Amar Praner Bangladesh

কলাপাড়ায় প্রেমের প্রস্তাবে সারা না দেয়ায় স্কুলে যাওয়ার পথে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে বখাটেদের মারধর

ফিরোজ তালুকদার, কলাপাড়া :

প্রেমের প্রস্তাবে সারা না দেয়ায় বখাটে রাহাত খান ও তার সহযোগী হাদী দেওয়ান, তাইজুল ইসলাম, আব্দুল মালেক ও সাইফুল ইসলাম চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি. লাথি ও লাঠিপেটা করে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতিমা আক্তার (১৫) কে। শনিবার সকাল আনুমানিক নয়টার সময় কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা-নমরহাট সড়কের পুর্বলোন্দা গ্রাম সংলগ্ন সড়কে ফাতিমার ওপর এ বর্বর হামলা চালায় বখাটেরা। এসময় ফাতিমার দুই সহপাঠী সুমনা ও জহিরুল দৌড়ে গিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। খবর শুনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ফাতিমাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়েছেন।

ফাতিমা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, প্রতিদিনের মতো ধানখালীর গিলাতলা গ্রাম থেকে আরো দুই সহপাঠীসহ ধানখালী আশরাফ একাডেমী বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল ফাতিমা। পথিমধ্যে ঘটনাস্থলে ফাতিমাকে পথরোধ করে রাহাত ও তার সহযোগিরা অশোভন কথাবার্তা বলতে থাকে। এমনকি কুপ্রস্তাব দিয়ে বখাটেপনা শুরু করে। এতে প্রতিবাদ করলে ফাতিমার ওপর হামলা চালায় রাহাত ও তার সহযোগিরা। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। এক পর্যায়ে রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে যায়। এরপর সটকে পড়ে রাহাত ও তার সহযোগিরা।

জানা গেছে, রাহাত এলাকার চিহ্নিত বখাটে। তার কয়েক সহযোগীসহ সে প্রায়ই স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের উত্যক্ত করে আসছে। রাহাতের বাবার নাম জসিম খান। বাড়ি পশ্চিম লোন্দা গ্রামে। স্থানীয়রা জানায় বখাটে রাহাত (২২) এর আগে ৫টি বিয়ে করেছে। এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আর আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুখ রঞ্জন তালুকদার জানান, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ধানখালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ গাজী জানান, ভিকটিমকে কলাপাড়ায় নিয়ে আসতে বলেছি, সরাসরি মামলা করা হবে।

কলাপাড়া থানার ওসি জিএম শাহনেওয়াজ জানান, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।