Amar Praner Bangladesh

কর কর্মকর্তা মিজান এবং লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপার ভাইজার আকরামুজ্জামান সিটি কর্পোরেশন চালায় বহিরাগত টেন্ডুল দিয়ে

 

(ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উত্তরা অঞ্চল-১ এর কর কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের দূর্নীতির সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করে আকরামুজ্জামান। এসব অপরাধীরা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে বহিরাগত গুন্ডা পালে খোদ সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে। অনেক সরকারী কর্মকর্তারা বসার চেয়ার না পেলেও এসব গুন্ডা টেন্ডুলদের রয়েছে বসা এবং খাওয়ার সু-ব্যবস্থা। এদের আচরণ দেখলে মনে হয় হিন্দি ফিল্ম এর স্টাইলে নায়ক মেয়র আতিকুল ইসলামের সিটি কর্পোরেশন কব্জা করে রেখেছে ভিলেনরা।)

 

মাছুম কাজী :

 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত মেয়র আতিকুল ইসলাম দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিলেও দূর্নীতিবাজদের সাথে পেরে উঠছেন না এই রাজনৈতিক ব্যক্তি। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয় থেকেই দূর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে কিছু অসাধু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। সরিষা খেতেই ভুত থাকলে সেই ভুত সহজে তাড়ানো সম্ভব নয়। কথায় আছে ছাগলের খুঁটির জোর না থাকলে ছাগল লাফাতে পারেনা। মোঃ আকরামুজ্জামান, পদবি- লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপার ভাইজার, রাজস্ব বিভাগ, অঞ্চল-১, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০।

তার দূর্নীতির বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশন সহ একাধিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা আবেদন করলে বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ পায়। দূর্নীতির প্রধান মহাগুরু কর কর্মকর্তা রাজস্ব অঞ্চল-১ উত্তরা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মোঃ মিজানুর রহমান হলেও তার সকল অবৈধ এবং ঘুষ লেনদেনের সিংহভাগ কাজ করে মোঃ আকরামুজ্জামান।

কে এই আকরামুজ্জামান ?

সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ঘাটে চাকরি করে দূর্নীতির স্ট্রীম রোলার চালিয়ে পুরান ঢাকা সহ রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও রংপুরে গড়ে তুলেছে সম্পদের পাহাড়। লাইসেন্স প্রতি দেড় হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে থাকে আকরামুজ্জামান। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তা আকরামুজ্জামানের রয়েছে পেটুয়া বাহিনী। তাদের মধ্যে অন্যতম এমদাদুল হক, এজাবুল হক, মোঃ রতন, রনি, এর সবাই আকরামুজ্জামানের রুম নং- ৪০৪ এ বসে। সিটি কর্পোরেশনের ভাষায় এদেরকে ডাকা হয় টেন্ডুল। এরা সরকারী চাকুরি না করলেও বহাল তবিয়তে সরকারী দপ্তরে বসে সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে জনগণের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই টেন্ডুল বাহিনীকে প্রতিদিন খাওয়ানোর জন্য রাখা হয়েছে কয়েকজন কাজের বুয়া।

স্থাপন করা হয়েছে গ্যাসের চুলা। সিটি কর্পোরেশনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সংবাদের প্রতিবেদককে জানায়, খোদ সরকারী অফিসে চলছে অবৈধ গ্যাসের লাইন। ০৩/১২/২০২০ কর কর্মকর্তা অঞ্চল-১ এর স্বাক্ষরিত সিটি কর্পোরেশনের প্যাড যার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা দপ্তরের স্মারক নং ৪৬.১০.০০০০.০২২.৯৯.৫৬১.২০২০.৮৩. তাং- ১৬/১১/২০২০ ইং যার বিষয় থাকে রাজস্ব বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয়ে/ বাজার শাখায় কর্মরত কতিপয় কর্মকর্তা/ কর্মচারী অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে বহিরাগত লোকদেরকে দিয়ে দায়িত্ব পালন করার অভিযোগ প্রসঙ্গে। এই পরিপন্থি কাজের প্রমাণ পাওয়া গেলে এর দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।

এসব বিষয় নিয়ে মুঠোফোনে আকরামুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে সে প্রতিবেদককে অফিসে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলে আমি এখন নামাজে দাঁড়াচ্ছি কালকে অফিসে আসেন তখন কথা বলবো। দূর্নীতি পরায়ণ কু-চক্রী মহলের কাছে জিম্মি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। মেয়র আতিকুল ইসলাম ভালো মানুষ হলেও তার চোখে ধুলো দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র চালিয়ে যাচ্ছে দূর্নীতির ষ্ট্রীম রোলার।

মেয়র আতিকুল ইসলাম ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে দূর্নীতি মুক্ত করার লক্ষ্যে অনেক ব্যবস্থা নিলেও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি স্তরে স্তরে দূর্নীতির মাস্টার মাইন্ডরা হুতুম প্যাঁচা সেজে বসে আছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উত্তরা অঞ্চল-১ এর করকর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন কর্মকর্তা মোঃ আকরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে তাদের বিরুদ্ধে দূর্নীতির তদন্ত করে তাকে চাকুরিচ্যুত করার জন্য আবেদন করেছেন সিটি কর্পোরেশনের কর অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। করকর্মকর্তা মিজানুর রহমান বিএনপি সরকারের আমলে একজন অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

