এস.এম ট্রেডিংয়ের ৭-৮টি অফিসে শুভ চৌধুরী- পলাশের নেতৃত্বে চলছে এমএলএম প্রতারণার ব্যবসা

 

(উত্তরা ৭ নং সেক্টর সহ খিলক্ষেত, ভাটারা, পল্টন, মিরপুরে এস.এম ট্রেডিংয়ের এমএলএম প্রতারণার অফিস চলছে প্রশাসন সহ কিছু নাম স্বর্বস্ব সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠন ম্যানেজ করে, অনুমতিহীন এমএলএম ব্যবসা অবৈধ হলেও অনেক ক্ষেত্রে কিছু অসাধু পুলিশ ও প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাদের মদদে চলে এসব হায় হায় কোম্পানী। চলমান দূর্নীতি দমন অভিযানে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) অনেক এমএলএম প্রতারকদের আইনের আওতায় আনলেও এসএম ট্রেডিং এখনো অধরা।)

 

ষ্টাফ রিপোর্টার :

দুই দশক আগে বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে নানা কায়দায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বেশক’টি মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানী। তাদের দেখাদেখি পরে একই ব্যবসায় এসে বেশি আলোচিত হয় ডেসটিনি-২০০০ লিঃ।

অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে এমএলএম কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন হলেও কোনো কাজে আসছে না। কখনো ক্ষুদ্র ঋণ, ভুয়া হাউজিং কোম্পানী, বিভিন্ন প্রডাক্ট বিক্রির আকর্ষণীয় ফাঁদ, কখনো কো-অপারেটিভ সোসাইটি বা কো-অপারেটিভ ব্যাংক, আবার কখনো মাল্টিপারপাস সোসাইটিসহ নতুন নতুন নামে প্রতারণা চলছে।

চক্রটি বেকার ব্যক্তিদের টার্গেট করে থাকে। ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এসব ঘটনায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নেয় না। আবার কেউ মামলা অথবা জিডি করলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। সম্প্রতি এর ভয়াবহতা এত প্রকট হয়ে গেছে যে ঢাকা শহরের আনাচে-কানাচে আবাসিক বাণিজ্যিক সব এলাকায় গড়ে উঠেছে ভুয়া এম এল এম কোম্পানি। রাজধানীতে নতুনভাবে শুভ চৌধুরী প্রযোজিত এবং তার একান্ত সহচর পলাশের পরিচালনায় নতুন আঙ্গিকে শুরু করেছে এই প্রতারণা ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে উঠেছে এমএলএম ব্যবসার আড়ালে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ। তার কোম্পানীর নাম “এসএম ট্রেডিং” সাধারণ মানুষের আমানত লুটে নিয়ে রাতারাতি উধাও হয়ে যাচ্ছে এসব ‘হায় হায় কোম্পানি’।

এসব কোম্পানির কর্ণধাররা থাকছেন বহাল তবিয়তে, প্রতারণার ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নিয়ে দেশজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রতারক চক্র বাধাহীনভাবে কোটি কোটি টাকা লুটে নেওয়ার পর পত্রপত্রিকায় হৈচৈ হলে তবেই সরকারি সংস্থাগুলো নড়েচড়ে ওঠে। কয়েক দিন নানা ভঙ্গিমায় তদন্ত চলে, একপর্যায়ে সবকিছুই চাপা পড়ে যায়। শুধু থামে না সর্বস্ব হারানো লোকজনের হাহাকার, কষ্টকান্না। এদিকে রাজধানীতে সন্ধান পাওয়া গেছে এক বিশাল এমএলএম ডিলারের। তার নেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন, নেই মার্কেটে প্রোডাক্ট। তারপরও ডিলারশীপ নিয়োগ, চাকরি দেয়া ও ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণা করে শতশত গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিস্তর অভিযোগ উঠেছে “এসএম ট্রেডিং” মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানির বিরুদ্ধে।

এটি পরিচালনা করছেন সোহরাব হোসেন ওরফে শুভ চৌধুরী এবং পলাশ নামের দুই প্রতারক। সরেজমিন দেখা যায়, এস এম ন্যাচারাল, ইয়েস ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানি, এস এম ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড হাউজিং লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের নামে চলছে এই ব্যবসা।

রাজধানীর উত্তরা সাত নম্বর সেক্টরে ২৮ নম্বর রোডের আট নম্বর বাসার প্রথম তলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অফিস খুলে বসেছে তারা। এই অফিসের নাম দেয়া হয়েছে এস এম ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড হাউজিং লিমিটেড। যেখানে দেখা যায়, ইলেক্ট্রনিক্সের বিভিন্ন পণ্য ও হাউজিং ব্যবসা ফ্ল্যাট বেচা-কেনার অফিস।

এছাড়াও খিলক্ষেত, কুড়িল বিশ্বরোড ও পুরানো পল্টন ও মিরপুরে রয়েছে তাদের অফিস। এভাবে প্রতারণার দোকান খুলে বসেছে এই প্রতারক চক্র। প্রত্যেকটি অফিস এলাকায় গেলে পাশের দোকানী ও ঐ ভবনগুলোর অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, এরা এমএলএম ব্যবসার নামে গ্রাহকের সাথে প্রতারণা করে বলে জানতে পারি। কেন এমন মনে হলো জানতে চাইলে তারা বলেন , মাঝে মাঝেই ভুক্তভোগীরা পুলিশ সাংবাদিক নিয়ে আসতো। মাঝে মাঝে অফিস বন্ধ থাকতে দেখা যায়।

এদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই বলেও জানান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাটারা থানা এলাকার অন্তর্গত কুড়িল বিশ্বরোডের জেবুন্নেছা প্লাজায় “এস এম ট্রেডিং” নামের এমএলএম কোম্পানিতে ফ্ল্যাট দেয়ার নাম করে অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। ভুক্তভোগির অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা কোম্পানির মালিক শুভ চৌধুরির সঙ্গে কুড়িল বিশ্বরোডে যমুনা ফিউচার পার্কের কিছুটা সামনে দেখা হলে তাকে ঐ ভুক্তভোগীর পাওনা টাকা সম্পর্কে জানতে চাইলে শুভ চৌধুরী ফোন দিয়ে কোম্পানির অন্য লোকজনদের ডেকে এনে সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয় এবং মারপিট করে।

এঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টা পাল্টি মামলা হয়। সাংবাদিকদের একজন দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে জানান, আমরা ভুক্তভোগীর পাওনা টাকা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য শুভ চৌধুরীকে শুধুমাত্র তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য জিজ্ঞাসা করেছিলাম ভুক্তভোগী কিসের টাকা পাবে। তার কাছে ভুক্তভোগির টাকা দিবেন কি না সেটা জানতে চাইলেই তিনি রেগে যায়। পরে এক পর্যায়ে অফিসের লোকজন এনে আমাদের মারপিট করেন। পরে তারা উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা করেন এবং বিজ্ঞ আদালত সত্যতার প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে সকলকে জামিন দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবাসন ব্যবসার আড়ালে এই প্রতারক চক্র শুভ গং নানাবিধ অনুমোদনহীন ভোগ্যপণের ডিরেক্ট সেলস ব্যবসা করছেন। যাতে অত্যন্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। এগুলো বিক্রি করছেন কোন প্রকার ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়াই। কুড়িল বিশ্বরোডের জেবুন্নেছা প্লাজার সামনে গিয়ে “এস এম ট্রেডিং” সম্পর্কে জানতে পথচারীদের জিজ্ঞাসা করতে থাকলে এর মধ্যেও কয়েকজন “এস এম ট্রেডিং” এর প্রতারণার শিকার বলে জানান।

এমতবস্থায় “এস এম ট্রেডিংয়ের”এমডি এস এম শুভ চৌধুরি আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে এক প্রকার তেড়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে থাকেন। এবং আমাদের মারধর করে। আমরা তো তার অফিসেই গেলাম না তাহলে চাঁদা চাইলাম কখন। কুড়িল বিশ্বরোডে ঘটনার সময় থাকা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান পলাশ, ডিএমডি লুৎফর রহমান, জিএম মোজাম্মেল হোসেনসহ আরো ১৫ থেকে ২০ জন বড় রড, এস এস পাইভ, ও লাঠিসোটা নিয়ে এসে এস এম শুভ চৌধুরির নেতৃত্বে সাংবাদিকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে কমবেশী উপস্থিত সব সাংবাদিকসহ স্হানীয়রা আহত হন। এতে জুয়েল নামের একজন সাংবাদিক মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভাটারা থানার ওসি মোক্তারুজ্জামানের কাছে মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু সাংবাদিক ভাইরা এসেছিলেন একজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাদের মেরেছেন বলে। দুই পক্ষই মামলা করেছেন। মামলাটি এখন তদন্তাধীন রয়েছে।

কিন্তু সকাল থেকে সাংবাদিকদের রাত অবদি অফিসার ইনচার্জ বসিয়ে রেখে অবশেষে এমএলএম কোম্পানীর মামলা প্রথমে গ্রহণ করে তার ১৫ মিনিট পর সাংবাদিকদের মামলাটি গ্রহণ করে। এদিকে আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে এমএলএম কোম্পানী।

যেখানে বাটারা থানার ঘটনাকে নতুন করে উত্তরা পশ্চিম থানায় ঘটেছে বলে মিথ্যা প্রবাগন্ডা ছড়িয়ে নতুন করে আরেকটি মামলা দায়ের করে। একই বাদী কিংবা একই কোম্পানীর ভিন্ন ভিন্ন বাদী কিভাবে একই ঘটনার সত্যতাকে আড়াল করে সাংবাদিকদের নাজেহাল করার নিমিত্তে অবৈধ টাকার অপব্যবহার করে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে এই মামলাকে অর্থ্যাৎ ভাটারা থানার একই মামলা উত্তরা পশ্চিম থানায় নিতে বাধ্য করে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সোপানে তার কুসুম বাগানে স্বাধীনতা বিরোধীরা বিভিন্ন প্রতারণার পসরা নিয়ে দেশের জনগণকে বোকা বানাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা সাংবাদিকরা জাতির দর্পণ। আপনারা প্রতারকদের মুখোশ উন্মোচিত করেন; আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিবে। আগে সোনার বাংলা পরে অন্যসব। সাধু সাবধান।