Amar Praner Bangladesh

কাউন্সিলর কিরণের পৃষ্ঠপোষকতায় তার ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলামের প্রতারণা ব্যবসার গোমর ফাঁস

 

 

বশির আলম মাল :

 

লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে ছিনতাই করার বিভিন্ন কৌশলে প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এ রকম একটি চক্র গাজীপুর টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। ছাগল লাফায় খুঁটির জোরে, সংঘবদ্ধ অপরাধের সাথে একটি অপরাধ চক্র কাজ করে আর তাদেরকে শেল্টার দেয় কোন তথাকথিত নেতা কিংবা তাদের আত্মীয় স্বজন হয় এমন কোন হোতা।

তেমনি ঘটনা ঘটেছে গাজীপুর টঙ্গী পূর্ব থানাধীনস্থ পাগাড় সোসাইটি মাঠের পশ্চিমপাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের তিন তলায়। ভবনের কেয়ারটেকারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভবনটি স্থানীয় কাউন্সিলর কিরণ সাহেবের ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলামের। তিনি তিন তলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে অনৈতিক কাজের মাধ্যমে প্রতারক চক্রদের মদদ দিয়ে চালিয়ে আসছে এই ব্যবসা বলে অভিযোগ উঠেছে রফিকুল ইসলামের নামে। কেউ এ ব্যাপারে নাক গলালে রফিকুল ইসলামের স্পষ্ট বক্তব্য আমি কাউন্সিলর কিরণের ছোটবোনের জামাই, আমি কি করি, না করি সবকিছুই কাউন্সিলর সাহেবের সাথে পরামর্শ করে করি।

কাকে ভাড়া দিব আর কাকে না দিব বিষয়টি আমার একান্ত ব্যাপার। রবিউল আলম রাজু পুরাতন ফার্ণিচার ক্রয় বিক্রয়ের ব্যবসায়ী। অনেক জায়গায় তার ভিজিটিং কার্ড ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কারণে অনেকেই তার সাথে ফার্ণিচার ক্রয় বিক্রয় করে।

তারই সুবাদে গত বেশ কিছুদিন যাবৎ শাহানাজ নামে একজন মহিলা রাজুর মোবাইলে ফোন করে জানায় তার বাসায় কিছু পুরাতন ফার্ণিচার আছে, যা তিনি বিক্রি করতে চান। এসব কথা বলে অনেক ফার্ণিচারের বর্ণনা দিয়ে শাহানাজ রাজুকে তার ফার্ণিচার ক্রয়ের জন্য তার পাগাড় সোসাইটি মাঠ ফ্ল্যাটে আমন্ত্রণ জানালে গত ১১/০৯/২০২০ ইং আনুমানিক দুপুর ২.৩০ মিনিটের সময় রাজু তার বাসায় গেলে রাজুকে বাসার একটি রুমের মধ্যে আটকে রেখে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে তার নিকট থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং একটি স্বর্ণের আংটি নিয়ে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয়।

সেখান থেকে রাজু কোন ভাবে জানে বেঁচে টঙ্গী পূর্ব থানার টহল পুলিশের সহযোগীতায় উক্ত শাহানাজের বাসায় গিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। বাকী মহিলা এবং পুরুষ অপরাধীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাৎক্ষণিক সময়ে আশেপাশের লোকজন এবং বাড়ীর অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে জানা যায়, বাড়ীর মালিক রফিকুল ইসলাম নিজেই এই প্রতারণার সাথে জড়িত এবং তিনি সবাইকে কাউন্সিলর কিরণের ভয় দেখিয়ে চলে বলে জানা যায়। এ বিষয় নিয়ে গাজীপুর টঙ্গী পূর্ব থানায় বলপূর্বক টাকা ও স্বর্ণ আদায়ের অপরাধে ধারা-৩৪২ ও ৩৮৬ মতে একটি মামলা হয়, মামলা নং- ১৫, তাং- ১১-০৯-২০২০ ইং।

মামলার আসামী যথাক্রমে ১। রফিকুল ইসলাম (বাড়ীর মালিক), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- পাগাড়, সোসাইটি মাঠ, ২। তানিয়া, স্বামী- রাহুল, ৩। রাহুল, পিতা- অজ্ঞাত, ৪। বাবলু, পিতা- অজ্ঞাত, পাগাড় সোসাইটি মাঠ (রফিকুল ইসলামের বাড়ী) সর্ব থানা- টঙ্গীপূর্ব, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর, ৫। শাহানাজ, পিতা- তারামিয়া, সাং- কাইয়ুমপুর, থানা- কসবা, জেলা- বিবাড়ীয়া, ৬। রুনা আক্তার, পিতা- মঙ্গল, সাং- শাহাপুর, থানা- কসবা, জেলা- বি-বাড়ীয়া সহ অজ্ঞাত আরো ৪-৫ জনদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

ইতিপূর্বে উপ পুলিশ কমিশনার অপরাধ (দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ গাজীপুর মেট্রো পলিটন পুলিশ, গাজীপুর এবং অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন গাজীপুর মেট্রো পলিটন পুলিশ এর বিচক্ষণ ভূমিকায় অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম এর বলিষ্ঠ পদক্ষেপে একই কায়দায় প্রতারণা করার অপরাধে টঙ্গীতে নারীর লোভ দেখিয়ে প্রতারণা নারী সহ গ্রেফতার করা হয় ৫ জনকে। যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল শেখ ফরিদ, নাদিম মাহমুদ রাব্বি, শাহানাজ, সোনিয়া আক্তার, জসিম উদ্দিন। এই প্রতারক চক্রটি বেশ কিছুদিন ধরে নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের লোভ দেখিয়ে নানা মানুষদের বাসায় ডেকে আনতো।

পরে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ব্ল্যাক মেইল করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিতো, প্রয়োজনে আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমেও টাকা পয়সা নেয় এসব অপরাধীরা। এছাড়া পুরুষদের জিম্মি করে নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে আসছিল এই চক্রটি। এই বিষয় নিয়ে গাজীপুর ৪৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুর রহমান কিরণের সাথে মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

কিন্তু এই বিষয় নিয়ে রফিকুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমি উত্তরা কাউন্সিলর কিরণের বাসায় আছি, রফিকুল ইসলামের স্পষ্ট বক্তব্য আমি কাউন্সিলর কিরণের ছোটবোনের জামাই, আমি কি করি, না করি সবকিছুই কাউন্সিলর সাহেবের সাথে পরামর্শ করে করি। কাকে ভাড়া দিব আর কাকে না দিব বিষয়টি আমার একান্ত ব্যাপার। আগামীকাল আপনাদের সাথে কথা বলবো, এখন ব্যস্ত আছি।

এ বিষয় নিয়ে উপ পুলিশ কমিশনার অপরাধ (দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ গাজীপুর মেট্রো পলিটন পুলিশ দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ’র প্রতিবেদককে জানান, এই সংঘবদ্ধ চক্রটি বেশ কিছুদিন যাবৎ গাজীপুর টঙ্গী এলাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আমরা ইতিমধ্যে এই চক্রকে সমূলে মূল উৎপাঠন করার জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। অনেকেই আইনের আওতায় চলে এসেছে অচিরেই বাকী অপরাধীরাও আইনের আওতায় আসবে। এদের পিছনে যত বড় শক্তিশালী সিন্ডিকেট থাক না কেন আমরা গ্রেফতার করতে কাউকেই ছাড় দেব না।