ওবামা, বিল গেটস-সহ বহু প্রভাবশালীর টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাকড

 

অনলাইন ডেস্ক:

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দুনিয়ায় বড় ধরনের ধাক্কা গেল বুধবার। বারাক ওবামা, জেফ বেজস, জো বাইডেনাসহ বিশ্বখ্যাত বেশ কয়েকজনের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) এই ঘটনা ঘটেছে বলে বিবিসি, সিএনএন’সহ আন্তর্জাতিক সব গণমাধ্যমে এই খবর জানানো হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই)।

বিবিসি জানায়, এদিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে বড় বিলিওনিয়ার প্রযুক্তিবিদ, এমনকি তারকা শিল্পীও এই সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বুধবার বড় বড় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ফেলে সাইবার স্ক্যামাররা। তারা এসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ক্রিপটোকারেন্সি বিটকয়েন নেওয়ার জন্য মানুষকে প্রলুব্ধ করতে শুরু করে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, অনলাইন জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজস, বিলিওনিয়ার ওয়ারেন বাফেট, নিউইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গের অ্যাকাউন্টও হ্যাকের শিকার হয়েছে।

টুইটারও পোস্ট করে জানিয়ে দেয়, বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। টুইটার জানিয়েছে, কী ভাবে এ ঘটনা ঘটল, কারা এমন কাজ করল তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির টুইটার হ্যান্ডেল সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টুইটার জানিয়েছে, তাঁরা এখন টুইট করতে পারবেন না, পাসওয়ার্ডও বদলাতে পারবেন না। সকলের অ্যাকাউন্টই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বোঝার চেষ্টা হচ্ছে, কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল।

জো বাইডেনের হ্যাক করা অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট দেয়া হয়েছিল, ‘ নিচের লিংকে তোমরা তোমাদের সব বিটকয়েন দাও, আমি তা দ্বিগুন করে দিবো। যদি তোমরা ১ হাজার ডলার দাও, তাহলে ২ হাজার ডলার ফিরিয়ে দেয়া হবে। এবং এজন্য সময় লাগবে মাত্র ৩৯ মিনিট।

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিলগেটস তার এক টুইট বার্তায় জানান, সবাই তাকে ক্রিপ্টোকারেন্সি দেয়ার কথা বলছিল। যেখানে বলা হচ্ছিল তুমি ১ হাজার ডলার দিলে ঘণ্টাখানেক পরে ২ হাজার ডলার ফিরিয়ে দেয়া হবে। এর আগে গত বছর আগস্টের শেষদিকে টুইটারের প্রধান নির্বাহী ডর্সি’র অ্যাকাউন্টও হ্যাক হয়েছিল।

সামাজিক মাধ্যমে টুইটার এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজনীতিবিদ থেকে সেলিব্রিটি– সকলেই টুইট করে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট তৈরির সুযোগ দেয় টুইটার। অর্থাৎ, ওই অ্যাকাউন্টটি যে ভুয়ো নয়, তা পরীক্ষা করে দেখে নিয়েছে টুইটার। সেই ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এমন ঘটনা কারা ঘটাল, তা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।