা, ম্যানেজিং ডিরেক্টর মহসিন আলীর বিরুদ্ধে ১টি চেক জালিয়াতি ও ৫টি স্ট্যাম্প জালিয়াতির মামলা এবং ফিন্যান্স ডিরেক্টর ইমরান হোসেন এর বিরুদ্ধে ২টি চেক জালিয়াতির মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া জেলায় এসবিএসএল ( সানরাইজ বিজনেস সার্ভিস লিঃ) নামের একটি মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানী গ্রাহকদেরকে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত করে আত্নগোপন করে । কোম্পানিটির প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছে প্রায় ৩০০ পরিবার। কুষ্টিয়া ছাড়াও উক্ত কোম্পানীর প্রতারণার বিস্তৃতি ছিল ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা ও রাজশাহী পর্যন্ত।

আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতারণার উদ্দেশ্য তারা নিজস্ব ওয়েবসাইট ও মোবাইল এপ্লিকেশন তৈরি করে গ্রাহকদেরকে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে ১২০০ টাকা এবং দ্বিতীয় বারে ৯৫০ টাকায় কোম্পানীর আইডি খুলতে বলা হতো। প্রতি আইডি থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা ও আইডি বাবদ প্রদানকৃত টাকার সমমূল্যের পণ্য দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হতো। শুরুর দিকে কিছু গ্রাহক টাকা ও পণ্য পাওয়ার কারণে অনেকেই আইডি খুলতে উৎসাহিত হয়েছিল। একসময় গ্রাহকদের লভ্যাংশের টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে আত্মগোপনে চলে যায় প্রতারক চক্র। লগ্নিকৃত টাকা হারিয়ে শত শত গ্রাহক দিশেহারা হয়ে পড়ে।