তার সাথে আরো তিনজন কর্মকর্তা অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছিল। বর্তমানে তাদের চাকুরি নেই। তাদের মধ্যে অন্যতম আতাহার আলী, হাসানুজ্জামান, অন্য একজনের নামের তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু কর কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান অনেক টাকা ব্যয় করে কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে চাকুরিতে বহাল তবিয়তে আছে। কর অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবী তার বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশন সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা অধিদপ্তর তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে দূর্নীতির বিশাল চিত্র।

কর কর্মকর্তা মিজানুর রহমান একজন ঘুষখোর ও দূর্নীতিবাজ অবৈধ কর্মকর্তা। কর ধার্যের নথিতে প্রতি তলার জন্য ২ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হবে তাকে। অন্যথায় সে নথিতে কোয়ারি অথবা ফাইল আটকিয়ে রাখে।

এই কাজে তাকে সহযোগীতা করে পিয়ন জাকির ও তার ছেলে রাকিব। মিজানুর রহমান অঞ্চল-২ মিরপুর থাকাকালীন সময় সালেহা বেগম নামে এক উপকরকর্মকর্তা অফিস না করলেও তার নিকট থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে বেতন ভাতা ঠিক মতোই দিয়ে আসছিলো মিজান। এই বিষয়ে প্রধান সম্পত্তি বিভাগে তার বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনে মামলা চলমান রয়েছে।

উক্ত ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসলে তাকে বদলি করা হয় উত্তরা।এখানেও এসে সে ইমামা খানম কর কর্মকর্তা লাইসেন্স বিভাগ বিগত ৮-১০ বছর যাবৎ অফিসে আসেনা এবং অজানা কারণে তাকে অফিসে প্রবেশ করতে দিচ্ছেনা একটি সিন্ডিকেট। অথচ তিনিও প্রতিমাসে বেতন নিচ্ছে কিভাবে? ইমামা খানমকেও এখানে বদলি করে আনা হয়।

(ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অফিস আদেশ স্বারক নং- ৪৬.১০.০০০০.০০৪.৯৯.২২৫.১৭.২২৫) এ বিষয়ে মিজানুর রহমানের কাছে তার অফিস কক্ষে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রাণের বাংলাদেশের প্রতিবেদককে জানান, আমরা দূর্নীতিবাজ, আমরা খারাপ, আমাদের বিরুদ্ধে নিউজ প্রকাশ করেন ইত্যাদি বলে সাংবাদিককে মুখ বেকিয়ে জিজ্ঞাসা করে আরোও কিছু আপনাদের জিজ্ঞাসা বা বলার আছে, না হলে চলে যান। ইমামা খানমের বিষয়টি নিয়ে এ্যাকাউন্টস বিভাগে যোগাযোগ করলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।

সম্পূর্ণ উত্তর সিটি কর্পোরেশনটি মিজানুর রহমান ও আকরামুজ্জামান এবং তার লালিত বাহিনী কুক্ষিগত করে রেখেছে। বাসা থেকে আসার সময় মিজানুর রহমান এবং আকরামুজ্জামান দামী গাড়ীতে এসে আজমপুর নেমে যায়।

রিক্সায় বাকীটা পথ অফিসে গিয়ে মানুষকে বোঝায় সে ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানেনা। মিজানুর রহমানকে নতুন হোল্ডিং নাম্বারের নথিতে ৫শত টাকা থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। সে হেড অফিসে টাকা দেওয়া লাগবে বলে বিভিন্ন কারণ দেখাইয়া অফিসের সবার নিকট থেকে চাঁদা উঠায়। সে দরজা বন্ধ করে একেকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করে।

তার এই দূর্নীতিতে মোঃ জাকির হোসেন প্রত্যক্ষ রাজস্বাক্ষী ও সহায়তা করে থাকে। প্রতিদিন তাদের অবৈধ আয় কমপক্ষে কয়েক লক্ষ টাকা। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া সহ চেয়ারম্যান দূর্নীতি দমন কমিশন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্চল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ডিএনসিস, উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন বরারব আবেদন করা হয়েছে, অঞ্চল-১ এর ঘুষখোর, দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমানের দূর্নীতি তদন্ত করে চাকুরিচ্যুত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কলঙ্ক মুক্ত হবে। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র কিছু জানেনা বলে জানা যায়।

তিনি সিটি কর্পোরেশনকে দূর্নীতি মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও এসব দূর্নীতিবাজদের কারণে তার সকল সুন্দর চেষ্টা গুলো মুখ থুবড়ে পড়ে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সোপানে কোন দূর্নীতিবাজ ঘুষখোরদের স্থান নেই। আগে সোনার বাংলা পরে অন্যসব। সাধু সাবধান।