Amar Praner Bangladesh

এয়ারপোর্টের অসাধু কর্মকর্তা সাজ্জাদ-রেজাউল করিমের গোপন অভিসার সরকারী চাকরিজীবি মহিলাসহ দায়িত্ব ফাঁকির হিড়িক

 

(রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অবহেলা, এয়ারপোর্টে অহরহ চলছে চোরা চালানকারী ও অসাধু দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আতাত, সরকারী কাজে দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে দেশ ও জনগণের সাথে যারা প্রতারণা করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবী করেছে হিউম্যান রাইটস্ অর্গানাইজেশন।)

 

 

ষ্টাফ রিপোর্টার :

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমান বন্দর। এই বিমান বন্দরকে ঘিরে রয়েছে হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান। এখানে যারা কর্মরত রয়েছে তারা বাছাইকৃত চৌকস ও বিচক্ষণ হিসেবেই দায়িত্ব বুঝে পেয়েছে। কিন্তু এখানে যারা চাকরি করে নামে মাত্র কিছু সৎ মানুষ ব্যতিত অধিকাংশ চাকরিজীবিরাই রীতিমতো আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছে।

বলছি জুনিয়র গ্রাউন্ড সার্ভিস সুপারভাইজার রেজাউল করিম, তার সহকর্মী এটিএম সাজ্জাতুল আলম, ষ্টেশন মাষ্টার জাহিদ, শারমিন শিউলী, কৃষ্ণা ও মাকসুদা সহ ১৫-২০ জনের একটি ফাঁকিবাজ চক্রের কথা। এয়ারপোর্টে এই সরকারী চাকরিজীবি গ্রুপ সম্মিলিতভাবে বড় ধরনের অবৈধপন্থায় কোন অর্থ উপার্জন করলে তার একটি অংশ তারা রাতের গভীরে সরকারী দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কখনো বনানী আবার কখনো গুলশানের দামী কোন হোটেলে খেয়ে দেয়ে আমোদ ফূর্তি করে উড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের এই কার্যক্রমটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাতের বেলায় সংগঠিত করে।

যখন এয়ারপোর্টে ডিউটিরত অবস্থায় থাকে তখন সরকারী দায়িত্ব অবহেলা করে সম্পূর্ণ ফাঁকি দিয়ে এভাবে অনেক দিন যাবৎ রাতের গভীরে কোন রিসোর্ট কিংবা পাঁচতারা হোটেলে খেয়ে দেয়ে আমোদফূর্তি করে আসছে বলে জানা যায়। এদের অন্যতম মূলহোতা ষ্টেশন মাষ্টার জাহিদ, সাজ্জাদ ও রেজাউল তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন রয়েছে একাধিক মহিলা, যারা বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স সহ এয়ারপোর্টের বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন। এদেরকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে এদের সাথে অসামাজিক কাজ করে আসছে এই চক্রের হোতারা। আবার দামী আলীশান আবাসিক হোটেলে বিভিন্ন বড় ব্যবসায়ীদের সাথে এদেরকে রাত্রি যাপনের সুযোগ করে দিয়ে ফাঁয়দা নিচ্ছে এদের মধ্যে একটি দালাল চক্র।

সরেজমিনে অনুসন্ধান করলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সাজ্জাদ-রেজাউল করিম সহ ৯টি মেয়ে সহ (যারা এয়ারপোর্টের বিভিন্ন পদে চাকরি করে।) তাদেরকে নিয়ে মাওয়া শখের হাড়ি রেস্তোরায় গভীর রাতে সরকারী দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে প্রায় একশত মাইল দূরে মাওয়াঘাটে খেতে যাবে সাহরি। ২৭-০৪-২০২২ ইং তারিখ রাত ১২টার পর ২৮-০৪-২০২২ ইং মাওয়া ঘাটে শখের হাড়ি রেস্তোরায় যায় এই চক্রটি। গভীর রাতে এই খবর পেয়ে সংবাদের দাতা ও প্রতিবেদক সহ উপস্থিত হলে শখের হাড়িতে দেখা যায় নয় ফুলের মাঝে দুই মালির অবস্থান।

