Amar Praner Bangladesh

কালকিনি হানাদার মুক্ত দিবস আজ

আবির হাসান পারভেজঃ
আজ ৮ ডিসেম্বর। মাদারীপুরের কালকিনি হানাদার মুক্ত দিবস । ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে কালকিনি ছারা হতে বাধ্য হয় পাক হানাদার বাহিনী। পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে কালকিনি মুক্ত হয়।

১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর রাতে কালকিনি উপজেলার ৫ জন কমান্ডারের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা কালকিনি উপজেলার সিডিখান, এনায়েতনগর, সমিতিরহাট ছাড়াও বরিশালের গৌরনদী ও মুলাদী উপজেলা ও কালকিনির সীমান্তবর্তী ৩টি স্থানে মুখোমুখি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পাকবাহিনীকে পরাস্ত করেন।
স্থানীয় ও মুক্তিযোদ্ধা সূত্রে জানা গেছে মুক্তিযুদ্ধে কালকিনি ছিল ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে।১৯৭১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পাকহানাদার বাহিনী রাজাকারদের সহযোগিতায় উপজেলার ফাসিয়াতলা বাজারে গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় ১৫০ জন মুক্তিকামী মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এছারা ভূরঘটায় একটি ব্রিজের কাছে মানুষ ধরে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিতো পাকবাহিনী। ব্রিজের নিচের পানি মানুষের লাল রক্তে রঞ্জিত হওয়ায় পরে এই ব্রিজের নাম হয় লালপোল বা লালব্রিজ যা এখনও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত।
২৪ সেপ্টেম্বর গোপালপুর ব্রীজে মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেরার পথে পাক আর্মির বুলেটে শাহাদৎ বরণ করেন শহীদ বীর বিক্রম নুরুল ইসলাম। চলতে থাকে খন্ড যুদ্ধ। সর্বশেষ ৮ ডিসেম্বর কমান্ডার আ: রহমানের নেতৃত্বে শতাধিক মুক্তি যোদ্ধা লালপুর সংলগ্ন ও থানার অব্যন্তরে পাক হানাদারদের ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে কালকিনিকে হানাদার মুক্ত করে। এদিন হাজার হাজার নারী-পুরুষ বিজয়ের আনন্দে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। কালকিনি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে কালকিনিমুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা মাদারীপুর মুক্ত করার জন্য রওনা হন।

স্থানীয় ও মুক্তিযোদ্ধার বলেন, বর্তমান সরকার মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করায় দেশ আজ কলঙ্কমুক্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে কালকিনি ও আশপাশের রাজাকার-আলবদরদের বিচার কাজ শুরু করে বিজয়ের মাসেই কালকিনির পাপমোচন করার দাবি যানাচ্ছি।