তারা অনেক রশনা বিলাশ করে গভীর রাতে সরকারী কাজ ফাঁকি দিয়ে ভোজন রসিক সেজে পেটুকের মতো গো গ্রাসে গিলে ইলিশ সহ নানান রকমের হরেক রকম খাবার, পরিশেষে দধি খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে খাবারের সমাপ্তি ঘটিয়ে শখের হাড়ির সামনে দু’একটি সেল্ফি তুলে উঠে ঢাকা মেট্রো চ ১৯-২০৭৭ হায়েচ গাড়ীতে। এভাবে রাত ১২ টার দিকে যদি সরকারী ডিউটি ফাঁকি দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে স্থানতরিত হয়ে একশত মাইল দূরে নিজেদের আনন্দ জাহেল করার প্রয়াস ঘটিয়ে সকালবেলা প্রত্যাবর্তন করে এই সময়ের মধ্যে যদি রাষ্ট্রের বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়ে যায়, এর দায়ভার কে নিবে ? এ যেন সরকারী মাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে দে লুটেপুটে খাই।

সরকারি কাজে দায়িত্বে অবহেলার জন্য হতে পারে শাস্তি বা দন্ড কর্মচারী আচরণ বিধিমালা মোতাবেক। সরকারি কাজে অবহেলা করলে গুরু দন্ড পেতে পারে, ১ বছরের জন্য ইনক্রিমেন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার তার অনুপস্থিতির কারণে যদি রাষ্ট্রের বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয় তার শাস্তি কি হতে পারে? এসব লোকদের চাকরিকালীন সময়ে কখন কিভাবে ফাঁকি দিয়েছে রাষ্ট্রের কি কি ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখলে এবং তাদের মোবাইল কললিস্ট এবং অবস্থান ট্রাকিং করলে বের হয়ে আসতে পারে থলের বিড়াল। প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে আরোও বেরিয়ে আসে জাহিদ, সাজ্জাদ ও রেজাউল করিমের বিভিন্ন অসামাজিক আবাসিক হোটেলের সাথে আতাতের খবর। অতিসত্ত্বর এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি বসিয়ে দুদক সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে এদের কুকৃর্তি বের করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবী করেছেন হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক রাজ।

তিনি আরোও বলেছেন, দেশের সকল বিমানবন্দর সহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন দায়িত্বরত বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের কর্মরত যারা রাষ্ট্রীয় কাজে অবহেলাকারী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবী। এসব বিষয় নিয়ে এই সরকারী দায়িত্ব ফাঁকিবাজ গ্রুপের অন্যতম সদস্য শারমিন শিউলীর সাথে মোবাইল ফোনে ফাঁকিবাজির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি মাওয়া যাওয়ার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন এবং আরোও বলেন, আমি আমার কাজ আগেই শেষ করেছি (এই কথায় স্পষ্ট প্রমাণিত হয় তারা ঐ সময়ে সরকারী কাজের দায়িত্বে ছিলেন) এই কথা বলে মোবাইল কেটে দেয় এবং আর কখনো মোবাইল ধরেনা। আবার এই বিষয় নিয়ে এই চক্রের মূলহোতার একজন সাজ্জাদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি রাগান্বিত হয়ে জানান, আমি বাংলাদেশ বিমান এমপোরিয়াম ইউনিয়ন করি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। অনেক বড় বড় সাংবাদিকের সাথে আমার জানাশোনা আছে। আপনার কাছে যদি সত্যতা থাকে আপনি এখনো বসে আছেন কেন? আমাদের সকলের ছবি দিয়ে সাহস থাকলে সংবাদ প্রকাশ করেন।

বিমান বাংলাদেশ এবং এয়ারপোর্ট সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর গুলো বছরের পর বছর শুধু লোকসান ও ঘাটতি দেখিয়ে আসছে। বিজ্ঞজনদের অভিমত এই সেক্টরে নজরদারী করলে এরকম অনেক সরকারী কাজে অবহেলাকারীদের নাম আসবে বলে জানান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সোপানে কোন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবহেলা করে দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ব্যক্তিগত আরাম আয়েশকে মূল্যায়ন করে জনগণ ও রাষ্ট্রের সাথে প্রতারণা করলে তারা অবশ্যই আসবে আইনের আওতায়। এমনটাই প্রত্যাশা সবার। আগে সোনার বাংলা পরে অন্যসব। সাধু সাবধান।